Sunday, January 29, 2017

অন্ধকারে রাঙ্গাবালীর দেড় লক্ষ মানুষ

বাংলাদেশের আনাচে কানাচে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। গ্রাম গঞ্জগুলোকে নেয়া হয়েছে পল্লী বিদ্যুতের আওতায়। কিন্তু বিদ্যুতের আলো আজও পৌঁছেনি বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায়। পাঁচ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলার দেড় লক্ষাধীক মানুষ কাঁদে বিদ্যুতের জন্য। বিদ্যুতের দাবী এখন সবার মুখে মুখে। সন্ধা ঘনিয়ে আসলেই ভূঁতুরে এলাকায় পরিনত হয়। সম্ভল হয় হেরিকেন ও কেরোসিনের কুপি বাতি। সৌর বিদ্যুতের কিছুটা ছোয়া লাগলেও তা উচ্চমূল্যের কারণে সাধারন মানুষের ব্যাবহার অসম্ভব। কৃষি ও মৎস্য সম্পদ উৎপাদনশীল এলাকা রাঙ্গাবালী। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বাগদা, গলদা চিংরি উৎপাদিত হয় এখানে। এছাড়াও প্রচুর ইলিশ সম্পদ এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করা হয়। নেই কোন বরফ কল, নেই কোন হিমাগার। বিদ্যুতের অভাবে বরফ কল ও হিমাগার কারা সম্ভব হচ্ছেনা এখানে। বরফ সংগ্রহ করতে হয় বরিশাল, পটুয়াখালী, গলাচিপা, কলাপাড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে।
মাঝে মধ্যে মাছ পঁচে গিয়ে লোকসান গুনতে হয় জেলে সহ মৎস্য ব্যাবসায়ীদের। হিমাগারের আভাবে কৃষি সম্পদ রক্ষনাবেক্ষন করতে না পারায় কম দামে বিক্রি করতে হয় কৃষকদের। সমস্ত আধুনিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এ উপজেলার মানুষ। চাষাবাদ, ব্যবসা-বাণিজ্য সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন বিদ্যুতের। আর সে জায়গা থেকেই অনেক পিছিয়ে পড়েছে এই উপজেলা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবাগুলো জেনারেটরে চলে যা অত্যন্ত ব্যয় বহুল। সরকার দ্রুত এই উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেবে এমনটা প্রত্যাশা স্থানীয়দের। রাঙ্গাবালী সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন খান নয়াদিগন্তকে বলেন, কৃষি ও মৎস্য সম্পদ উৎপাদনশীল এ উপজেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় অর্থনীতিতে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) এবিএম সাদিকুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সরকারী কোন সিদ্ধান্ত আমার জানানেই।

No comments:

Post a Comment