লাকসাম-মুদাফরগঞ্জ
সড়কের খুন্তা নামক স্থানে ডাকাতিয়া নদীর উপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি
দীর্ঘদিন ধরে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নাম মাত্র সংস্কার কাজ করা হলেও
কয়েকদিন যেতে না যেতেই ব্রিজটি আগের অবস্থায় ফিরে যায়। উপরন্তু ঝুঁকিপূর্ণ
ওই ব্রিজে প্রতিনিয়তই যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করছে। বর্তমানে
ব্রিজের বেশ কয়েকটি পে−ট সরে গিয়ে ফাঁক হয়ে গেছে। বিকল্প সহজ পথ না থাকায় এ
পথে যানবাহন চলছে অনেকটা বাধ্য হয়েই। সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষের চরম
উদাসীনতায় যে কোনো সময় ব্রিজটি ধ্বসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা দেখা
দিয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, ওই বেইলী ব্রিজের অধিকাংশ রেলিং খুলে গিয়ে পিস
পয়েন্ট ফাঁকা হয়ে পড়েছে। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এটি ধ্বসে
পড়লে লাকসাম-মুদাফরগঞ্জসহ চাঁদপুরের সঙ্গে লাকসামের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।
ব্রিজটির পিস পয়েন্ট ও রেলিং খুলে পড়ায় নাটবল্টুসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি
হয়ে যাচ্ছে। বেশ কিছুদিন থেকেই এহেন ঝুঁকি নিয়ে এ পথে চলাচল করছে ছোট-বড় শত
শত যানবাহন। ব্রিজের দু’প্রান্তে ‘সাবধান’ বাণী লিখে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে
কর্তব্য শেষ করেছে কুমিল−া সড়ক বিভাগ। বেইলী ব্রিজটির পিস পয়েন্ট খুলে গিয়ে
এ স্থানে কয়েকবার দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। স্থানীয় লোকজন
জানান, প্রায় তিন বছর ধরে ব্রিজটি বিধ্বস্থ হয়ে পড়ে আছে। জর”রী ভিত্তিতে
এটি মেরামতের দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী। তা নাহলে যে কোনো সময় ব্রিজটি ধ্বসে
পড়ে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ব্রিজের পাটাতনের ৩/৪টি পে−ট ফাঁক
হলেও মাঝ বরাবরে পে−ট এতোটাই সরে গেছে যে, ভারী কোনো গাড়ির চাকা ঢুকে পড়ে
পুরো ব্রিজটিই অবলিলায় ধ্বসে পড়তে পারে। লাকসাম-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসহ
দক্ষিণাঞ্চল থেকে কুমিল−া-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক ও পশ্চিমাঞ্চলে যাওয়ার
সহজ মাধ্যম এ বেইলি ব্রিজটির উপর দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য, রিক্সা, সিএনজি ও
ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা, মোটর সাইকেল, ট্রাক,
ট্রাক্টর, প্রাইভেটকার,
পিক-আপ, কভার্ডভ্যানসহ শত শত ভারী যানবাহন চলাচল করছে। ফলে যে কোনো সময়
ঝুঁকিপূর্ণ এ বেইলি ব্রিজে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে প্রাণহানীর
আশংকা থাকলেও দুর্ঘটনা এড়াতে ওই ব্রিজটির মেরামতে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না
সড়ক ও জনপথ বিভাগ। লাকসাম-মুদাফরগঞ্জ সড়কে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিক্সা চালক
আবদুস সালাম জানান, ব্রিজের মাঝখানে পে−ট খুলে ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় ওই স্থান
অতিক্রমকালে বুকের ভিতর ধড়পড় করে ওঠে। অত্রাঞ্চলের দক্ষিণ এলাকার সাথে
সংযোগকারী লাকসাম-মুদাফরগঞ্জ সড়কের খুন্তা নামক স্থানের ওই বেইলি ব্রিজটি
দিয়ে দৈনিক কয়েকশ’ মালবোঝাই ভারী যানবাহন ও অন্যান্য গাড়ি চলাচল করছে।
ব্রিজের কয়েকটি পে−ট ফাঁকা হয়ে পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের নজর নেই। বিশেষ করে
রাতের বেলায় দূরে দেখা না যাওয়ায় যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত
হয়ে প্রাণহানীর আশংকা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, এ পথে নতুন কোনো ড্রাইভার
গাড়ি নিয়ে যাতায়াতকালে দুর্ঘটনায় পড়ার অত্যধিক ঝুঁকি রয়েছে। স্থানীয়
বাসিন্দা আবদুস শুকুর জানান, বেইলি ব্রিজের ৩/৪টি পাটাতন সরে গিয়ে বিশাল
অংশ ফাঁকা হয়ে গেছে। অধিকাংশ স্থানে পে−টের জয়েন্ট ভেঙ্গে নাট-বল্টু খুলে
গেছে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বেশ কিছুদিন যাবত বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে
জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজের
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী
প্রকৌশলী মুহাম্মদ সাইফউদ্দিন জানান, ব্রিজের পিস পয়েন্ট ফাঁকা হয়ে যাওয়ায়
ওই স্থানে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে
এবং দু’জন পাহারাদার বসানো হয়েছে। লোকবলের অভাবে ব্রিজের মেরামত কাজ করা
যায়নি।’ তবে সরেজমিন ঘুরে বাস্তবে ওই স্থানে কোনো পাহারাদার দেখা যায়নি।

No comments:
Post a Comment