জর্ডানি
বংশোদ্ভূত আধ্যাত্মিক নেতা আবু কাতাদাসহ আল কায়েদার তিন প্রভাবশালী শীর্ষ
নেতার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করেছে সামাজিক মাধ্যম টুইটার। খবর দ্য
গার্ডিয়ানের। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির জিহাদি মতবাদ বিষয়ক পণ্ডিত কোল
বুনজেল এক টুইটে জানান, বহু বছর সহ্য করার পর শেষ পর্যন্ত টুইটার
আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা আবু মুহাম্মদ আল মাকদিসি, আবু কাতাদা এবং হানি
মোহাম্মদ ইউসুফ আল সিবাইয়ের অ্যাকাউন্ট স্থগিত করেছে। বুনজেল জানান, এই তিন
অ্যাকাউন্টকে লাখ লাখ মানুষ অনুসরণ করতো এবং এগুলোতে প্রতিদিন বেশ কয়েবার
করে পোস্ট করা হতো, ফলে তিন নেতার অ্যাকাউন্ট অনলাইনে আল-কায়েদার তীর্থে
পরিণত হয়েছিল। এই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে বেশিরভাগ পোস্ট দেয়া হতো সিরিয়া
যুদ্ধ সম্পর্কে, যাতে ক্রমাগত ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) আক্রমণ করা হতো। তবে
ধর্মীয় বিধানসহ বিভিন্ন ইস্যুতেও এসব অ্যাকাউন্ট থেকে মন্তব্য করা হতো। এই
অ্যাকাউন্টগুলোর বার্তায় পশ্চিমা বিশ্বকে আক্রমণের বিষয়টি প্রাধান্য পায়নি
উল্লেখ করে বুনজেল গার্ডিয়ানকে বলেন, আবু কাতাদা এবং মাকদিসির মন্তব্যের
প্রায় সবই সিরিয়া যুদ্ধের ব্যাপারেই সীমিত ছিল। টুইটার কর্তৃপক্ষ আইএস
সমর্থকদের অ্যাকাউন্টের উপর কড়া অভিযান শুরু করলে তাদের শীর্ষ স্থানীয়রা
টেলিগ্রামসহ অন্য বার্তা বিনিময় সার্ভিসগুলোতে সরে পড়ে। তবে আল কায়েদা
সমর্থকদের উপর তেমন কড়াকড়ি শুরু করেনি টুইটার। বুনজেল বলেন, 'আইএস
সমর্থকদের অ্যাকাউন্ট যেভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সেই বিবেচনায় টুইটারকে আল
কায়েদা সমর্থকদের অবাধ ফোরাম মনে হয়।
তিনি বলেন, এটি পরিষ্কার নয় যে
আল-কায়েদার তিন নেতার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে কোন ব্যাপার প্রভাবিত করেছে বা
এই পদক্ষেপ আল-কায়েদা সমর্থকদের অন্য সামাজিক মাধ্যমগুলো ব্যবহারের দিকে
ঠেলে দেবে কি না। যতদূর দেখা যাচ্ছে টুইটার শীর্ষ নেতাদের অ্যাকাউন্টগুলো
টার্গেট করলেও, তাদের সমর্থকদের করছে না। বুনজেল বলেন, ওই তিন বড় নেতার
অ্যাকাউন্টে রিটুইট এবং আলাপ করার সঙ্গে জড়িত অ্যাকাউন্টগুলো এখনও সচল আছে
এবং তাদের যোগাযোগ এখনও অব্যাহত আছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্তণালয়ের
সঙ্গে দশ বছর ধরে চলা একের পর এক আইনী লড়াই শেষে কাতাদাকে জর্ডানে ফেরত
পাঠানো হয়েছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে সব অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়ার পর গত
গ্রীষ্মে তিনি কারামুক্ত হয়েছেন। মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তিনি ক্রমাগত
আইএসবিরোধী কণ্ঠস্বরে পরিণত হচ্ছেন। মাকদিসি জীবিত জিহাদী তাত্ত্বিকদের
মধ্যে সবচেয়ে প্রভাশালী। তিনি আল-কায়েদা নেতা আইমান আল-জাওয়াহিরির ঘনিষ্ঠ
বন্ধু বলে মনে করা হয়। টুইটার কর্তৃপক্ষ বলেছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা
এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে কোনো ব্যক্তি বিশেষের অ্যাকাউন্ট বন্ধের বিষয়ে
তারা মন্তব্য করে না। তবে এর একজন মুখপাত্র বলেন, 'টুইটার ব্যবহার করে
জঙ্গিবাদের প্রচারকে আমরা নিন্দা জানাই। টুইটার এটি পরিষ্কার করে বলতে চায়
যে, এ ধরনের আচরণ অথবা যেকোনো সহিংস হুমকি দেয়ার বিষয়টি আমাদের সার্ভিসে
অনুমোদিত নয়। হুমকি প্রদান এবং সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের প্রচারের কারণে
২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এখন পর্যন্ত তিন লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি
অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান ওই মুখপাত্র। এর বেশির ভাগই আইএসের
সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানান তিনি।

No comments:
Post a Comment