Saturday, December 24, 2016

বিপজ্জনক ফুটপাত

রাজধানীতে ফুটপাতের অবৈধ বিলবোর্ড, বিলবোর্ডের খুঁটি উচ্ছেদ করা হলেও এর ধারালো অংশবিশেষ এখনও রয়ে গেছে এলাকাজুড়ে। যেখানে হরহামেশাই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। অন্যদিকে ফুটপাত দিয়ে মোটরসাইকেল চালানো রোধে আড়াআড়ি লোহার বেড়া দেয়ায় স্বাস্থ্যবান মানুষ এবং নারীরা এসব লোহার বেড়া পার হতে গিয়ে মহাবিপাকে পড়ছেন। প্রতিবন্ধীরা হাঁটতে পারছেন না, চালাতে পারছেন না হুইল চেয়ারও। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল যুগান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন।
শত শত বিলবোর্ডের খুঁটির ধারালো অংশবিশেষ ফুটপাতজুড়ে রয়েছে, যা খুবই বিপজ্জনক।’ তিনি বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের বহুবার বলেছি- এসব খুঁটির ধারালো অংশবিশেষ উপড়ে ফেলতে, কিংবা ফুটপাতের ১-২ ইঞ্চি নিচ থেকে কেটে দিতে। কাজটি এখনও করা হচ্ছে না। অপরদিকে ফুটপাত দিয়ে কেউ যেন মোটরসাইকেল চালাতে না পারে সে জন্য ফুটপাতে আড়াআড়ি করে লোহার খুঁটি বসানো হয়েছে। ফলে ফুটপাত দিয়ে প্রতিবন্ধীসহ সাধারণ পথচারীরা চলাচল করতে মহাবিপাকে পড়ছেন। এটা আমরাও বুঝতে পারছি। তবে অচিরেই এসব খুঁটি সরানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাত তথা অভিযান চালানো এলাকার ফুটপাতগুলোতেও বিলবোর্ড উচ্ছেদের খুঁটির অংশবিশেষ রয়ে গেছে। লোহার ধারালো অংশবিশেষ পথচারীদের বিপদ ডেকে আনছে। দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন নারী-শিশুরা। শাহবাগ থেকে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের ফুটপাতজুড়ে অন্তত অর্ধশত লোহার খুঁটি রয়েছে। কোনোটি ২-৩ ইঞ্চি উঁচু আবার কোনোটি এক থেকে দেড় ফুট উঁচু। রাতের আঁধারে এসব খুঁটির মধ্যে মলত্যাগ করতেও দেখা গেছে। অধিকাংশ খুঁটি গোলাকার হওয়ায় ভেতরে মলমূত্র জমে আছে। বাংলামোটর থেকে সোনারগাঁও সার্ক ফোয়ারা সড়কের পশ্চিম পাশের ফুটপাতজুড়ে অনেকগুলো লোহার খুঁটি রয়েছে। একেকটির উচ্চতা প্রায় দেড় থেকে দুই ফুট। বেশ কয়েকজন পথচারী জানান, এসব খুঁটি পথচারীদের মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। রাতে কিংবা দিনে এসব খুঁটিতে ধাক্কা লেগে প্রায়ই পথচারীরা গুরুতর আহত হচ্ছেন। সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে, খুঁটির সঙ্গে লেগে পথচারীদের অনেকেই ছিটকে পড়ছেন রাস্তায়। এতে যানবাহনের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুর ভয়ও রয়েছে। বাংলামোটর থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশেও এসব খুঁটির অসংখ্য অংশবিশেষ রয়েছে। কাকরাইল সড়কের দু’পাশেও আছে এ রকম খুঁটির ধারালো অংশ। মতিঝিল থেকে আরামবাগ, কমলাপুর সড়ক ও শাহজাহানপুর সড়কের দু’পাশেও এ রকম খুঁটির অংশবিশেষ রয়েছে। ফুটপাত দিয়ে চলাচল করেন এ রকম প্রায় ১২-১৫ জন বলেন, রাজধানীর ফুটপাতগুলো এমনিতেই হকারদের দখলে থাকে, তার ওপর এসব ভয়ংকর খুঁটি। ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে ফুটপাতজুড়ে বসানো হয়েছে লোহার খুঁটি। তেজগাঁও মনিপুরিপাড়া লায়ন শপিং কমপ্লেক্স এলাকার ফুটপাতজুড়ে সারি সারি লোহার বেড়া বসানো রয়েছে। কাকরাইল মোড় হয়ে ডিএমপি সড়ক পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের ফুটপাতজুড়ে রয়েছে আড়াআড়ি লোহার বেড়া। এসব সারি সারি করে দেয়া হয়েছে যাতে ফুটপাত দিয়ে মোটরসাইকেল চালানো না যায়। স্থানীয় কয়েকজন সুমন,
জাহিদ, আকলিমা জানান, পৃথিবীর কোনো দেশেই এমন আজব দৃশ্য পাওয়া যাবে না, যেখানে ফুটপাতজুড়ে আড়াআড়ি করে লোহার বেড়া দেয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই প্রতিবন্ধী মানুষ এবং তাদের ব্যবহৃত হুইল চেয়ার এসব খুঁটি ভেদ করতে পারে না। ফলে বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’জন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য জানান, মোটরসাইকেল চালকদের জন্যই এটা করা হয়েছে। রাজধানীর সদরঘাট, ফুলবাড়িয়া, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, মতিঝিল, দৈনিক বাংলা, পল্টন, জিপিও, বায়তুল মোকাররম, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, কাকরাইল, মিরপুর, গাবতলী, এলিফ্যান্ট, ফার্মগেট, মগবাজার, রামপুরা, বাড্ডা, সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কগুলোর ফুটপাতজুড়ে বিলবোর্ডের খুঁটির অংশবিশেষ এবং আড়াআড়ি লোহার বেড়া দেয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ এখনও চলছে। বিলবোর্ডগুলোর খুঁটি ঢালাই করে বসানো থাকে, ফলে ফুটপাত খুঁড়ে খুঁটিগুলো কাটা সম্ভব হয়নি। তাতে খুঁটির অংশবিশেষ থেকে যায়। এসব খুঁটি নিশ্চয় পথচারীদের জন্য বিপজ্জনক। তিনি বলেন, তার এলাকায় থাকা এসব খুঁটি উপড়ানো হচ্ছে। ফুটপাতে আড়াআড়ি করে যেসব লোহার বেড়া বসানো হচ্ছে সেসব বসাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ীরা। পর্যায়ক্রমে এসব খুঁটি উপড়ানো হবে। ফুটপাত বেশি উঁচু করলেও জ্বালা, আবার নিচু করলেও জ্বালা। তিনি বলেন, এখন যেসব ফুটপাতগুলোর সংস্কার করা হচ্ছে সব কটি ৮ ইঞ্চি উঁচু হবে, যাতে মোটরসাইকেল না উঠতে পারে। তখন লোহার খুঁটি এবং বিলবোর্ড খুঁটির অংশবিশেষ ঢাকা পড়ে যাবে।

No comments:

Post a Comment