হে
আল্লাহ, তুমি আমাদের ক্ষমা করো, আমাদের ওপর রাজি হয়ে যাও। হে আল্লাহ,
আমাদের অন্তরকে ইসলামের ওপর দাখিল করে দাও, তোমার নির্দেশিত পথে চলার তৌফিক
দাও। হে আল্লাহ, পুরো উম্মতের ওপর রহম করো, সব মানুষকে হেদায়েত দাও। হে
আল্লাহ, সব পেরেশানি দূর করে দাও, সব নেক চাহিদা পূরণ করে দাও।
হে আল্লাহ
জালেমের জুলুম থেকে আমাদের হেফাজত করো, যাবতীয় সন্ত্রাস থেকে বিশ্বকে রক্ষা
করো। অশ্রুসজল চোখে এমনি গভীর আকুতিপূর্ণ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে রোববার শেষ
হয়েছে দাওয়াতে তাবলিগের ৫২তম বিশ্ব ইজতেমা। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে শুরু হয়ে
১১টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত ৩৩ মিনিট দীর্ঘ আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন ভারতের
হজরত মাওলানা মুহাম্মদ সা’দ। প্রথম ১৫ মিনিট পবিত্র কোরআনে বর্ণিত দোয়ার
আয়াতগুলো উচ্চারণ করেন তিনি। পরে ১৬ মিনিটে উর্দু ভাষায় দোয়া করেন। শেষ দুই
মিনিট আবারও দোয়ার আয়াত পাঠ করে শেষ করেন মোনাজাত। রীতি অনুযায়ী আখেরি
মোনাজাতের আগে সমাপনী বয়ানও (হেদায়েতের কথা) করেন তিনি। লাখো ধর্মপ্রাণ
মুসলমানের কান্নায় এদিন কেঁপে ওঠে তুরাগ তীর। দু’হাত তুলে নিজের কৃতকর্মের
অনুশোচনা করে পাপমুক্তি চান তারা। চোখের নোনা পানিতে বুক ভাসিয়ে ঘোষণা করেন
মহান রাব্বুল আলামিনের মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব। কামনা করেন আত্মশুদ্ধি,
দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা, দেশ ও বিশ্বের কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। ইজতেমা
ময়দান ছাড়াও দক্ষিণে খিলক্ষেত, উত্তরে বোর্ডবাজার, পূর্বে টঙ্গী বিসিক
শিল্পনগরী ও পশ্চিমে আশুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকা বিস্তৃত
বিশাল জনসমুদ্রে ৩০ লক্ষাধিক মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় আমিন আমিন ধ্বনি।
বাংলাদেশ ছাড়াও ৯৫ দেশের ৬ হাজারের বেশি মেহমানও ইজতেমা ও আখেরি মোনাজাতে
অংশ নেন। স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও রেডিওতে সম্প্রচার, মুঠোফোন ও পুলিশের
ওয়্যারলেসের বদৌলতেও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বহু মানুষ শরিক হন
মোনাজাতে। মোনাজাতে অংশ নিতে শনিবার রাত থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে। রোববার
সূর্য উঠতে না উঠতেই কুড়িল-বিমানবন্দর-আবদুল্লাহপুর,
টঙ্গী-কালীগঞ্জ,
আশুলিয়া-সাভার ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কসহ বিভিন্ন পথে হাজারও মানুষ হেঁটেই আসতে
থাকেন ময়দানের দিকে। এমনকি নারীরাও ভিড় ঠেলে হেঁটেই আসেন। মোনাজাতের সময়
ইজতেমাস্থলের চারপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল
না। মিল-কারখানার ভেতর ও ছাদ, ঘরবাড়ি, বেড়িবাঁধ, বিভিন্ন যানবাহন এবং
নৌকায় বসেও মোনাজাতে শরিক হন বহু মানুষ। মোনাজাত শেষে হেঁটেই ফিরতে হয় এদের
প্রায় সবাইকে। যে অল্প ক’জন মানুষ বাস, পিকআপ বা কোনো যানবাহনে উঠতে
পেরেছেন তাদের গুনতে হয়েছে বহুগুণ বেশি ভাড়া। ২য় পর্বের আখেরি মোনাজাতে
সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক জামিল
আহমেদ, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি
অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র
আসাদুর রহমান কিরণ প্রমুখ শরিক হন। আখেরি মোনাজাতের জন্য রোববার আশপাশের
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানাসহ অধিকাংশ অফিস ছিল ছুটি। কোনো কোনো
প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা না করলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোনাজাতে অংশ নিতে
বাধা ছিল না। ২০১৮ সালের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ১২ জানুয়ারি থেকে শুরু
হবে, যা শেষ হবে ১৪ জানুয়ারি। আর দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ১৯ জানুয়ারি, শেষ
হবে ২১ জানুয়ারি। আয়োজকদের অন্যতম মুরব্বি ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন এ তথ্য
নিশ্চিত করেছেন।
হেদায়েতি বয়ান : সকাল
৮টা ২০ মিনিটে বয়ান শুরু করেন মাওলানা মুহাম্মদ সা’দ। তা বাংলায় তরজমা করেন
বাংলাদেশের মাওলানা ওমর ফারুক। তিনি বলেন, যে ইসলামের বিধান অনুসারে চলবে
এবং হজরত মুহাম্মদের (সা.) জীবনাদর্শ অনুসরণ করবে- সে দুনিয়া ও আখেরাতে
সফলতা অর্জন করবে। তিনি আরও বলেন, ঈমানকে শক্তিশালী করতে হলে মানুষকে
মসজিদের পরিবেশে বসাতে হবে। জবরদস্তি করে নয়, তাজিমের সঙ্গে বুঝিয়ে কাউকে
মসজিদে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের প্রত্যেকটি কাজ আল্লাহকে রাজি ও খুশি করার
জন্যই করতে হবে। মুসলমানের নামাজ ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। নামাজ এমনভাবে আদায়
করতে হবে, যেমন নবী করিম (সা.) আদায় করেছেন। নামাজ সব গুনাহ থেকে বিরত
রাখে। সহিভাবে নামাজ আদায় করতে শিখতে হবে। নামাজের দরকারি সূরাগুলো সহি
শুদ্ধভাবে শিখতে হবে।
মোনাজাতে আরও যা বলা হয় : হে আল্লাহ! তুমি ইজতেমাকে কবুল করো। ইজতেমাকে হেদায়েতের উসিলা বানাও। আমাদের দ্বীনদারি নসিব করো, গোমরাহি থেকে বাঁচাও। প্রতিটি পদক্ষেপে তুমি আমাদের সাহায্য করো। হে আল্লাহ, ইসলামের খেদমতকারী সব প্রতিষ্ঠানকে হেফাজত করো। ইসলাম ও মুসলমানদের হেফাজত করো। ধর্মের নামে কোনো অধর্মের ছায়া যেন আমাদের গ্রাস করতে না পারে। সবল যেন দুর্বলের ওপর অন্যায়ভাবে অত্যাচার করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করে দাও। আমাদের জন্য দ্বীনের দাওয়াতকে সহজ করে দাও। সবার মাঝে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান ও বুঝ দান করো। আমাদের মনে শুদ্ধতা দান করো, নিয়তে একনিষ্ঠতা ও কাজে অটলতা দান করো। হে আল্লাহ! আমাদের রোগব্যাধি থেকে মুক্তি দাও। নবীওয়ালা জিন্দেগি আমাদের নসিব করো।
দ্বিতীয় পর্বে দুই হাজার জামাত : তাবলিগের কাজে বের হতে এবার ইজতেমাস্থলে দ্বিতীয় পর্বে প্রায় দুই হাজার জামাত তৈরি হয়েছে বলে ইজতেমা আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। এসব জামাতে কেউ তিন চিল্লা, এমনকি আজীবন চিল্লার জন্য বেরিয়েছেন। বিদেশে মেহনতের জন্য অর্ধশত জামাত তৈরি হয়েছে। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে এসব জামাত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়বে।
১ বদনা পানি ১০ টাকা : রোববার ইজতেমা ময়দানের আশপাশে প্রতি বদনা পানি ১০ টাকা হারে বিক্রি করতে দেখা গেছে। অনেক মুসল্লি প্রতি পাতা পত্রিকা ২ টাকা করে কিনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশের ফুটপাতে বসে মোনাজাতে অংশ নেন।
অতিরিক্ত ভাড়া : মুসল্লিরা বাড়ি ফিরতে বেশ ভোগান্তিতে পড়েন। টঙ্গী ব্রিজ থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ১০ টাকার ভাড়া একশ’ টাকা এবং টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা করে আদায় করা হয়। বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতের ক্ষেত্রেও কয়েক গুণ বেশি বাস ভাড়া নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। একসঙ্গে সব মুসল্লির ফেরার তাড়ায় টঙ্গীর আশপাশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় জনজট ও যানজট। আর হাঁটা মানুষের চাপে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মুসল্লিদের যানবাহন বিকাল পর্যন্ত থেমে থাকে ইজতেমা মাঠের আশপাশের এলাকায়।
ভোগান্তি থাকলেও অভিযোগ নেই : ইজতেমায় অংশ নেয়া মুসল্লিরা আসা ও যাওয়ার পথে গাড়ি না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হলেও তাতে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বেলায়েত হোসেন জানান, সকালে প্রায় ১০ কিলোমিটার হেঁটে ময়দানে এসেছি মোনাজাতে অংশ নেয়ার জন্য, আবার হেঁটেই বাড়ি যাচ্ছি। আল্লাহর রহমতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না, বরং ভালোই লাগছে।
যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ : ভোর থেকে সব যানবাহন চলাচল ছিল নিয়ন্ত্রিত। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী ও কুড়িল বিশ্বরোড থেকে টঙ্গী পর্যন্ত, ঢাকা-কালীগঞ্জ সড়কের মিরেরবাজার থেকে টঙ্গী পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যা : রোববার ইজতেমা ময়দান ও টঙ্গী থেকে মোবাইলেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মাঝে মধ্যে লাইন পেলেও মুহূর্তেই কেটে যাচ্ছিল। ময়দান থেকে মুসল্লিরা তাদের গ্রামের বাড়িতে থাকা স্বজনদের মোনাজাত শোনাতে গেলে বারবার লাইন কেটে যাচ্ছিল।
বিদেশী মুসল্লি : দ্বিতীয় পর্বে ৯৫টি দেশের ৬ হাজার ৩৬০ জন মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, সুইডেন, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি।
ফ্রি মেডিকেল ক্যা¤প : মুন্নু মিল মাঠে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ, ইবনে সিনা, র্যাব, কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, গ্রামীণফোন, ইউনানি আয়ুর্বেদিকসহ অর্ধশতাধিক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইজতেমার দু’পর্বে কয়েক লাখ মুসল্লিকে ফ্রি চিকিৎসা দিয়েছে।
মোনাজাতে আরও যা বলা হয় : হে আল্লাহ! তুমি ইজতেমাকে কবুল করো। ইজতেমাকে হেদায়েতের উসিলা বানাও। আমাদের দ্বীনদারি নসিব করো, গোমরাহি থেকে বাঁচাও। প্রতিটি পদক্ষেপে তুমি আমাদের সাহায্য করো। হে আল্লাহ, ইসলামের খেদমতকারী সব প্রতিষ্ঠানকে হেফাজত করো। ইসলাম ও মুসলমানদের হেফাজত করো। ধর্মের নামে কোনো অধর্মের ছায়া যেন আমাদের গ্রাস করতে না পারে। সবল যেন দুর্বলের ওপর অন্যায়ভাবে অত্যাচার করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করে দাও। আমাদের জন্য দ্বীনের দাওয়াতকে সহজ করে দাও। সবার মাঝে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান ও বুঝ দান করো। আমাদের মনে শুদ্ধতা দান করো, নিয়তে একনিষ্ঠতা ও কাজে অটলতা দান করো। হে আল্লাহ! আমাদের রোগব্যাধি থেকে মুক্তি দাও। নবীওয়ালা জিন্দেগি আমাদের নসিব করো।
দ্বিতীয় পর্বে দুই হাজার জামাত : তাবলিগের কাজে বের হতে এবার ইজতেমাস্থলে দ্বিতীয় পর্বে প্রায় দুই হাজার জামাত তৈরি হয়েছে বলে ইজতেমা আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। এসব জামাতে কেউ তিন চিল্লা, এমনকি আজীবন চিল্লার জন্য বেরিয়েছেন। বিদেশে মেহনতের জন্য অর্ধশত জামাত তৈরি হয়েছে। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে এসব জামাত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়বে।
১ বদনা পানি ১০ টাকা : রোববার ইজতেমা ময়দানের আশপাশে প্রতি বদনা পানি ১০ টাকা হারে বিক্রি করতে দেখা গেছে। অনেক মুসল্লি প্রতি পাতা পত্রিকা ২ টাকা করে কিনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশের ফুটপাতে বসে মোনাজাতে অংশ নেন।
অতিরিক্ত ভাড়া : মুসল্লিরা বাড়ি ফিরতে বেশ ভোগান্তিতে পড়েন। টঙ্গী ব্রিজ থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ১০ টাকার ভাড়া একশ’ টাকা এবং টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা করে আদায় করা হয়। বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতের ক্ষেত্রেও কয়েক গুণ বেশি বাস ভাড়া নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। একসঙ্গে সব মুসল্লির ফেরার তাড়ায় টঙ্গীর আশপাশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় জনজট ও যানজট। আর হাঁটা মানুষের চাপে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মুসল্লিদের যানবাহন বিকাল পর্যন্ত থেমে থাকে ইজতেমা মাঠের আশপাশের এলাকায়।
ভোগান্তি থাকলেও অভিযোগ নেই : ইজতেমায় অংশ নেয়া মুসল্লিরা আসা ও যাওয়ার পথে গাড়ি না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হলেও তাতে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বেলায়েত হোসেন জানান, সকালে প্রায় ১০ কিলোমিটার হেঁটে ময়দানে এসেছি মোনাজাতে অংশ নেয়ার জন্য, আবার হেঁটেই বাড়ি যাচ্ছি। আল্লাহর রহমতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না, বরং ভালোই লাগছে।
যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ : ভোর থেকে সব যানবাহন চলাচল ছিল নিয়ন্ত্রিত। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী ও কুড়িল বিশ্বরোড থেকে টঙ্গী পর্যন্ত, ঢাকা-কালীগঞ্জ সড়কের মিরেরবাজার থেকে টঙ্গী পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যা : রোববার ইজতেমা ময়দান ও টঙ্গী থেকে মোবাইলেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মাঝে মধ্যে লাইন পেলেও মুহূর্তেই কেটে যাচ্ছিল। ময়দান থেকে মুসল্লিরা তাদের গ্রামের বাড়িতে থাকা স্বজনদের মোনাজাত শোনাতে গেলে বারবার লাইন কেটে যাচ্ছিল।
বিদেশী মুসল্লি : দ্বিতীয় পর্বে ৯৫টি দেশের ৬ হাজার ৩৬০ জন মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, সুইডেন, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি।
ফ্রি মেডিকেল ক্যা¤প : মুন্নু মিল মাঠে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ, ইবনে সিনা, র্যাব, কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, গ্রামীণফোন, ইউনানি আয়ুর্বেদিকসহ অর্ধশতাধিক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইজতেমার দু’পর্বে কয়েক লাখ মুসল্লিকে ফ্রি চিকিৎসা দিয়েছে।

No comments:
Post a Comment