Tuesday, January 24, 2017

উত্তরায় রাস্তা দখল করে ইজিবাইক স্ট্যান্ড

উত্তরায় রাস্তা দখল করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত অটোস্ট্যান্ড (ইজিবাইক)। আবদুল্লাহপুর, সোনারগাঁও জনপথ, আজমপুর, কসাইবাড়ি, জসিমউদ্দীন রোড ও হাজী ক্যাম্পের সামনে গড়ে উঠেছে এসব ইজিবাইক স্ট্যান্ড। এতে একদিকে পথচারী চলাচলে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ অপরদিকে তীব্র যানজটে নাকাল এলাকাবাসী। অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া অটো চালানোর কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে নিহত ও পঙ্গু হচ্ছেন অনেকে।
ওইসব পথে চলাচলকারী ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ছেন। দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব রাস্তায় চলাচলকারী কয়েক হাজার ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা (ইজি বাইক)। আবদুল্লাহপুর হয়ে উত্তরখানগামী ভেড়িবাঁধে গিয়ে দেখা যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মুখ হয়ে কোর্টবাড়ি রেললাইন পর্যন্ত রাস্তার প্রায় পুরোটা দখল করে শতাধিক অটো দাঁড়িয়ে আছে। শাহীন নামে ১৫-১৬ বছরের এক তরুণ রোডের মাঝখানে রাখা কয়েকটি অটোকে সাইড করতে দেখা যায়। জিজ্ঞেস করলে ওই তরুণ জানায়, অটোগুলোর সিরিয়াল মেনটেইন করতে সুমন ও মন্টু নামে মালিক সমিতির লোক তাকে মাসিক বেতনে নিয়োগ করেছে। আধা ঘণ্টা স্পটে অবস্থানকালে সাতবার যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হতে দেখা যায়। অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণকেও অটো চালাতে দেখা যায়। জানতে চাইলে রাজু নামে এক তরুণ চালক জানায়, অটো চালাতে কোনো লাইসেন্স লাগে না। চালাতে পারলেই মালিক তাকে নিয়োগ দেন। রাজু আরও জানায়, এ স্ট্যান্ডে আরও ২৫-৩০ জন তার বয়সী অটোচালক আছে। জাহাঙ্গীর নামে এক পত্রিকা বিক্রেতা জানান, প্রায়ই পুলিশ এসে রাস্তার এক পাশে অটো সরিয়ে দিয়ে যায়। পুলিশ চলে গেলে আবার পুরো রাস্তা অটোর দখলে চলে যায়। স্থানীয় আরাফা স্কুলের প্রিন্সিপাল শাহিদা খানম জানান, ছাত্রছাত্রীরা প্রায়ই স্কুলে দেরি করে আসার কারণ হিসেবে ওই রোডে অটোর যানজট ছিল বলে জানায়। তিনি এ রোডটি অটো সরিয়ে যানজটমুক্ত করার দাবি জানান। উত্তরা ফায়ার বিগ্রেডের ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম বলেন, মহল্লার কোথাও আগুন লাগলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে রাস্তা যানজটমুক্ত রাখা জরুরি।
এ কারণে যত্রতত্র অটোস্ট্যান্ড না করার দাবি জানান তিনি। আজমপুরের বাসিন্দা এসএ রমজান বলেন, রোডে বের হলেই বেপরোয়া অটো চলাচল দেখে ভয় হয় কখন গায়ের ওপর এসে পড়ে। কসাইবাড়ির বাসিন্দা কাজী রফিক বলেন, প্রাইভেট কার নিয়ে তিনি চলাচল করেন, ১ বছরে ৪ বার তার গাড়িকে অটো ধাক্কা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি আরও বলেন, আমাদের গাড়ি নিয়ে চলাচলকারীদের জন্য ভয় এবং যন্ত্রণার নাম ইজিবাইক। আবদুল্লাহপুরের স্থানীয় বাসিন্দা জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন আহম্মেদ বাবুল বলেন, ‘আমিও এ পথে চলাচল করি এবং জরুরি প্রয়োজনে তাড়াতাড়ি সভা-সমাবেশে যেতে এ অটোস্ট্যান্ড বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি এ রাস্তাটি অটোমুক্ত করে চলাচল নির্বিঘ্ন করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর মিয়া বলেন, অটোস্ট্যান্ড থেকে তিনি আর্থিক কোনো সুবিধা ভোগ করেন না। ঊর্ধ্বতন অফিসাররা কোনো পদক্ষেপ নিতে বললে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। উত্তরা বিভাগের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (এডমিন) আলিম চৌধুরী জানান, অটো (ইজিবাইক) গাড়িগুলো রোড দখল করে রাখতে দেখলে আমরা সার্জেন্টদের রেকারিং এমনকি ডাম্পিং করার ব্যাপারে বলে থাকি। অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের আটকের ব্যাপারে পুলিশের ক্রাইম বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া আছে।

No comments:

Post a Comment