Wednesday, January 25, 2017

কোম্পানীগঞ্জে মাটিচাপায় নিহত দুই শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে অবৈধভাবে টিলা কেটে পাথর তোলার সময় মাটিচাপায় নিহত দুই শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত শ্রমিক ও স্থানীয়দের বর্ণনা মতে, এ ঘটনায় নিহত আরও ৪ শ্রমিকের লাশের হদিস মেলেনি। ফলে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি পুরোপুরি দূর হয়নি। এদিকে মাটিচাপায় ৬ শ্রমিক নিহত ও লাশ গুমের অভিযোগ তদন্তে নেমেছে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের দুটি কমিটি। মঙ্গলবার তারা সরেজমিন তদন্ত করতে যান।
এ সময় প্রত্যক্ষদর্শী ও আশপাশের লোকজন ৬ শ্রমিক নিহত হওয়ার তথ্য দেন। সোমবার ভোরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলা (শারিপন টিলা) খুঁড়ে পাথর তোলার সময় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশকে না জানিয়ে শ্রমিকদের লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠে সংশ্লিষ্ট পাথর ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। সিলেট জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহেদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মাটিচাপায় ৬ শ্রমিক নিহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে লাশ উদ্ধার হয়েছে দুটি। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে না জানিয়ে গুমের উদ্দেশ্যে সরিয়ে নেয়া দুটি লাশ নেত্রকোনার পূর্বধলায় আটক হয়েছে। এ ব্যাপারে হত্যা মামলা দায়ের হবে। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জের দোয়ারার দু’জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে। দুটি তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সরেজমিন তদন্ত করে আরেফিন টিলায় যান।
বিকাল ৪টা পর্যন্ত তদন্ত করেন। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা মাটিচাপায় ৬ শ্রমিক নিহত হওয়ার বিষয়টি তদন্ত দলকে জানান। তারা দেখতে পান, পাহাড় খুঁড়ে তৈরি করা কূপগুলোর পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পরিবেশ বিধ্বংসী বোমা ও শ্যালো মেশিন। এ সময় অভিযান চালিয়ে ১১টি শ্যালো মেশিন ও একটি বোমা মেশিন ধ্বংস করা হয়। এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, শাহ আরেফিন টিলা কেটে মৃত্যুকূপ তৈরি করে একের পর এক মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটিয়ে আসা পাথরখেকোরা এবার রেহাই পাবে না। তাদের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তিনি শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এ সময় তদন্ত কমিটির সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুুম বিল্লাহ, জেলা কালেক্টরেটর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী ও কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বায়েছ আলম উপস্থিত ছিলেন। যুগান্তরের পূর্বধলা প্রতিনিধি নুর আহাম্মদ খান রতন জানান, কো¤পানীগঞ্জ উপজেলায় সোমবার শাহ আরেফিন টিলায় দু’জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
তারা হচ্ছেন পূর্বধলা উপজেলার আবদুল কুদ্দুস (৩০) ও খোকন মিয়া (৩২)। নিহত কুদ্দুস উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের আমজত আলীর ছেলে ও খোকন মিয়া উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের জাগির গ্রামের মৃত জয়মত আলীর ছেলে। পূর্বধলা থানার ওসি অভিরঞ্জন দেব যুগান্তরকে বলেন, সিলেটের প্রশাসনকে না জানিয়ে পাথর ব্যবসায়ীরা গোপনে পাথর শ্রমিক আবদুল কুদ্দুস ও খোকন মিয়ার লাশ নিয়ে আসে। সিলেটের পুলিশের মেসেজ পেয়ে আমরা তাদের বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করি। লাশ দুটি উদ্ধার করে আমরা ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠাই। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকালে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment