অধস্তন
আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃংখলা-সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের
জন্য আরও এক সপ্তাহ সময় পেয়েছে সরকার। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের
পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বধীন আট সদস্যের বেঞ্চ এ
সময় দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন, বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা,
বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি ইমান
আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও
বিচারপতি মো. নিজামুল হক। আদালতে সরকারপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল
মাহবুবে আলম। এর আগে ২৪ নভেম্বর এ মামলার শুনানি হয়। সে সময়ও
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এক সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করে ১ ডিসেম্বর
শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়। এদিন দ্বিতীয়বারের মত সময় দিয়ে আদালত বলেন,
'শেষবারের মতো সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে বিধি চূড়ান্ত করে গেজেট আকারে জারি
করবেন।' গত ৭ নভেম্বর বিধিমালাটি ২৪ নভেম্বরের মধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশ
করে তা আদালতে দাখিল করতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ।
ওইদিনও আর কোনো সময় দেয়া হবে বলে আপিল বিভাগ উল্লেখ করেছিলেন। জানা যায়,
১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনাসহ রায় দেয়া
হয়।
ওই রায়ের ৭ম দফায় নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃংখলা বিধানের জন্য আলাদা
শৃংখলা বিধি প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। কিন্তু সেটি আজও প্রণয়ন হয়নি। এ
অবস্থায় আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি
খসড়া শৃংখলাবিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিমকোর্টে পাঠায়। গত ২৮ আগস্ট এ বিষয়ে
শুনানিকালে আপিল বিভাগ বলেন, একটি খসড়া ডিসিপ্লিনারি রুলস তারা (সরকার)
দাখিল করেছে। এটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপিল) বিধিমালার
হুবহু, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থি। এখন আমরা কমিটি করে একটি
রুলস তৈরি করে দিয়েছি। এটির আলোকে শৃংখলাবিধি তৈরি করে ৬ নভেম্বর আপিল
বিভাগকে জানাতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা ছিল। কিন্তু ওই শৃংখলাবিধির গেজেট
জারি না হওয়ায় ৭ নভেম্বর আপিল বিভাগ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

No comments:
Post a Comment