দেশে
দেশে সরকার পতনে যুক্তরাষ্ট্র
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিভিন্ন দেশে নিজেদের পছন্দমতো
সরকার গঠনে সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালায় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির বিভিন্ন
প্রতিবেদনে এ ভূমিকার কথা বারবার উঠে এসেছে। তবে বহির্বিশ্বে সরকার পতনের এ
মার্কিন নীতিতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার রাতে তিনি এক সমাবেশে বলেন, ‘বিদেশে সরকার পতনের চেষ্টা আমরা
বন্ধ করব।’ বুধবার গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। নর্থ
ক্যারোলিনার ফায়েত্তেভিলে ট্রাম্প বলেন, বহির্বিশ্বে সরকার পরিবর্তনের
চেষ্টা থেকে আমরা সরে আসব। যে সম্পর্কে আমরা জানি না, তাতে আমাদের জড়িত না
হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘আগ্রাসন ও অরাজকতার নীতি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’
এর
পরিবর্তে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) নির্মূলের ওপর জোর দিতে চান
ট্রাম্প। ৮ নভেম্বর বিস্ময়করভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত
হওয়ার পর রাজ্যগুলোয় ‘ধন্যবাদ সফর’ শুরু করেছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি
নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্রাগ সামরিক ঘাঁটির পাশে এক সমাবেশে ভাষণ দেন। এ
সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল জেমস ম্যাটিসকে জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে
দেন। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী সামরিক নীতি বন্ধ করারও ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সামরিক বাহিনীকে এখন আগ্রাসনের বদলে প্রতিরোধের কাজ
করতে হবে।’ বর্তমানে পৃথিবীর অন্তত ৯০টি দেশে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
ট্রাম্প এসব সেনা দেশে ফিরিয়ে আনতে চান। সামরিক বাহিনীর আকারও কমিয়ে ফেলতে
চান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের যুদ্ধে বিনিয়োগের কোনো প্রয়োজন নেই। এর চেয়ে
আমেরিকার পুরনো হয়ে যাওয়া সড়ক, ব্রিজ ও বিমানবন্দরের উন্নয়ন ঘটাতে হবে।’
সেনাবাহিনীর আকার কমাতে চাইলেও প্রতিরক্ষা বাজেট ঠিক রাখতে চান নতুন
প্রেসিডেন্ট। তার মতে, শক্তিশালী থেকেও শান্তিপূর্ণ হতে হবে। ট্রাম্প
জানান, তিনি জাতি গঠনের কাজ করবেন। এর আগে নির্বাচনী প্রচারণার সময়েও
যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতি বদলানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় জর্জ
ডব্লিউ বুশের ইরাক যুদ্ধের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন তিনি।
ঊনবিংশ শতাব্দীর
মাঝামাঝি সময় থেকে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক দেশে সরকার পরিবর্তনে ভূমিকা
রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত
মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমাজতন্ত্রের উত্থানের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্র একে
রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন সময়ে বেফাঁস ও আক্রমণাত্মক কথা
বলে বিতর্কিত হয়ে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রেসিডেন্ট হওয়ায়
বিশ্বশান্তি হুমকির মুখে পড়বে বলেও আশংকা বিশ্লেষকদের। এ অবস্থায় ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি কতটা পরিবর্তন করতে পারবেন, তা নিয়ে
সংশয় রয়েছে। যেখানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ‘ম্যাড ডগ’
জেমস ম্যাটিসকে। ম্যাটিস ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন মেরিন সেনাদের উদ্দেশে
বলেছিলেন, ‘ভদ্র থাকুন। পেশাদার থাকুন। তবে যার সঙ্গেই আপনাদের মুখোমুখি
হতে হোক না কেন, তাকে হত্যা করার জন্য পরিকল্পনা মাথায় রাখবেন।’ এরপর থেকে
তাকে ‘ম্যাড ডগ’ (পাগলা কুকুর) বলা হয়। যুদ্ধপ্রীতির জন্য তিনি ‘যুদ্ধবাজ
সন্ন্যাসী’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছিলেন।

No comments:
Post a Comment