ধর্ম,
বর্ণ, জাতি, গোষ্ঠী অথবা ভাষার নামে ভোট চাওয়াকে নিষিদ্ধ করেছে ভারতের
সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির ৫টি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে
গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক এ রায় দিয়েছে আদালত। ওই ৫টি রাজ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস
ও জাতিগত ইস্যু ছিল প্রচারণার শীর্ষে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য
হিন্দুস্তান টাইমস। এতে বলা হয়, আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির পদ
থেকে অবসরে যাচ্ছেন বিচারক টিএস ঠাকুর। তার আগে তিনি এমন একটি রায় দিলেন।
তার নেতৃত্বে ৭ জন বিচারকের সমন্বয়ে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এ ইস্যুতে আইনগত
দিক খতিয়ে দেখে। এরপর ওই বেঞ্চ তার রায়ে বলে, ভারতের সংবিধানে
ধর্মনিরপেক্ষতার যে কথা বলা আছে তা রক্ষা করতে হবে নির্বাচনকে
ধর্মনিরপেক্ষতা চর্চার মাধ্যমে। মানুষ ও ঈশ্বরের মধ্যে সম্পর্ক একটি
ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। এ বিশ্বাসকে কাজে লাগাতে রাজ্যগুলোকে নিষিদ্ধ করা
হচ্ছে। তবে ৭ বিচারককের মধ্যে তিন জন ভিন্ন মত দেন। তারা বলেন, এমন রায়ে
গণতন্ত্রকে সঙ্কুচিত করে তাকে নিয়ে যাবে এক বিমূর্ত অবস্থায়। আদালত তার
রায়ে বলেছে, নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির কাজ হবে ধর্মনিরপেক্ষভাবে কাজ
করা। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ধর্মের কোনো ভূমিকা নেই। নির্বাচন একটি
ধর্মনিরপেক্ষ চর্চা। রাজ্যকে ধর্মের সঙ্গে গুলিকে ফেলা সংবিধান অনুমোদন করে
না। আর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ওই ৫টি রাজ্যে নির্বাচন। বিশেষ করে এর
মধ্যে উত্তর প্রদেশের দিকে বেশির ভাগ মানুষের নজর। কারণ, সেখানকার অযোধ্যায়
রাম মন্দির নির্মাণ ও জাতিভিত্তিক কর্মকান্ড শীর্ষ প্রচারণা ইস্যুতে পরিণত
হয়েছে। এ সময়ে রাজ্যগুলোকে ওই রায়ের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি এবং তা
বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তাও বড় একটি বিষয়। পাঞ্জাবেও নির্বাচনী প্রচারণায়
প্রধান ইস্যুর মধ্যে উঠে এসেছে ধর্ম। এছাড়া সেখানে প্রচারণায় রয়েছে পবিত্র
জিনিসকে অপবিত্র করার বিষয়ও। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে বলেছে, বিপক্ষ
দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াইয়ে ধর্ম, বর্ণ, জাতি, গোষ্ঠী বা
ভাষাকে ব্যবহার করা যাবে না।
>>>মানবজমিন

No comments:
Post a Comment