উইঘুর
মুসলিম জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত চীনের বিরোধপূর্ণ জিনজিয়াং এলাকায় পুলিশের
গুলিতে তিন ব্যক্তি নিহত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ওই এলাকার কমিউনিস্ট
পার্টির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে দুই ব্যক্তিকে হত্যা এবং তিনজনকে আহত করার
অভিযোগ করছে স্থানীয় পুলিশ। খবর এএফপি'র বুধবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ
সংস্থা সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে বলা হয়েছে,
নিহত
তিন 'দাঙ্গাবাজ' মোইউ জেলার কমিউনিস্ট পার্টি কার্যালয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দুই
ব্যক্তিকে হত্যা ও তিনজনকে আহত করেছে। এ হামলার ঘটনার পর তিন আক্রমণকারীকে
পুলিশ গুলি করে হত্যা করে বলেও জানায় সিনহুয়া। তবে সংবাদ মাধ্যমটি এটি
নির্দিষ্ট করে বলেনি যে, নিহতদের ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যা করা হয়েছে,
না পরে অন্য কোথাও এ ঘটনা ঘটেছে। এর আগের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল,
'সন্ত্রাসবাদী' হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় চার
হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। চীনে বিভিন্ন হামলায় জড়িত সংখ্যালঘু
আদিবাসী মুসলিম জনগোষ্ঠী উইঘুরদের 'সন্ত্রাসী' হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়ে
থাকে।সেখানে মুসলমানদের ধর্মকর্ম পালনে বাধা দেয় কর্তৃপক্ষ। দশকের পর দশক
ধরে তারা বিভিন্ন বৈষম্যেরও শিকার হয়ে আসছে। বেইজিং নিয়মিত অভিযোগ করে
আসছে,
খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ অঞ্চল জিনজিয়াংয়ে হামলার ঘটনায় পূর্ব তুর্কিস্তান
ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন নির্বাসিত উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদী দলগুলো জড়িত।
তবে বিদেশী বিশেষজ্ঞরা উইঘুর গ্রুপগুলোর সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের
সঙ্গে তাদের সম্পর্ক থাকা বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেন। বিশেষজ্ঞদের অনেকের
ধারণা, জিনজিয়াংয়ে মুসলিমদের ওপর যে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, তার যৌক্তিকতা
তুলে ধরতেই সন্ত্রাসবাদের হুমকির কথা বলে আসছে চীন। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে
আকসু কয়লাখনিতে পরিচালিত এক হামলায় ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ৫৬ দিন ধরে চলা
এক গ্রেফতার অভিযানে সন্দেহভাজন ২৮ ব্যক্তিকে হত্যা করে চীনা পুলিশ। এর
আগে ২০১৪ সালের মার্চে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুনমিং রেল স্টেশনে চার
হামলাকারীসহ ছুরিকাঘাতে ৩১ জন নিহত হয়। এ ঘটনার জন্য জিনজিয়াংয়ের
বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দোষারোপ করে একে 'চীনের নাইন ইলেভেন' আখ্যা দেয় দেশটির
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এর দুই মাস পর জিনজিয়াংয়ের রাজধানী উরুমকির একটি
মার্কেটে হামলার ঘটনায় ৩৯ জন নিহত হয়।

No comments:
Post a Comment