গণতান্ত্রিক
কাঠামোর মধ্যে থেকে জাতির অগ্রযাত্রার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার
কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রোববার জাতীয়
সংসদে বছরের প্রথম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, শান্তি, গণতন্ত্র,
উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির যে পথে আমরা হাঁটছি, সে পথ ধরেই বাংলাদেশ আরও বহুদূর
এগিয়ে যাবে এবং বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশ হিসেবে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হবে।
ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা সমুন্নত ও
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুজ্জ্বল রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন,
গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করতে দেশ থেকে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ
সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে বাঙালি জাতিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ
প্রয়াস গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, রূপকল্প-২০২১ এবং দিন বদলের সনদের
ভিত্তিতে প্রণীত প্রেক্ষিত, পরিকল্পনা ও ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায়
বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং এ কার্যক্রমে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত
অংশগ্রহণের ফলে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে।
২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ মধ্য-আয়ের দেশে পরিণত হবে
এবং ২০৪১ সালে বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে- এটাই
জাতির প্রত্যাশা। ‘রূপকল্প-২০২১’, দিন বদলের সনদ ও এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা
অর্জন এবং বিভিন্ন পরিকল্পনায় গৃহীত কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে
জাতির এ প্রত্যাশা অবশ্যই পূরণ হবে। বিকাল ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন
চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশন শুরুর
পর সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটনের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ হয়। এরপর
রেওয়াজ অনুযায়ী অধিবেশন মুলতবি করেন স্পিকার। পরে সন্ধ্যা ৬টায় আবার
অধিবেশন শুরু হয়। কোনো সংসদের প্রথম এবং নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনে
রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেয়ার বিধান রয়েছে। পুরো অধিবেশনজুড়ে তার ভাষণের ওপর
আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা। শেষে রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি
প্রস্তাব গৃহীত হয়। রোববার সংসদের মুলতবি বৈঠক শুরুর পরে স্পিকার
রাষ্ট্রপতির আগমনের ঘোষণা দিলে সশস্ত্র বাহিনীর একটি বাদ্যদল বিউগলে
‘ফ্যানফেয়ার’ বাজিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সম্ভাষণ জানায়। রাষ্ট্রপতির প্রবেশের পর
নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। স্পিকারের ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতি তার
১১৯ পৃষ্ঠার ভাষণের সংক্ষিপ্ত সার পড়েন। ভাষণে রাষ্ট্রপতি অর্থনীতি,
বাণিজ্য-বিনিয়োগ, খাদ্য-কৃষি, পরিবেশ-জলবায়ু,
শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন
খাতে সরকারের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে
আশাবাদী যে, রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে সুশাসন সুসংহতকরণ, গণতন্ত্রের
প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং জনগণের সর্বাত্মক অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা এসব
লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হব। দেশে আইনের শাসন সুসংহত ও সমুন্নত রাখা এবং
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান সমুন্নত এবং সংসদীয়
গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখে ২০১৪ সালে (৫ জানুয়ারি) অবাধ ও সুষ্ঠু
নির্বাচনের মাধ্যমে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হয় এবং বর্তমান সরকারের ওপর দেশ
পরিচালনার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। রাষ্ট্রপতি বলেন, একাত্তরের শহীদদের কাছে
আমাদের অপরিশোধ্য ঋণ রয়েছে। আসুন ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে এবং
দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও আর্থ-সামাজিক
উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে আমরা লাখো শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি।

No comments:
Post a Comment