Tuesday, January 17, 2017

তে-ভাগা আন্দোলনের অগ্রপথিক অমল সেনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

তে-ভাগা আন্দোলনের অগ্রপথিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কমরেড অমল সেনের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ওয়ার্কার্স পার্টি। বসেছে দুইদিনব্যাপী গ্রামীণমেলা। ২০০৩ সালের ১৭ জানুয়ারি বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। অমল সেনের কর্মস্থল যশোরের বাঘারপাড়ার বাঁকড়ী বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে তাকে সমাধিস্থ করা হয়। এই স্কুলে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন তিনি। অমল সেন ১৯১৪ সালের ১৯ জুলাই নড়াইল শহর সংলগ্ন আউড়িয়া গ্রামে মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। এদিকে, নড়াইল সদরের আফরা গ্রামের জমিদার বংশের সন্তান হয়েও খুব সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন তিনি। পারিবারিক বিলাসবহুল জীবন ত্যাগ করে বাঁকড়ী গ্রামে গরিব কৃষক রসিক ঘোষের বাড়িতে থাকতেন অমল সেন।
নড়াইলের আব্দুল হাই ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মলয় নন্দী জানান, নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন তৎকালীন বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী দেশপ্রেমিক সংগঠন ‘অনুশীলন’ গ্রুপে যোগ দেন অমল সেন। খুলনার বিএল কলেজে গণিতে পড়ার সময় মার্কসবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন এবং নড়াইলে ফিরে এসে কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলেন। বাবার জমিদারী প্রথা কখনো আকৃষ্ট করতে পারেনি অমল সেনকে। তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন-মানবজীবনের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি হতে পারে মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা। শ্রমজীবী মানুষের শোষণ মুক্তির লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করা। জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম জানান, শোষিত-নিপীড়িত কৃষক সমাজের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট ছিলেন অমল সেন। তে-ভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন তিনি। কষ্টার্জিত ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ বর্গাচাষির, আর একভাগ জমি মালিকের-এ দাবিতে কৃষকদের সংগঠিত করে আন্দোলন গড়ে তোলেন অমল সেন। এক সময় আন্দোলন সফল হয়। দেশের বর্গাচাষিরা ‘তে-ভাগা আন্দোলন’ সেই সুবিধা এখনও পাচ্ছেন। এটিই ‘তে-ভাগা আন্দোলন’ নামে পরিচিত। এছাড়া বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করায় পাকিস্তান শাসনামলে অমল সেনকে ১৯ বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন অমল সেন। ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। বাঁকড়ীর নিরাপদ বিশ্বাস বলেন, ‘অমল স্যার শিক্ষকতা করেছেন বাঁকড়ী বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। আমি তখন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। স্যার (অমল সেন) স্কুলেই বেশির ভাগ সময় কাটাতেন। অবসরে একটি গাভী লালন-পালন করতেন। হঠাৎ একদিন স্যারকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেল আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী।
স্যারের কথা সবসময় মনে পড়ে।’ বাঁকড়ী গ্রামের প্রবীণব্যক্তিত্ব সতীশ ঘোষ বিপ্লবী নেতা অমল সেনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘অমল সেন প্রায়ই বলতেন-আমি যে শিক্ষা রেখে গেলাম, আন্দোলন করে গেলাম, তা তোমাদের কাজে লাগবে। আমার মৃত্যুর পরে বিষয়টি তোমরা উপলব্ধি করতে পারবে। তার কথা ও শিক্ষা আমাদের আজো কাজে লাগছে।’ ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ জানান, অমল সেনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় বাঁকড়ীতে অমল সেনের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন মোস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি, শেখ হাফিজুর রহমান এমপি, পলিটব্যুরো সদস্য বিমল বিশ্বাস, আনিসুর রহমান মল্লিক, মাহমুদুল হাসান মানিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। সভাপতিত্ব করবেন অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদ। আগামীকাল বুধবার চিত্রাঙ্কন, গণিত ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতা এবং নারীর অধিকার বিষয়ক আলোচনা, সংগ্রামভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদশর্নী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। এছাড়া দুইদিনব্যাপী গ্রামীণমেলাও বসেছে।

No comments:

Post a Comment