রাজধানীর
ব্যস্ততম যাত্রাবাড়ী-ডেমরা সড়ক। এর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা মেয়র হানিফ
ফ্লাইওভারের নিচ থেকে কুতুবখালী পানির পাম্প পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার
সড়কটি যেন এখন একটি খাল। যাত্রাবাড়ী এলাকার পয়ঃনিষ্কাশনের ময়লা পানি আটকে
রাস্তাটির এ অবস্থা হয়েছে। এছাড়া যাত্রাবাড়ী থেকে উত্তর কাজলা পর্যন্ত
প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক উঁচু-নিচু, ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দে ভরা। পানি
নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ড্রেনেজ না থাকায় সারা বছরই ময়লাযুক্ত দুর্গন্ধময়
পানিতে সড়ক ডুবে থাকে। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে কোমর পানি হয়ে অবস্থার আরও
অবনতি ঘটে। পথচারীরা নাক ও মুখ বন্ধ করেই এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। সড়কের এহেন
বেহাল দশা হলেও দেখার যেন কেউ নেই। এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে সিলেট, নরসিংদী,
মাধবদী, রূপগঞ্জসহ অন্তত ২০ সড়কের দূরপাল্লার শত শত যানবাহন। এছাড়াও ডেমরা,
কোনাপাড়া, স্টাফ কোয়ার্টার, সারুলিয়া, কাঁচপুর এলাকার বাস,
সিএনজি,
লেগুনা, রিকশাসহ শত শত যানবাহন চলাচল করে। আর খানাখন্দ ও কর্দমাক্ত সড়কে
প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। সরেজমিন দেখা যায়, যাত্রাবাড়ী-ডেমরা সড়কের বেহাল
দশার কারণে সিলেট, নরসিংদী, মাধবদী, রূপগঞ্জসহ ২০ সড়কের দূরপাল্লার যানবাহন
এবং ডেমরা, কাঁচপুর সড়কের বাস, সিএনজি, লেগুনাসহ মালবাহী ট্রাক বেহাল
রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে আর প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
রাস্তার এমন বেহাল দশার কারণে এ রুটে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার হওয়ার পরও যানজট
কমেনি। সব সময় যানজট লেগেই থাকে। যাত্রাবাড়ী-ডেমরা সড়কের পাশে রয়েছে
দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী একতা ফল ও সবজির আড়ত। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম ৮ লেনের
জাতীয় মহাসড়কে কাজলা থেকে হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে দুই পাশের সড়ক একদিকে সরু
অপরদিকে রাস্তা দখল করে বসানো হয়েছে সিএনজি স্ট্যান্ড ও দোকানপাট।
কাজলা-যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ এলাকার বেহাল সড়কের কারণে রাজধানী ঢাকা থেকে
বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী,
কক্সবাজার, বৃহত্তর সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের দক্ষিণ ও
পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঢাকায়
প্রবেশ করতে অথবা ঢাকা থেকে বের হতে ব্যস্ত এ সড়কের পাশে রয়েছে দেশের
বৃহত্তম যাত্রাবাড়ী কাঁচামাল, মাছ ও ফলের আড়ত। আড়তের বর্জ্য ও পানি ফেলা
হচ্ছে রাস্তার ওপর। আড়তের নোংরা আবর্জনা আর দুর্গন্ধে পুরো এলাকায়
বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, রিকশাসহ
হাজার হাজার যানবাহনের চাপ আর ধুলোবালিতে নরক যন্ত্রণায় বসবাস করতে হচ্ছে
এলাকবাসীকে। যাত্রাবাড়ী-ডেমরা সড়কের পাশে রয়েছে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী একতা ফল ও
সবজি বাজার আড়ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আড়তদার যুগান্তরকে বলেন,
একদিকে ভাঙাচোরা সড়ক তার মধ্যে আবার সড়কের ওপর হাঁটু পরিমাণ পানি জমে থাকে।
সড়কের এ বেহাল দশার কারণে এ আড়তে ব্যবসায়ীরা কম আসেন। তারা বলেন, লাখ লাখ
টাকা ব্যয় করে এক বছর পূর্বে যাত্রাবাড়ী থেকে কাজলা পর্যন্ত ড্রেন করা
হয়েছিল। ময়লা-আবর্জনায় ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পয়ঃনিষ্কাশনসহ বৃষ্টির পানি
নামতে পারে না। এতে রাস্তায় পানি জমে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
রাস্তার
পাশের টং দোকানদার সাইফুল বললেন, আজ ৩ বছর এ এলাকায় ব্যবসা করে আসছি। এর
মধ্যে একদিনও আমি কোনো পরিচ্ছন্ন কর্মীদের ড্রেন পরিষ্কার করতে দেখিনি।
ব্যবসায়ীরা লোক দিয়ে আড়তের ময়লা পরিষ্কার করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষার্থী আবুল কালাম বলেন, ড্রেনগুলো পরিষ্কার রাখা হলে পানি সড়কে জমে
থাকবে না। তিনি বলেন, পথচারী, ব্যবসায়ীসহ সবাই যেন পলিথিনসহ ময়লা-আবর্জনা
নির্ধারিত স্থানে ফেলে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা করা দরকার। ঢাকা সিটি
কর্পোরেশনের ৪৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম যুগান্তরকে জানান, সিটি
কর্পোরেশন যাত্রাবাড়ী থেকে কাজলা পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণের জন্য নভেম্বর
মাসে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। এ ব্যাপারে টেন্ডারও হয়েছিল। ওয়ার্ক
অর্ডার দেয়ার আগেই যাত্রাবাড়ী থেকে ডেমরা সুলতানা কামাল ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক ও
ড্রেন নির্মাণের জন্য একনেকে নেয়া হয়েছে। সে কারণে রাস্তার দুই পাশের
স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষে রাস্তা ও ড্রেনের কাজ শুরু করা হবে। এ
ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-৫ এর
সাব-অ্যাসিসট্যান্ট প্রকৌশলী সুদেব যুগান্তরকে বলেন, কাজলা থেকে শুরু হয়ে
যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এই
এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হবে।

No comments:
Post a Comment