ইংল্যান্ডে
আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত স্বয়ংসম্পূর্ণ সবুজ গ্রাম তৈরি হচ্ছে। এর নাম
দেয়া হচ্ছে বাগিচা গ্রাম (গার্ডেন ভিলেজ)। পুরনো বিমানবন্দর, পতিত ভূমি
কিংবা গ্রিন বেল্ট ল্যান্ডকে এ বাগিচা গ্রামের আওতায় আনা হবে। দেশটির আবাসন
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোট ১৪টি ভিলেজ গার্ডেনে ৪৮ হাজার বাড়ি থাকবে।
সোমবার গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রচলিত ছোট শহর কিংবা গ্রামকে
প্রসারিত করে বাগিচা গ্রাম তৈরি হবে না। বরং ওটাকেই সব নাগরিক সুবিধার
সমন্বয়ে স্বতন্ত্র স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ইংল্যান্ডের কর্নওয়াল থেকে
কামব্রিয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। অনুমোদিত এসব
স্থানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও আর্থিক অনুদান হিসেবে
৬০ লাখ পাউন্ড প্রদান করা হবে। আকারভেদে প্রতিটি গ্রামে ১৫০০ থেকে ১০
হাজার বাড়ি থাকবে। ব্রিটিশ আবাসনমন্ত্রী গ্যাভিন বারওয়েল বলেছেন, উন্নত এসব
গ্রামের নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় নেতাদের হাতে থাকবে।
কেন্দ্রীয় সরকার সেখানে
হস্তক্ষেপ করবে না। তিনি আরও জানান, নতুন এসব গ্রামে কেবল বাড়িই নির্মিত
হবে না, বরং কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা হবে। নতুন নতুন স্থাপনা ও প্রকল্পের
মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। বাগিচা গ্রামের জন্য অনুমোদিত
একটি স্থান হচ্ছে পুরনো ডিনেথ্রোপ বিমানবন্দর। করবির পাশে ৬০০ একরের এ
জায়গায় ১০ হাজারের বেশি বাড়ি নির্মিত হবে। থাকবে সবুজ বনায়ন প্রকল্প,
শপিংমল ও কমিউনিটি হল। আরেক স্থান ডান্টন হিলে ২৫০০ বাড়ি নির্মিত হবে এবং
নতুন জিপসি ও ট্রাভেলার পিচ থাকবে। কর্নওয়ালের ওয়েস্ট কারক্লেজে জ্বালানি
সক্ষমতার ১৫০০ বাড়ি নির্মিত হবে। এখানকার বাড়িগুলোতে সহজ ও সাশ্রয়ী উপায়ে
নাগরিক প্রয়োজন মেটানো যাবে। ৪০০ শিশুর শিক্ষাদান উপযোগী একটি প্রাইমারি
স্কুলও থাকবে। ডেভেলপাররা জানিয়েছেন, সৌর প্রযুক্তিতে ৩৫০ হেক্টর জায়গাজুড়ে
সবুজ হেরিটেজ পার্ক থাকবে। এছাড়া এ পরিকল্পনায় স্কাই টিপ রাখা হয়েছে। গত
বছর ব্রিটেনের সাবেক অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবোর্নের উদ্যোগে এ বাগিচা গ্রাম
প্রকল্প গৃহীত হয়। তবে স্থানীয় কাউন্সিলরদের অনেকেই এ প্রকল্পে উদ্বেগ
জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে ঐতিহাসিক অনেক স্থানের চরিত্র বদলে যেতে পারে।

No comments:
Post a Comment