Wednesday, January 25, 2017

বড় ধরনের রদবদলের বিরুদ্ধে হাথুরু

ভূমিকম্পের প্রথম ধাক্কার পর আসে ‘আফটার শক’। দুঃস্বপ্নের নিউজিল্যান্ড সফর বাংলাদেশ দলে সেই আফটার শকের ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। ব্যর্থতার ময়নাতদন্ত শেষে কেউ না কেউ বলির পাঁঠা হবেন, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এক সফরের ব্যর্থতায় দলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার বিপক্ষে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। এ ব্যাপারে আগেভাগেই টিম ম্যানেজমেন্টকে সতর্ক করে দিলেন তিনি। দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলে হিতে বিপরীত হতে পারে। নতুনদের আরও সময় ও সুযোগ দিতে চান বাংলাদেশ কোচ। এবারের নিউজিল্যান্ড সফরে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে আট ম্যাচের আটটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। দেশে ফেরার আগে মঙ্গলবার ক্রাইস্টচার্চে বসেই পুরো সিরিজ নিয়ে নিজের ভাবনা জানালেন হাথুরুসিংহে। চোট-দুর্ভাগ্য, ব্যাটিং ব্যর্থতা, ছন্নছাড়া ফিল্ডিং- এমন অনেক হতাশার ভিড়ে নতুনদের মধ্যেই বরং আশার আলো দেখছেন কোচ। এ সফরে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে অভিষেক হয়েছে পাঁচজনের। এছাড়া সাতজনের প্রথম বিদেশ সফর ছিল এটি। নতুনরা একেবারে হতাশ করেননি। সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ ছিলেন পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি।
যারা সম্ভাবনার ছাপ রাখতে পারেননি, তাদেরকেও রাতারাতি দল থেকে ছুড়ে ফেলার বিপক্ষে হাথুরুসিংহে, ‘নতুনদের পারফরম্যান্সে আমি খুশি। সবাই হয়তো খুব ভালো করতে পারেনি, কিন্তু অনেক ইতিবাচক দিক আছে। যা হয়েছে তার জন্য হুট করে তাদের কয়েকজনকে আপনি ছুড়ে ফেলতে পারেন না। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এবং সেই খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে সাহায্য করবে। ইংল্যান্ড সিরিজের পর এ সফরে নিজেদের বদলে ফেলেছে রাব্বি ও মিরাজ। তারা খুব দ্রুত শিখছে।’ নিউজিল্যান্ড সফরটা যে সহজ হবে না, তা জানাই ছিল। তাই বলে সব ম্যাচে হার! আশাভঙ্গের বেদনা পোড়াচ্ছে হাথুরুসিংহেকেও, ‘সব ম্যাচে হারলে তৃপ্ত হওয়ার কথা নয়। ফলের দিক থেকে ভাবলে সফর শুরুর আগে যে লক্ষ্য ছিল আমার, তা পূরণ হয়নি। আমরা ব্যর্থতার ঘানি টেনেছি। একই সঙ্গে কিছু ইতিবাচক দিকও আছে। অনেক ম্যাচেই আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছি। সম্ভাবনা তৈরি করেছি। কিন্তু সেগুলো কাজে লাগিয়ে সাফল্যের মঞ্চে ওঠা সম্ভব হয়নি। তবে এটাও সত্য, অনেক বছর পর নিউজিল্যান্ডে খেলতে এসে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করা সহজ নয়।’ যে টেস্ট সিরিজ নিয়ে বেশি ভয় ছিল, সেখানেই সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা তৈরি করেছিল বাংলাদেশ।
কিন্তু দুই টেস্টেই দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যর্থতা দলকে ডুবিয়েছে। দারুণ শুরুর পর এভাবে খেই হারিয়ে ফেলার পেছনে খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তার ঘাটতি দেখছেন কোচ, ‘শুধু ক্রাইস্টচার্চ নয়, ওয়েলিংটনেও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও শরীরী ভাষা সঠিক ছিল না। আমার মনে হয়, পাঁচদিন লড়াই করার জন্য যে মানসিক দৃঢ়তা দরকার, ক্রিকেটারদের মধ্যে তা ফুটে ওঠেনি। খেলোয়াড়দের ক্রিকেটীয় দক্ষতা ও টেকনিকে বড় ধরনের কোনো সমস্যা নেই। টেকনিকে ঘাটতি থাকলে আমরা পাত্তাই পেতাম না। কিন্তু আমরা তো চরমভাবে পর্যুদস্ত হইনি। আমি নিজেও খুঁজে বেড়াচ্ছি প্রকৃত সমস্যা কোথায়। টেস্টে ভালো করতে হলে শুধু টেকনিক আর দক্ষতা যথেষ্ট নয়। ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে মানসিক দৃঢ়তা ও শারীরিক সক্ষমতাও জরুরি। এখন সমস্যার জায়গাগুলো খুঁজে বের করতে হবে এবং ভুল থেকে দ্রুত শিখতে হবে। এগিয়ে যাওয়ার এটাই একমাত্র পথ।’

No comments:

Post a Comment