অনুমোদন
ছাড়াই ৩০ তলা ভিত্তির ওপর তৈরি হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব ভবন। মূল অনুমোদিত
উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে ২০ তলার ভিত্তিসহ ১২ তলা ভবন নির্মাণের সংস্থান
থাকলেও প্রকল্প সংশোধনের আগেই ৩০ তলা ভিত্তিসহ ১২ তলা ভবনের নির্মাণকাজ
বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিষয়টিকে পরিকল্পনা শৃংখলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়
বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন। এ ছাড়া মূল ব্যয় থেকে আড়াই গুণ ব্যয়ও বাড়ানো
হচ্ছে এ প্রকল্পে। অনুমোদিত ব্যয় ১৪১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা থেকে ৩৫৩ কোটি ৮২
লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এ সংক্রান্ত
একটি সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। বৃহস্পতিবার জাতীয়
অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন
করা হচ্ছে এ প্রস্তাব।
একনেকের জন্য তৈরি করা প্রকল্পের সারসংক্ষেপ থেকে
এসব তথ্য জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে
সারসংক্ষেপে আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য মো. জিয়াউল
ইসলাম বলেছেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের আগে বিবেচ্য প্রকল্পে কাজের
পরিধি ব্যাপক পরিবর্তন এবং এর বাস্তবায়ন প্রচলিত পরিকল্পনা শৃংখলার সঙ্গে
সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যাতে এরূপ
ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তা উদ্যোগী বিভাগ ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে
নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় (শেরেবাংলা নগর) ১৫০ ফুটের
অধিক উচ্চতাবিশিষ্ট ভবন বা টাওয়ার নির্মাণের ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান চলাচল
কর্তৃপক্ষের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সংশোধিত ডিপিপিতে (উন্নয়ন
প্রকল্প প্রস্তাব) ৩০ তলার ভিত্তিসহ ১২ তলা পর্যন্ত (উচ্চতা প্রায় ১৫০ ফুট)
ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জবাবে বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে
সংশোধিত ডিপিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে- অদূর ভবিষ্যতে শেরেবাংলা নগরের
প্রশাসনিক এলাকায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উঠে
যাবে বিবেচনায় এটি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। রাজস্ব ভবনের বাস্তবায়ন
অগ্রগতি সম্পর্কে জানা গেছে, প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত জমির ক্ষেত্রে
মামলাজনিত জটিলতায় প্রকল্পের প্রকৃত বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করতেই দেরি
হয়। সাড়ে ৭ বছরে প্রকল্পের আওতায় গত জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৮১ কোটি ৫০ লাখ
টাকা। অনুমোদিত ব্যয় অনুযায়ী আর্থিক অগ্রগতি ৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ। এ ছাড়া
বাস্তব অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, জাতীয়
রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সরকারের রাজস্ব আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিশীলতায় এ প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব অপরিসীম। রাজস্ব
আদায়ের সিংহভাগই এনবিআরের মাধ্যমে আহরণ করা হয়ে থাকে। আয়কর ও শুল্ক
আদায়কারী সংস্থা হিসেবে এনবিআর দায়িত্ব পালন করে থাকে।
কিন্তু নিজস্ব ভবন
না থাকায় অপর্যাপ্ত ভবনে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে রাজস্ব আদায়ের দাফতরিক
কার্যক্রম বিঘিœত হয়। এ প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ১৪১ কোটি ৩৬
লাখ টাকা ব্যয়ে ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে
বাস্তবায়নের জন্য ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক মূল প্রকল্পটি
গ্রহণ করা হয়। ২০০৮ সালের ২৪ নভেম্বর একনেক বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়
প্রকল্পটি। বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে
বাস্তবায়ন কাল ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। পরবর্তী সময়ে
দ্বিতীয় দফায় ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় বাড়ানো হয়। এর মধ্যে
বাস্তবায়ন শেষ না হওয়ায় বর্তমানে ২৫০ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি করে মেয়াদ আরও দেড়
বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যয়
বৃদ্ধির কারণ হিসেবে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রকল্পের মূল অনুমোদিত
কার্যপরিধির ব্যাপক বৃদ্ধি, এসকেলেটরের সংস্থান নতুনভাবে অন্তর্ভুক্তি,
অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাহ্যিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যয়
বৃদ্ধি পাওয়া এবং নতুনভাবে পরামর্শক সেবা অঙ্গের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা
হয়েছে। এতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

No comments:
Post a Comment