একেক
করে বেসিন রিজার্ভের উইকেট দেখতে এলেন নিউজিল্যান্ড সফরে আসা বাংলাদেশের
অনেকেই। প্রথমে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন। এরপর বিসিবি ক্রিকেট
অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান। দ্বিতীয় ও তৃতীয় গ্রুপ এল
খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়ে। কোচিং স্টাফরাও বাদ যাননি। ওয়েলিংটন টেস্ট হচ্ছে
সবুজ পিচে। এটাই বাংলাদেশ দলের জন্য উদ্বেগের কারণ। নিজেদের আঙিনায় ভালো
খেলেছেন মুশফিকুররা। সেটি এবার দেশের বাইরে ছড়িয়ে দেয়ার চাপ তো রয়েছেই। তার
ওপর বিদেশে অনভ্যস্ত কন্ডিশনে কম খেলার কারণে ঘাটতি আছে আত্মবিশ্বাসেরও।
বাংলাদেশ এমনিতেই টেস্ট কম খেলে। বিদেশে তো আরো কম। তার ওপর যদি সবুজ পিচ
স্বাগত জানায়, তাহলে উৎকণ্ঠা তো হবেই। বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের।
বাংলাদেশ
দল এই মাঠে সর্বশেষ তিনটি টেস্টের স্কোর কার্ডের দিকে চোখ বুলালে
আশ্বান্বিত হতে পারে। বেসিন রিজার্ভে শেষ তিনটি টেস্টের তিন ইনিংসে ৫০০’র
বেশি রান হয়েছে। তাও ম্যাচের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইনিংসে। শেষ তিনটি ম্যাচের
প্রথম ইনিংসে এখানে সর্বোচ্চ রান ২২১। সুতরাং তামিম ইকবালদের হতাশ হওয়ার
কিছু নেই। মুশফিকুরকে তাই পিচ নিয়ে অত মাথা না ঘামিয়ে জোর দিতে হবে টস জয়ের
ওপর। সোজা হিসাব, টস জেতো এবং লম্বা সময় ধরে ব্যাট করে যাও। বাংলাদেশ
অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ঘরের মাঠের ধারাবাহিকতা অ্যাওয়ে টেস্ট ম্যাচেও ধরে
রাখার জন্য ব্যাটিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন। মুশফিকুর বলেন, ‘অ্যাওয়ে টেস্টেও
আমাদের লক্ষ্য ভালো খেলা। ঘরের মাঠের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। ভিনদেশের
কন্ডিশনে এখন নিজেদের প্রমাণ করার সময় এসেছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিতে হবে
ব্যাটসম্যানদের। আমাদের তামিম-সাকিব-মাহমুদউল্লাহরা এখানে অতীতে টেস্ট
ম্যাচে ভালো করেছেন। এখন ব্যাটসম্যানদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। যা
আমরা ওডিআই ও টি ২০ তে পারিনি।’ মুশফিকুর যোগ করেন, ‘আমাদের পক্ষেও ভালো
ব্যাট করা সম্ভব। আমরা সেই সামর্থ্য রাখি। সেটা করে দেখানোর সুযোগ এবার
আমাদের সামনে।
টেস্ট ম্যাচে বোলারদের কাজ সহজ করার জন্য ব্যাটসম্যানদের
ভূমিকা রাখতে হবে। এটাই আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। স্কোর বোর্ডে আমাদের
যথেষ্ট রান জমা করতে হবে। যাতে বোলাররা লড়াই করতে পারে।’ এবারের
নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ টেস্ট দলের সাতজন খেলোয়াড় এই ফরম্যাটে এরআগে
বিদেশে খেলেননি। তাদের মধ্যে সাব্বির রহমান, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসানের
মতো তরুণ প্রতিভাবান রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে তাই প্রত্যাশা কম। দায়িত্ব
নিতে হবে সিনিয়রদের। বিশেষ করে ব্যাটিং লাইনআপে তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর
রহিমের দায়িত্ব অনেক। সিমিং কন্ডিশনে মুশফিকুরের ব্যাটিং-টেকনিক দলের জন্য
গুরুত্বপূর্ণ। নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া টি ২০ টুর্নামেন্টে ওয়েলিংটন
ফায়ারবার্ডসের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তামিমের। তার কাছেও তাই প্রত্যাশা
বেশি। তাছাড়া নিউজিল্যান্ডের পেস আক্রমণ কীভাবে সামলানো হবে তার অনেকখানি
নির্ভর করবে ইমরুল কায়েস, মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসানের ব্যাটিংয়ের ওপর।
মুশফিকুর বলেন, ‘আমাদের বোলারদের আমরা বলেছি যে, একজন সেরা ব্যাটসম্যানেরও
আউট হতে মাত্র একটি বল লাগে। বোলারদের এখানে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কেননা
নিউজিল্যান্ডাররা জানে এখানকার কন্ডিশনে কীভাবে খেলতে হয়। আমরা ভিন্ন
কন্ডিশনে খেলছি। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে কোনো টেস্ট খেলিনি। এখানে পেসারদের
আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিতে হবে। দেশে টেস্ট ম্যাচে যে ভূমিকায় দেখা যায়
আমাদের স্পিনারদের। আমাদের পেসাররা যদি নিজেদের সেরাটা দেয়, তাহলে তারা ২০
উইকেট নিতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

No comments:
Post a Comment