প্রতিবছর
দর্শনা আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যাতায়াত কারি
পাসপোর্ট যাত্রী ও ভ্রমনকারির সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে সরকারের
রাজস্ব। কিন্তুু বাড়ছেনা অবকাঠামো ও যাত্রীদের সুযোগ সুবিধা। জাইগার অভাবে
ইমিগ্রেশন পুলিশের বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ণ কাজ কাস্টমস্ ভবনের বারান্দায় বসে
সেরে নিতে হয়,,আর যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয় ভ্যান, রিকশা ও চায়ের দোকানে
বসে। নেই মান সম্মত হোটেল, রেস্তোরা, নেই ব্যাংকের কোন বুথ। ডিজিটাল যুগে
নেই আধুনিকতার ছোঁয়া। জানা যায় ১৯৪৭ সালের পর থেকে চুয়াডাঙ্গা মহাকুমা এর
অধিন দামুড়হুদার সীমান্ত শহর দর্শনা চেকপোস্টের মাধ্যমে কার্যক্রম চালু হয়।
প্রথম দিকে যাত্রীবাহি ট্রেন চালু থাকলেও ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর ৬
সেপ্টেম্বর ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পুনরায়
কার্যক্রম শুরু হলে উভয় দেশের সুবিধার জন্য চেকপোস্টটি ১৯৮৭ সালের দিকে
জয়নগর নেয়া হয়। সে থেকে এখন পর্যন্ত ৩ কামরা বিশিস্ট একটি ভবনেই কাস্টমস,,
ইমিগ্রেশন ও পাসপোস্ট যাত্রীদের চেকআপ ও মেডিক্যালের কাজটিও খোলা বারান্দায়
করা হয়। স্ক্যান মেশিন দিয়ে দেহ বা ব্যাগ তল্লাশির নিয়ম থাকলেও এখানে সে
মেশিন নেই। ভি আই পি কোন যাত্রী এখান দিয়ে যাতায়াত করলে কাস্টমস বা
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার চেয়ার ছেড়ে দিয়ে অতিথিকে বসতে দিতে হয়। অন্যান্য
যাত্রীদের দাড়িয়ে বা চা দোকানে,অথবা ভ্যান রিকশায় বসে গল্প করে সময় পার
করতে হয়। খাবারের বা থাকার কোন হোটেল নেই, নেই ব্যাংকের বুথ। চেক পোস্টের
একটি সুত্রে জানা যায় ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ভারতে
গেছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৩৮ জন পাসপোর্ট যাত্রী। ভারত থেকে এসেছেন ৯৯ হাজার ৭ শ
৭১ জন।
রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার টাকা।২০১৫ থেকে ২০১৬ সাল
পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট যাএী ভারত গেছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৭ শ ৭০ জন।
ভারত থেকে এসেছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ১ শ ৩৩ জন। রাজস্ব আয় হয়েছে ৬ কোটি ৪৩
লাখ ৩৫ হাজার টাকা। বিগত বছর গুলোতে যাত্রী সংখ্যা সামান্য কম থাকলেও
সরকারের রাজস্ব ঠিকই আদায় হয়েছে। এ চেকপোস্ট দিয়ে অধিকাংশ যাত্রীই চিকিৎসার
জন্য যায়,বাকি যায় ভ্রমনের জন্য। কিন্তুু যাত্রীদের বসা বা বিশ্রামাগার না
থাকায় তারা দাড়িয়ে রোদে পুড়ে বৃস্টিতে ভিজে নাজেহাল হয়ে সীমান্ত পার হতে
হয়। কিন্তুু যাত্রী বা ভ্রমনকারিদের স্পস্ট অভিযোগ সরকারি ট্যাক্স দিয়ে এবং
উভয় দেশের অনুমতি নিয়েই আমরা যাতায়াত করছি তবে কেনো দর্শনা চেকপোস্টে
যাত্রীদের যাত্রী ছাউনি বা বিশ্রামাগার ও আধুনিকতার কোন ছোঁয়া নেই।
যাত্রীদের দাড়ানো যায়গায় চলছে ইমিগ্রেশন ও মেডিক্যাল চেকাপের কাজ। হাত দিয়ে
মুখ দেখে চলছে ব্যাগ ও দেহ তল্লাশির কাজ। এ সব সমস্যার বিষয়ে ইমিগ্রেশন
ওসি শেখ মাহাবুব হাসান এর সাথে কথা হলে তিনি জানান ইমিগ্রেশনের জন্য ৪০ শতক
এবং কাস্টমসের জন্য ৪০ শতক জমি রয়েছে। কাস্টমস নিজস্ব ভবনে কাজকর্ম করলেও
ইমিগ্রেশন ভবন নির্মান করতে পারেনি। তবে গত বছর সংশ্লিস্ট মন্ত্রনালয়ের
অর্থায়নে ৬ তলা বিশিস্ট ইমিগ্রেশন ভবন নির্মানের জন্য ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা
বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। তবে কবে নাগাত ভবন নির্মানের কাজ হতে পারে তা আমাদের
জনা নাই। তবে যত দিন যাছ্চে ততই এ রুটে যাত্রী সংখ্যা বাড়ছে সাথে সাথে
সরকারের রাজস্ব বাড়ছে।

No comments:
Post a Comment