কুড়িগ্রামের
রৌমারীতে জোর করে বাল্যবিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য করায় গলায় ফাঁস দিয়ে
আত্মহত্যা করেছে রিমা আক্তার নামে ৭ম শ্রেণীর এক মেধাবী ছাত্রী। বিয়েতে
কিছুতেই রাজি হচ্ছিল না রিমা। এ অবস্থায় রিমার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়
তার বাবা। এতে অভিমান করে রিমা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সোমবার সকাল
৭টার দিকে উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা উত্তর আলগারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রৌমারী
উপজেলার বকবান্ধা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীতে লেখাপড়া করত রিমা
আক্তার। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহমান জানান, রিমা মেধাবী শিক্ষার্থী
ছিল। বাবা-মা জোর করে তাকে বিয়ে দিতে চাচ্ছিল।
এ জন্য তার ওপর নির্যাতন করা
হয়। এ কারণে সে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু বিষয়টি আমি পরে জানতে পেরেছি। আগে
জানলে তার পরিবারের সঙ্গে আমরা কথা বলতাম। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে
জানা গেছে, বাবা কুরবান আলী তার মেয়ে রিমার বিয়ের জন্য বর ঠিক করেছে। বর
পক্ষের সঙ্গে কথাবার্তাও চূড়ান্ত করা হয়। আজ মঙ্গলবার তার বিয়ের তারিখ
নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিয়েতে রাজি ছিল না রিমা। রিমার কথা সে আরও লেখাপড়া
করবে। লেখাপড়া শেষ না করে কিছুতেই বিয়ে করবে না। বিষয়টি তার বাবা-মা ও ভাই
এবং দুলা ভাইকে আগেই জানিয়েছিল। কিন্তু তার বাবা কুরবান আলী জোর করেই বিয়ের
জন্য চাপ দেয়। এ নিয়ে আগের রাতে ভীষণ মারধর করে রিমা আক্তারকে। কোনো উপায়
না পেয়ে এবং বাবা-মা’র সঙ্গে অভিমান করে সকালেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়
রিমা। উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা উত্তর আলগার চর গ্রামে রিমাদের বাড়ি। বাবা
কুরবান আলী ক্ষুদ্র কৃষক। মা মনোয়ারা বেগম গৃহিণী।
সংসারে চার বোন ও তিন
ভাই। ভাইবোনদের সবারই বিয়ে হয়েছে। বাকি ছিল শুধু রিমা আক্তার। এ প্রসঙ্গে
কুরবার আলী বলেন, ‘মেয়ে যে এমন কাণ্ড করবে তা আগে জানা ছিল না। এখন বুঝতে
পারছি আমার বিয়ের সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল। মেয়ে আমার সেটাই প্রমাণ করে চলে
গেল।’ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঘটনাস্থল থেকে এসআই আবদুল লতিফ যুগান্তরকে বলেন,
‘লাশের সুরুতহাল রিপোর্ট করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে আনার কার্যক্রম চলছে।’
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবিএম সাজেদুল ইসলাম জানান, লাশের
ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রামে প্রেরণ করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার
পর বলা যাবে আত্মহত্যা না হত্যা।

No comments:
Post a Comment