Sunday, January 22, 2017

মিরপুরে খানাখন্দের রাস্তায় পথ চলতে নাভিশ্বাস

রাজধানীর মিরপুরের ১১ নম্বরের ৫নং ওয়ার্ডের ১২নং রাস্তাটি অবহেলা, অযত্ন আর বেদখলের কবলে পড়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তায় খানাখন্দ তো আছেই, আছে উন্মুক্ত ড্রেনও। সরেজমিন দেখা যায়, এ রাস্তার কিছু কিছু স্থান এমন যে হেঁটে গেলে বুঝার উপায় নেই এটা খাল না রাস্তা। এই রাস্তাটির দুরবস্থা দীর্ঘদিন ধরে। মিরপুরের সাংবাদিক আবাসিক এলাকার পশ্চিম পাশে রাস্তাটির অবস্থান। রাস্তাটি শুরু হয়েছে মিরপুরের তালতলা মোড় থেকে। আর শেষ হয়েছে কালশী রোডে এসে। ৪নং ওয়াবদা বিল্ডিংয়ের রাবেতা ক্যাম্পের মানুষজনের পথ চলতে প্রতিনিয়ত পড়তে হচ্ছে নানান সমস্যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কর্তৃপক্ষকে অনেকবার জানানো হলেও সমস্যার কোনো সুরহা হয়নি। রাস্তাটিতে তিনটি স্থানে ময়লা-পানি জমে থাকে। দুটি স্থানে বড় গর্ত সেখান থেকে ময়লা (সুয়ারেজের) পানি উপচে ছড়িয়ে যাচ্ছে পুরো রাস্তায়। শীতের মৌসুমে এ রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলেও ময়লা-পানিতে পা ভিজে যায় পথচারীদের। বৃষ্টির মৌসুমে হাঁটার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
রাবেদা ক্যাম্পের রাস্তার নারী চা-দোকানি রেখা বেগম যুগান্তরকে বলেন, ‘এ রাস্তা ড্রেনের পানিতে ডুবে যায়। অন্য এলাকার সুয়ারেজের পানিতে রাস্তাটি ডুবে যায়। বৃষ্টির দিনে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। হাঁটু পানি হয়। আমার দোকান উচায় তাই পানি ওঠে না। অনেক লেখা হয়েছে এ রাস্তা নিয়ে কিন্তু কিছুই হয় নাই।’ এলাকার বাসিন্দা আবদুল সামাদ বলেন, ‘দুই বছর ধরে রাস্তাটি ঠিক করা হয় না। আমরা আশায় আছি রাস্তার কাজ ধরবে।’ পথচারী মো. মিঠুন যুগান্তরকে বলেন, ‘এই রাস্তার এত খারাপ অবস্থা বয়স্করা হাঁটাচলা করতে পারেন না। আমাদের এখানে কোনো মেহমান আসতে চান না এই রাস্তার কারণে।’ রাস্তার পাশের সেলুন দোকানের নরসুন্দর মো. আরমান বলেন, ‘বহুত টিভি চ্যানেল আসে বহুত কিছু ভিডিও করে নিয়ে গেছে। টিভিতেও দেখাইছে। কিন্তু রাস্তা তো আর ঠিক হয় নাই। আপনে আর লিখে কী করবেন?’ এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুর রউফ নান্নু যুগান্তরকে বলেন, আমার ওয়ার্ডের সব রাস্তা ঠিক করা হয়েছে। বর্তমানে সাংবাদিক আবাসিক এলাকার রাস্তার কাজ চলছে। এ রাস্তার কাজ শেষ হলে রাবেদা ক্যাম্পের (৪নং ওয়াবদা বিল্ডিং) ১২নং রাস্তার কাজ ধরা হবে। আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। বর্ষার মৌসুমে কোনো কাজ হবে না, শীতকালেই রাস্তার কাজ হবে।’

No comments:

Post a Comment