আজ
মঙ্গলবার টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। কিন্তু
কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি একেবারেই কম। বলা যায় প্রায় ফাঁকা। একজন-দুজন
এসে নীরবে ভোট দিয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্রের ভিতরেও যেমন ফাঁকা বাইরেও তেমনি
ফাঁকা। কোথাও কোন আমেজ নেই; উৎসব নেই। সকাল পৌনে ৯টায় কালিহাতী উপজেলার
নারান্দিয়া ইউনিয়নের পোষণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা
যায়, নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা বসে থেকে হাটাহাটি করে সময় পার
করছেন। কেন্দ্রে ভোটারের কোন লাইন নেই। নেই কোন কোলাহল। মাঝে মাঝে দুই-একজন
করে এসে ভোট দিয়ে যাচ্ছেন। প্রিজাইডিং অফিসার ভবানন্দ সূত্রধর জানান, এই
কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ নির্বাচনী কাজে দায়িত্ব
পালন করছেন মোট ৪৭ জন।
এরমধ্যে তিনি একজন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার আটজন,
পোলিং অফিসার ১৬ জন, একজন এসআইসহ পুলিশ আছে আটজন এবং আনসার সদস্য আছে ১৪
জন। এখানে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত আছেন ৪৭ জন, অথচ সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে
কেন্দ্রে ভোটার আছেন মাত্র একজন। ওই সময় কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বেরিয়ে
আসছিলেন আব্দুল হালিম তালুকদার নামে একজন ভোটার। তার অভিব্যক্তি জানতে
চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এ নির্বাচন
নিয়ে কোন আগ্রহ নেই মানুষের। তাই ভোটারের উপস্থিতিও কম। দল করি, তাই ভোট
দিয়ে গেলাম। প্রিজাইডিং অফিসার ভবানন্দ সূত্রধর জানান, এই কেন্দ্রে মোট
ভোটার আছেন ৩৭১৪ জন। সকাল ৮টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ১৭টি। তিনি
নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি এর আগেও বিভিন্ন নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছি।
কিন্তু এখনকার মত অবস্থা কোথাও দেখিনি। এই সময় ভোটারদের ভীড় সামলানোই কঠিন
হয়ে যায়, অথচ সেই সময় কেন্দ্র ফাঁকা। নির্বাচনে কোন আমেজও নেই। তবে আমরা
আমাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাব। এ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের
এসআই আবুল কালাম জানান, ভোটের দিন যে উৎসব দেখি আজ তার কিছুই নেই। তবু
আমরা দায়িত্ব পালনে তৎপর রয়েছি। কেন্দ্রের বাইরেও কোন লোকজনের ভীড় নেই।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী ভোটারের নামের সিরিয়াল বের করে
দিচ্ছেন। আর মাঝে মাঝে দুই-একজন ভোটার এসে সেই সিরিয়াল নাম্বারটি নিয়ে
কেন্দ্রে ভোট দিতে যাচ্ছেন। কৃষক শ্রমিক জনতালীগ সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল
কাদের সিদ্দিকী নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়ায় আমেজ এবং ইমেজ সংকটে পড়ে সাবেক
মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর আসনের এই উপ-নির্বাচন।
আওয়ামী লীগ মনোনীত
প্রার্থী হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী ছাড়াও আরো দুজন প্রার্থী নির্বাচনে
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- তারা হলেনÑ আতাউর রহমান খান (বিএনএফ) ও
ইমরুল কায়েস (এনপিপি)। এই দুই প্রার্থীকে নিয়ে ভোটাদের মধ্যে কোনো আগ্রহ
নেই। এজন্য ভোটারদের অভিমতÑ নির্বাচন হচ্ছে একতরফা। জেলা নির্বাচন অফিস
সূত্রে জানা যায়, এই আসনে মোট ভোটার তিন লাখ সাত হাজার ৭০০ জন। এরমধ্যে
পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫২ হাজার ৮৩৩ ও মহিলা ভোটার এক লাখ ৫৪ হাজার ৮৬৭। মোট
ভোট কেন্দ্র ১০৭ টি, মোট ভোট কক্ষ ৬৬১টি। এ ছাড়া প্রিজাইডিং অফিসার ১০৭ জন,
সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৬৬১ জন ও পোলিং অফিসার রয়েছেন ১৩৮৮ জন।
উল্লেখ্য, এই উপ-নির্বাচনে প্রার্থীতা ফিরে পেতে আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর
করা আবেদন গত ১৮ জানুয়ারি খারিজ করে দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তারপরই ৩১
জানুয়ারি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

No comments:
Post a Comment