Tuesday, January 17, 2017

ব্যাটসম্যানদের কারণে হেরেছি

ক্রিকেটে শেষ বলে কিছু নেই। প্রায় চার দিন প্রাধান্য বিস্তার করেও শেষদিনের বিপর্যয়ে ওয়েলিংটন টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছে সাত উইকেটে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৫৯৫/৮-এ ইনিংস ঘোষণা করেছিল। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ইনিংসে এত বেশি রান করে হারেনি আর কোনো দল। অভাবনীয় এই হারের কারণ হিসেবে সিনিয়র ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীন ব্যাটিংকেই দায়ী করলেন সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। কাল যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘সব ধরনের ফরম্যাটেই আমরা উন্নতি করছি। বিদেশের মাটিতেও আমরা এখন ভালো করছি। ওয়েলিংটন টেস্টে তো প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করেছি। কিন্তু সিনিয়ররা আরেকটু দায়িত্ব নিয়ে খেললে এ ম্যাচটা অন্তত ড্র হতে পারত। এ ম্যাচে হারাটা ভীষণ হতাশার।’ প্রথম ইংনিসে ডাবল সেঞ্চুরি করার পর সাকিব আল হাসান দ্বিতীয় ইনিংসে শূন্যরানে আউট হয়েছেন। ইতিহাসের সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবলের পর শূন্যরানে আউটের শিকার হলেন তিনি। সিনিয়রদের ব্যাটিংয়ের ধরনকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মনে করছেন গাজী আশরাফ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘ম্যাচটা হেরেছি সিনিয়র ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীনতার কারণে। সাকিব একেবারেই কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে শট খেলেছে। ওই সময়ে তার কাছ থেকে এমন শট কোনোভাবে আশা করা যায় না। মুমিনুলের আরও বেশি সংযত হয়ে খেলা উচিত ছিল।’ তিনি বলেন, ‘সাব্বিরের আউটটা একেবারে আত্মহত্যার মতো। ওই সময়ে সে-ই ছিল একমাত্র ব্যাটসম্যান। যেভাবে ফিল্ডিং সাজিয়েছিল তারা, সেটা দেখলেই বোঝা যাচ্ছিল সাব্বিরকে লক্ষ্য করেছে। কিন্তু তার আউটটাই সবচেয়ে বাজে লেগেছে। সাব্বির থাকতে পারলে আরও কিছু ওভার খেলে আসতে পারত। কিছু রানও হতো। টেস্টে যদি এটুকু পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করা না যায়, তাহলে কীভাবে হবে?’ দুই সতীর্থের চোট-দুর্ভাগ্য পরিস্থিতি কোনো কিছুই বিবেচনা না করে আত্মঘাতী শট খেলে গেছেন ব্যাটসম্যানরা। এই সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘এ টেস্টে ইনজুরি ঘাতক। কিন্তু ইমরুল ও মুশফিকের ইনজুরি বাদ দিলেও ম্যাচটা ড্র করা সহজ ছিল। যে রানটা আমাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, সেটা কেন নিতে যাব? এ রান নিতে গিয়েই তো ইমরুল ইনজুরিতে পড়েছে। মুশফিকও দেখলাম চোট নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রান নিতে যাচ্ছে। শরীর যখন আনফিট, তখন পরিস্থিতি তো বিবেচনা করতেই হবে।’ খেলোয়াড়দের নিজের কাজটা কখন কী হবে সেটাও ঠিক মতো বোঝানো হয়েছে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে সাবেক এ অধিনায়কের। তার কথায়,
‘চতুর্থ দিনে মেহেদি হাসানকে নাইটওয়াচ ম্যান হিসেবে ব্যাটিংয়ে পাঠানো হয়েছে। সে কি নাইটওয়াচ ম্যানের অর্থ জানে? তার কাজটা কী হবে? ১০টা বল ঠেকানোর যেমন মানসিকতা থাকতে হবে, তেমনি এক রান নিয়ে মূল ব্যাটসম্যানকেও খেলতে দিতে হবে। দেখলাম সেও ডাবল নিতে গেল, তাতে আউটও হয়েছে। মিরাজ আগেরদিন আউট হওয়ার পর শেষদিনে শেষদিকে সাব্বিরও ভালো কাউকে পায়নি। বাংলাদেশের ব্যাটিং পরিকল্পনাই ঠিক হয়নি।’ অনভিজ্ঞ বোলারদের ভিড়ে অভিজ্ঞ রুবেল হোসেন কেন একাদশের বাইরে? এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘রুবেল হোসেনকে কেন ড্রেসিংরুমে বসে থাকতে হবে? সে টি ২০তে ভালো করেছে। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ পেসার। সেখানে তিনজন আনকোরা পেসার নিয়ে ঝুঁকিতে পড়ার কী দরকার? এ ম্যাচে সাকিব ছাড়া আর কোনো অভিজ্ঞ বোলারই ছিল না। বিদেশের মাটিতে অনভিজ্ঞ বোলার নিয়ে ভালো করা খুব কঠিন।’ বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ৫৯৫/৮ ডিক্লেয়ার (তামিম ৫৬, মুমিনুল ৬৪, সাকিব ২১৭, মুশফিক ১৫৯, সাব্বির ৫৪*। বোল্ট ২/১৩১, সাউদি ২/১৫৮, ওয়াগনার ৪/১৫১)। নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস ৫৩৯ (লাথাম ১৭৭, উইলিয়ামসন ৫৩, টেলর ৪০, নিকোলস ৫৩, ওয়াটলিং ৪৯, স্যান্টনার ৭৩। শুভাশিস ২/৮৯, কামরুল ইসলাম ৩/৮৭, সাকিব ২/৭৮, মাহমুদউল্লাহ ২/১৫)।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস
রান বল ৪ ৬
তামিম ব স্যান্টনার ২৫ ৪৪ ২ ০
ইমরুল নটআউট ৩৬ ৪৬ ৫ ১
মুমিনুল ক গ্র্যান্ডহোম ব ওয়াগনার ২৩ ৩৭ ৩ ০
মাহমুদউল্লাহ ক ওয়াটলিং ব ওয়াগনার ৫ ৯ ০ ০
মেহেদী রানআউট ১ ৮ ০ ০
সাকিব ক উইলিয়ামসন ব স্যান্টনার ০ ৫ ০ ০
সাব্বির ক ওয়াটলিং ব বোল্ট ৫০ ১০১ ৯ ০
মুশফিক রিটায়ার্ড নটআউট ১৩ ৫৩ ১ ০
তাসকিন ব বোল্ট ৫ ২৩ ১ ০
কামরুল ক গ্র্যান্ডহোম ব সাউদি ১ ১৪ ০ ০
শুভাশিস ব বোল্ট ০ ৮ ০ ০
অতিরিক্ত ১
মোট (অলআউট, ৫৭.৫ ওভারে) ১৬০
উইকেট পতন : ০-৪৬* (ইমরুল, রিটায়ার্ড নটআউট), ১/৫০, ২/৬৩, ৩/৬৬, ৪/৬৬, ৫/৯৬, ৫-১১৪* (মুশফিক, রিটায়ার্ড নটআউট), ৬/১৩৭, ৭/১৪৮, ৮/১৫২, ৯/১৬০।
বোলিং : বোল্ট ১৩.৫-৩-৫৩-৩, সাউদি ১৩-৫-৩৪-১, স্যান্টনার ১৬-৫-৩৬-২, ওয়াগনার ১৫-৩-৩৭-২।
নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস
রান বল ৪ ৬
লাথাম ব মেহেদী ১৬ ৩২ ১ ০
রাভাল ক ও ব মেহেদী ১৩ ২৯ ১ ০
উইলিয়ামসন নটআউট ১০৪ ৯০ ১৫ ০
টেলর ক মেহেদী ব শুভাশিস ৬০ ৭৭ ৬ ০
নিকোলস নটআউট ৪ ১০ ১ ০
অতিরিক্ত ২০
মোট (৩ উইকেটে, ৩৯.৪ ওভারে) ২১৭
উইকেট পতন : ১/৩২, ২/৩৯, ৩/২০২।
বোলিং : কামরুল ইসলাম ৭-০-৩১-০, মেহেদী হাসান ১১.৪-০-৬৬-২, সাকিব ১০-০-৩০-০, তাসকিন ৬-০-৩৮-০, শুভাশিস ৫-০-৩২-১।
ফল : নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : লাথাম (নিউজিল্যান্ড)।

No comments:

Post a Comment