Wednesday, January 25, 2017

সেনবাগে ১১৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ড্রেসের নির্দেশ

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের একক সিন্ধান্তে সেনবাগে ১১৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পূর্বের ড্রেসপরিবর্তন করে নতুন (রং) ডিজাইনের স্কুল ড্রেস তৈয়ারীর নির্দেশ করায় ২৫হাজার শিক্ষার্থীর পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এই নিয়ে সেনবাগের সর্বত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সুষ্টি হয়েছে। সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আলমের আর্কশ্মিক ওই সিন্ধান্তে দিশেহারা অভিভাবকরা জানায়-তাদের মধ্যে অনেকে তাদের সন্তানদের জন্য ডিসেম্বর মাসে আগের পোশাকের সাথে মিল রেখে নতুন স্কুল ড্রেস সেলাই করে ফেলেছেন। কিন্তু এখন তাদের সন্তান ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে গেলে সেখান থেকে তাদের বলে দিচ্ছেন উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ আগের পোষাক (স্কুল ড্রেস) চলবেনা। নতুন ড্রেস পরে স্কুলে আসতে হবে।
নইলে ক্লাশে ডুকতে দিবেনা। এরেই মধ্যে দেখা গেছে যারা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নিধারিত স্কুল ড্রেস পরে যারা বিদ্যালয়ে গেছেন তাদেরকে সামনে বেঞ্চে ও যারা পূর্বের (আগের ড্রেস) পরে বিদ্যালয়ে গেছে তাদেরকে পিছনের টেবিলে বসতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে করে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মানুষিক বিকাশে বাধাগ্রস্থত হচ্ছে। সেনবাগে অভিজ্ঞ মহল,অভিভাবকদের দাবী নির্বাহী অফিসারের আর্কশ্মিক ওই সিন্ধান্তটি স্থগিত অথবা বাতিল করে আগের নিধারিত পোষাকে ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাবার অনুমতি প্রদানের জন্য। এব্যাপারে যোগাযোগ করলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েক জন প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান-তাদের শিক্ষকতা জীবনে নিজ বিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত শতভাগ পোষাক (স্কুল ড্রেস) বাস্তবায়ন করতে পারেননী। কিন্তু বর্তমান নির্বাহী অফিসার ্এবছর ২০১৭ সাল থেকে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের গোলাপী জামা ও নিল প্যান্ট/পায়জামার রং নিধারণ করে দেয়। কিন্তু আগের ছেলেদের সাদা শার্ট নেভী ব্লুল প্যান্ট। মেয়েদের আকাশী জামা ও সাদা পায়জামা ও সাদা স্কার্ফ ছিলো। কিন্তু নির্বাহী অফিসার উপলেলা শিক্ষা কমিটি,বিদ্যালয়ের শিক্ষক,পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদের কোন প্রকার মতামত না নিয়েই স্কুল ড্রেসের নতুন রং নির্ধারণ করেন। আগের পোষাকের সঙ্গে মিল রেখে ড্রেস নিধারণ করলে শতভগ অর্জন করা যেত। কয়েক জন অভিভাবক জানান প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর জন্য নতুর ডিজাইনের স্কুল ড্রেস তৈয়ার করতে নুন্যতম ১হাজার থেকে ১২শতটাকা লাগে একটি পরিবারের তিনজন পর্যন্ত ছেলে মেয়ে বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। সেনবাগের মতো একটি অনউন্নত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠিত এলাকায় আগের স্কুল ড্রেসের রং পরিবর্তন করে নতুন ড্রেস নির্ধারণ রিতিমত অভিভাবকদের সঙ্গে তামাশা করা মতো। কেশারপাড় ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান-বিগত দুই বছর আগে তাদেও গ্রামের খাজুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী শারমিন আক্তার স্কুল থেকে বাড়িতে গিয়ে খাবার না পেয়ে অভিমান কওে আতœহত্যা করেছিলো।
ওই বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তোলপাড় হয়েছিলো। যেখানে অভিভাবক তাদরে সন্তানদের মুখে ভাত তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে নতুন রংএর স্কুল ড্রেস বিলাশিতা ছাড়া কিছুইনা। এব্যাাপারে যোগাযাগ করলে সেনবাগ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যার ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি আবেুল কালাম আজাদ জানান-তিনি উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি, এবিষয়ে পরিষদের কোন সভায় স্কুল ড্রেস পরিবর্তনের কোন সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। এটি নির্বাহীর একক সিন্ধান্ত। এব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহীন আক্তার কানন ,ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মালেক ও আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও কিছুই জানেননা বলে জানান। এবিষয়ে নির্বাহী অফিসারের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে ০১৮৫০৯২৬৩৩৬এ নম্বওে একাধিক বার কল করলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। উল্লেখ্যঃ বিগত দুই বছর আগে খাজুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী শারমিন আক্তার স্কুল থেকে বাড়িতে গিয়ে খাবার না পেয়ে অভিমান করে আতœহত্যা করেছিলো। ওই বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তোলপাড় হয়েছিলো।এরপর জেলা প্রসাশনের পক্ষ থেক্ষে প্রতিনিটি বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করে। এখন কথা হচ্ছে যেখানে অভিভাবকরা তাদরে সন্তানদের মুখে ভাত তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে নতুন রংএর স্কুল ড্রেস কতটুকু যুক্তি যুক্ত তা প্রশাসনকে ভেবে দেখার প্রয়োজন।

No comments:

Post a Comment