মাথায়
বাউন্সারের আঘাতে ফিল হিউজের করুণ মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা
ক্রিকেটবিশ্বকে। তখনই বাউন্সার নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছিল। কিন্তু পেস
বোলারদের অন্যতম কার্যকর এই অস্ত্রটিকে অবৈধ ঘোষণা করার বিপক্ষেও অবস্থান
নিয়েছিলেন অনেকে। বিপজ্জনক এ অস্ত্রের বৈধতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠল কাল।
ওয়েলিংটন টেস্টের শেষদিনে কিউই পেসার টিম সাউদির বাউন্সারের আঘাতে মাটিতে
লুটিয়ে পড়েন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। বল আঘাত করেছিল তার হেলমেটের
পেছনের দিকে। অ্যাম্বুলেন্সে তার মাঠ ছাড়ার ছবিটা সবার বুক কাঁপিয়ে
দিয়েছিল। ভাগ্য ভালো যে, শেষ পর্যন্ত কোনো অঘটন ঘটেনি। আঘাত গুরুতর না
হওয়ায় হাসপাতালে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখার পর মুশফিককে ছেড়ে দেন
চিকিৎসকরা। বাউন্সারের আঘাতে ব্যাটসম্যানদের এভাবে আহত হওয়ার অনেক নজির
রয়েছে।
তারপরও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বাউন্সারের পক্ষেই অবস্থান
নিল বাংলাদেশ। শর্ট বলকে পেসারদের বৈধ অস্ত্র হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশের
সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। প্রায় চারদিন চালকের
আসনে থেকেও ওয়েলিংটন টেস্টে নিজেদের অভাবনীয় হারের জন্য চোট-দুর্ভাগ্যকে
দায়ী করতে নারাজ তামিম। দ্বিতীয় ইনিংসে আঙুলের চোট নিয়েই চোয়ালবদ্ধ লড়াই
চালিয়ে যাচ্ছিলেন মুশফিক। কিন্তু বাউন্সারের ছোবলে ১৩ রানে ‘রিটায়ার্ড
হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়ার পর আর ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি তিনি। মুশফিক ক্রিজে
থাকলে হয়তো বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস এত দ্রুত গুটিয়ে যেত না। সেক্ষেত্রে
ম্যাচটা ড্র হতে পারত। কিন্তু এ নিয়ে আফসোস না করে অবাক হারের জন্য দ্বিতীয়
ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই দায়ী করলেন তামিম। কাল শুরু থেকেই কিউই
বোলারদের মূল অস্ত্র ছিল শর্ট বল। স্বাগতিকদের এই কৌশল নিয়ে কোনো আপত্তি
নেই তামিমের, ‘এটা খেলারই অংশ। এ নিয়ে আপনি অভিযোগ করতে পারেন না। সম্ভবত
নিউজিল্যান্ডের কৌশলই ছিল এটা। শর্ট বল নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই।
আমি
নিশ্চিত, মুশফিক ভাইও এ নিয়ে কোনো অভিযোগ করবেন না। যখন তারা বাংলাদেশে
আসে, আমরা সারা দিন স্পিন বোলিং করি। কারণ আমরা জানি, স্পিন খেলতে তাদের
সমস্যা হয়। এখানে একইভাবে তারা তাদের সেরা অস্ত্র ব্যবহার করবে, এটাই
স্বাভাবিক।’ ঝড়ো সেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ডকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়ার পর
একই কথা বললেন কিউই অধিনায়ক উইলিয়ামসন। তবে মুশফিক আহত হওয়ায় আন্তরিকভাবেই
দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি, ‘ব্যাটসম্যানদের আউট করার একটি কৌশল এটা। কিন্তু
শর্ট বলে কেউ আঘাত পেলে সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। মুশফিকের জন্য আমার সত্যিই
খারাপ লাগছে। এভাবে তার চোট পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই বড় আঘাত ছিল।
বোলাররা দারুণভাবে আমাদের ম্যাচে ফিরিয়েছে। তাদের কাজ তারা ঠিকঠাক মতো
করেছে। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সে করে কারও মাঠ ছাড়াটা অবশ্যই কাম্য নয়। এমন
দৃশ্য কেউই দেখতে চায় না। এখন সে ভালো আছে জেনে খুব ভালো লাগছে।’
টেস্টে বড় সংগ্রহেও হার
দল স্কোর প্রতিপক্ষ ভেন্যু সাল
বাংলাদেশ ৫৯৫/৮ নিউজিল্যান্ড ওয়েলিংটন ২০১৭
অস্ট্রেলিয়া ৫৮৬ ইংল্যান্ড সিডনি ১৮৯৪
পাকিস্তান ৫৭৪/৮ অস্ট্রেলিয়া মেলবোর্ন ১৯৭২
অস্ট্রেলিয়া ৫৫৬ ভারত অ্যাডিলেড ২০০৩
বাংলাদেশ ৫৫৬ ওয়েস্ট ইন্ডিজ মিরপুর ২০১২
টেস্টে বড় সংগ্রহেও হার
দল স্কোর প্রতিপক্ষ ভেন্যু সাল
বাংলাদেশ ৫৯৫/৮ নিউজিল্যান্ড ওয়েলিংটন ২০১৭
অস্ট্রেলিয়া ৫৮৬ ইংল্যান্ড সিডনি ১৮৯৪
পাকিস্তান ৫৭৪/৮ অস্ট্রেলিয়া মেলবোর্ন ১৯৭২
অস্ট্রেলিয়া ৫৫৬ ভারত অ্যাডিলেড ২০০৩
বাংলাদেশ ৫৫৬ ওয়েস্ট ইন্ডিজ মিরপুর ২০১২

No comments:
Post a Comment