Wednesday, December 21, 2016

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় বার্লিন হত্যাযজ্ঞ

পুরো এলাকায় ছিল ক্রিসমাসের আবহ। চারদিকে গান বাজছে, ক্রিসমাস উপলক্ষে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। উৎসবমুখর একটা পরিবেশ। আর তারপরই চোখের সামনে এই ভয়ঙ্কর ঘটনা!”
এভাবেই সেই ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন বার্লিনে প্রথমবারের মতো বেড়াতে যাওয়া ব্রিটিশ পর্যটক এমা রাশটন। জার্মানির বার্লিনের কেন্দ্রে এক ক্রিসমাস মার্কেটে লরি ঢুকে পড়ার পর অন্তত ১২ জন নিহত এবং অন্তত ৪৮ জন আহত হয়েছে। এমা বলছেন, তিনি ‘নেহাত ভাগ্যের’ জোরে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন। আমার থেকে মাত্র আট বা দশ ফুট দূরে লরিটি উঠে পড়ছিল, আর কয়েক পা সামনে থাকলেই ওটার নিচে পড়তে হতো। বিকট শব্দ করে যখন লরিটি সামনে থাকা কুড়ে ঘরটির ওপর আছড়ে পড়ে আমরা কেবল দেখলাম ঝোলানো বাতিগুলো ছিঁড়ে পড়ল আর কুড়ে ঘরটির পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ল। হোটেলে ফেরার পথে দেখলাম রাস্তাজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ। দেখলাম মানুষজন হাত দিয়ে মাথা ধরে আছে। কেউ কেউ উঠে দাঁড়িয়েছে। চারদিকে কাচ আর কাঠের টুকরা ছড়ানো-ছিটানো ছিল।” বার্লিনার মর্গেনপোস্ট নামে (বার্লিন মর্নিং পোস্ট) সংবাদপত্রে কাজ করেন ইয়ান হোলিয়ের। দুর্ঘটনার পর রাস্তায় মাটিতে মানুষকে পড়ে থাকতে দেখেছেন।
তাদের কয়েকজন ছিল ট্রাকের নিচে। ভেঙেচুরে গুঁড়িয়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপের বর্ণনা দিতে গিড়ে বলছিলেন, ভেঙে পড়া দোকান, চারদিকে ভাঙা কাচের আর থালাবাসনের ভাঙা টুকরা আর মেঝেতে পড়ে থাকা তরল পানীয়। তিনি বলছেন, এই ঘটনা তাকে কয়েক মাস আগে ফ্রান্সের নিস শহরে লরি নিয়ে হামলার কথা মনে করিয়ে দেয়। ওই মার্কেটে আসা আরেকজন ব্রিটিশ নাগরিক মাইক ফক্স বলছিলেন, কীভাবে তিনি ভেঙে পড়া একটি দোকানের ভেতর আটকে পড়া মানুষদের বের হতে সাহায্য করেছিলেন। আমরা যখন ওই মার্কেট থেকে বেরুচ্ছিলাম, তক্ষুনি বড় ট্রাকটি এসে পড়ল। আমাকে আর আমার গার্লফ্রেন্ডকে পাশ কাটিয়ে ঢুকে পড়ল। আমার তো মনে হয়, মাত্র তিন মিটার দূরে ছিলাম আমি। কয়েক মুহূর্ত পরে মাইক চারপাশে তাকিয়ে দেখলেন, দোকানটির ভেতরে দুইজন শুয়ে আছে, সম্ভবত হাত বা পা ভেঙে গেছে তাদের। বার্লিনের বাসিন্দা ইব্রাহিম কোলাক বিশ্বাস করেন লরি তুলে দেবার ঘটনা নেহাত কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি ইচ্ছাকৃত। বিবিসি।

No comments:

Post a Comment