Thursday, January 12, 2017

উন্নয়ন এগিয়ে, গণতন্ত্র পিছিয়ে

আজ ১২ জানুয়ারি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের তিন বছর পূর্তি হল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও কয়েকটি সমমনা দল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রায় একদলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়লাভ করে ওই বছরের ১২ জানুয়ারি সরকার গঠন করে। সরকারের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। তার এ ভাষণে গত তিন বছরে সরকারের কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণী থাকবে বলে আশা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী গত বছর এই দিনে তার সরকারের দু’বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন এবং সে ভাষণে তিনি ‘বিএনপি-জামায়াত জোট’-এর ‘সন্ত্রাসী’ কার্যকলাপের বর্ণনা দিয়েছিলেন; বিশ্বে বাংলাদেশকে ‘রোল মডেল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন; বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য-প্রযুক্তি, ক্রীড়াঙ্গন প্রভৃতি সেক্টরে উন্নয়নের বর্ণনা তুলে ধরেছিলেন; পররাষ্ট্র নীতির মূল বৈশিষ্ট্য- ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব,
কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’- উল্লেখ করে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান, ছিটমহল বিনিময়ে ১০ হাজার ৫০ একর জমি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে যোগ হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছিলেন। তবে কোনো খাতেই সরকারের ব্যর্থতার কোনো উল্লেখ তার ভাষণে ছিল না। পৃথিবীতে কোনো সরকারের পক্ষেই শুধু সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। সাফল্যের সঙ্গে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যর্থতা থাকবেই। তাই আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত মেয়াদের (২০০৯-১৩) কার্যাবলির ধারাবাহিকতায় দলটির বর্তমান সরকারের মেয়াদের তিন বছর পূর্তিতে সাফল্য ও ব্যর্থতার পর্যালোচনা করাই এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য। এটা অনস্বীকার্য, বিগত আট বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সারা দেশে বেশ কয়েকটি বৃহৎ আকারের এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য হাতে নিয়েছে, যা এর আগের সরকারগুলোর কাছে তেমন গুরুত্ব পায়নি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প, পদ্মা রেলসেতু সংযোগ প্রকল্প, দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার এবং রামু-ঘুমদুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (এমআরটি), পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্প, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোলফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প।
তাছাড়া বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ, সড়কপথে দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ও দ্রুতগতিসম্পন্ন করতে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের যানজটপূর্ণ ঢাকা-টাঙ্গাইল অংশকে চার লেনে উন্নীতকরণ, এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং ঢাকা মহানগরীর অসহনীয় যানজট নিরসনে গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের জন্য সরকারি বিনিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগের সরকারগুলোর সময় শুরু করা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের কিছু কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বর্তমান সরকারের আমলে। স্বাস্থ্য খাতে শিশুমৃত্যুর হার ১৪৬ থেকে নেমে এসেছে ৩৩-এ। মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি ১ লাখে হ্রাস পেয়ে ১৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এইচআইভি এইডস ও ম্যালেরিয়া বলা যায় নির্মূল হয়েছে। জনস্বাস্থ্য খাতে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশে, ২০০৪ সালে যা ছিল ৫২ শতাংশ। সুপেয় পানি গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৯৮ শতাংশ। এসবের ফলে চার দশক আগে যেখানে নারী-পুরুষ উভয়ের প্রত্যাশিত গড় আয়ুস্কাল ছিল ৪৪ বছর, এখন তা দাঁড়িয়েছে ৭০.৭ (পুরুষ ৬৯.১ এবং মহিলা ৭১.৬) বছরে। শিক্ষা ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে বিরাট সাফল্য এসেছে। প্রাথমিক শিক্ষার স্তরে বাংলাদেশ জেন্ডার বৈষম্য বিলোপ করে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে সংখ্যাসাম্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে লক্ষণীয় অগ্রগতি হয়েছে। আমাদের ছেলেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর বসেছিল।
২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আমাদের মেয়েরাও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুনাম অর্জন করেছে। বিগত আট বছরে প্রধান খাদ্যশস্য চাল উৎপাদনে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হারের ধারাবাহিকতা মোটামুটি বজায় থাকায় এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কিছুটা নিন্মমুখী হওয়ায় চালে দেশ স্বনির্ভরতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। জাতীয় পর্যায়ে দারিদ্র্যের হার ২০০৫ সালের ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ ২০১৫ সালে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে (সূত্র : বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৬)। দারিদ্র্য হ্রাস পাওয়ায় মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ লক্ষণীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিস্তারে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের রয়েছে সাফল্য। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ও আইটি ভিলেজ স্থাপনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের সর্বত্র দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত (২০০৯-১৩) মেয়াদে এবং চলতি মেয়াদের তিন বছরে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হলেও ব্যর্থতার তালিকা মোটেই ছোট নয়। বিশেষ করে গত তিন বছরে জনগণের বহু কাক্সিক্ষত গণতন্ত্র পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ ২৮টি দল ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন বয়কট করায় জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের ১৫৩টিতে সরকারি ও তাদের সহযোগী গুটিকয়েক দলসমর্থিত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদস্যপদ লাভ করেন। বিশ্বে গণতন্ত্রের ইতিহাসে পার্লামেন্টের মোট সদস্যের অর্ধেকের বেশি সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কোনো নজির নেই। ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনের পর ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র পচে গেছে’ বলে বিদেশের কোনো কোনো পত্রিকায় মন্তব্য করা হয়। ৭ জানুয়ারি (২০১৪) দেশে একটি দৈনিকের (মানবজমিন) প্রধান শিরোনাম ছিল ‘জিতেছে আওয়ামী লীগ, হেরেছে গণতন্ত্র।’ আর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের মতে,
গণতন্ত্র আর পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় নেই। গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে এবং তা এখন কবরে। শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান যথা- উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০১৪, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৫, পৌরসভা নির্বাচন ২০১৫ এবং চলতি বছরের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ইঙ্গিতে ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, ভোট কেন্দ্র থেকে বিরোধী দলগুলোর এজেন্টদের তাড়িয়ে দেয়া ইত্যাদি অনিয়মের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ মনোনীত-সমর্থিত প্রার্থীদের অধিকাংশের জয় নিশ্চিত করা হয়। পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্রের মডেলে ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আপাতত সমাপ্ত হয়েছে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন। শুধু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচনের বিধান করায় বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিরোধী দলগুলো এ নির্বাচন বর্জন করে। ফলে ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো দেশের প্রথম জেলা পরিষদ নির্বাচন সরকারি দলের অংশগ্রহণে একদলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় যে কোনো রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রয়েছে। আমাদের সংবিধানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ রাজধানীর যেখানে ইচ্ছে সেখানে মহাসমাবেশ, সমাবেশ করলেও বিরোধী দল বিএনপিকে রাজধানীর কোথাও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। এতে গণতন্ত্র বিকাশের পথ দুর্গম হয়ে উঠছে। ‘আগে উন্নয়ন, পরে গণতন্ত্র’- এ তত্ত্বে বিশ্বাসী হয়ে ওঠার মাধ্যমে শাসক দল আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের বিকাশ ও উন্নয়নের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। একদিকে শাসক দল উন্নয়নের নামে গণতন্ত্রকে দাবিয়ে রাখছে, অন্যদিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ দিবস পালন করছে। আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানকে বুড়ো অঙ্গুলি প্রদর্শন করে শাসক দল আওয়ামী লীগের বিগত মেয়াদে (২০০৯-১৩) দেশে প্রথমবার গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সূচনা হয়। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পালিত আইনশৃংখলা বাহিনীকে সরকার এ জঘন্য অপরাধ সংঘটনে ব্যবহার করছে বলে প্রকাশ্যে অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যের বরাত দিয়ে যুগান্তরের ৬ ডিসেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদন অনুসারে ৩ বছরে গুম হয়েছেন ১৯৬ জন। আর দেশের মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর তথ্য অনুযায়ী সদ্যসমাপ্ত বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে গুম হয়েছেন ৩৪ জন। এ হিসাবে ৪ বছরে গুম হয়েছেন ২৩০ জন। জনপ্রশাসনে পদোন্নতি, পদায়ন ইত্যাদিতে দলীয়করণ এ যাবৎকালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ৮ জানুয়ারি যুগান্তরের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সরকারের গত তিন বছরে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ে চার স্তরের পদে (সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব) পদোন্নতিতে অনিয়ম, দলীয়করণ ও পদায়নে বিশৃংখলার এক চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে প্রশাসনের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পদে মোট ১ হাজার ৮০০ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়। এতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন প্রায় দুই হাজার কর্মকর্তা। এ সময়ে গড়ে প্রতিবছর অন্তত ৩৫০ কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে রাখা হয়। এসব কর্মকর্তার অধিকাংশই বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ও ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত তিন বছরে প্রশাসনের উপর্যুক্ত চার স্তরে মঞ্জুরিকৃত ১ হাজার ৬১৬ পদের বিপরীতে আছেন ২ হাজার ৭৪১ কর্মকর্তা।
অর্থাৎ পদ ছাড়াই কর্মরত ১ হাজার ১২৫ জন। উল্লেখ্য, সংবিধানে (অনুচ্ছেদ ১৩৩) প্রজাতন্ত্রের কর্মে কর্মচারীদের (এখানে কর্মচারী বলতে কর্মকর্তাকেও বোঝাবে) নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলি নির্ধারণে জাতীয় সংসদ কর্তৃক আইন প্রণয়নের নির্দেশনা থাকলেও এবং আওয়ামী লীগ এ ধরনের আইন পাসের প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ পর্যন্ত তা পূরণ হয়নি। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ প্রথমবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়। পরবর্তী চার বছর বিএনপি আমলে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত দুর্নীতি সূচকে শীর্ষে অবস্থান করে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে পাঁচ বছর বিশ্বে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তকমা পায়। বর্তমানে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে শীর্ষ স্থানে না থাকলেও টিআই সূচকে তার অবস্থান হতাশাব্যঞ্জক। সবশেষে যা বলতে চাই তা হল, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি সঙ্গে ব্যর্থতাকে স্বীকার করে নিয়ে তা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। উন্নয়ন, গণতন্ত্র, সুশাসন যে হাত ধরাধরি করে চলতে পারে, উন্নত বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলো তার অকাট্য প্রমাণ। সরকার এসব দেশ থেকে সে শিক্ষা নিতে পারে।
আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক
latifm43@gmail.com

No comments:

Post a Comment