যুক্তরাষ্ট্রের
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইন্দোনেশীয় অংশীদার হ্যারি
তানোসোদিবজো একজন ধনকুবের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও মিডিয়া মোগল।
ইন্দোনেশিয়ায় ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য পার্লামেন্ট নির্বাচনে লড়বেন বলে ঘোষণা
দিয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলীয় ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে
তিনি বলেন, ‘যদি আর কেউ না থাকে, আমি বিশ্বাস করি একজনই আছে যে দেশটির
সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার
জন্য আমি একবার চেষ্টা করে দেখতে পারি। এটা আমার নিজের জন্য নয়, দেশের
জন্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘২৬ কোটি জনগণের একটা জাতির জন্য একজন নেতা
প্রয়োজন।’ স্থানীয়ভাবে হ্যারি তানো বলে পরিচিত এই ধনকুবের ট্রাম্পের সঙ্গে
ইন্দোনেশিয়ায় দুটো রিয়েল এস্টেট প্রকল্প নির্মাণ করছেন। বালির সমুদ্রতটে
১০০ হেক্টর জমির ওপর একটি ছয়তারকা বিলাসবহুল রিসোর্ট।
আরেকটি জাকার্তার
বাইরে সাবেক বিশ্বের এক নম্বর প্রকৌশলী আর্নি এল্সের নকশায় চ্যাম্পিয়নশিপ
গল্ফ ক্লাবসমৃদ্ধ একটি রিসোর্ট। রিসোর্টটিতে থাকবে ৩০০টি ফ্ল্যাট। পাশেই
থাকবে একটি থিম পার্ক। উভয় প্রকল্পই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় থাকাকালীন
সম্পন্ন হবে। ট্রাম্পের মতোই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার আগেই ৫০ বছর বয়সী এ
ধনকুবের এরই মধ্যে রাজনীতিতে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হয়েছেন। ২০১৪ সালে ভাইস
প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলেন তানো। আর তখন থেকেই
তিনি ‘ইউনাইটেড ইন্দোনেশিয়া’ নামে নিজেই একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা
করেছেন। প্লাটফর্ম হিসেবে নিজের প্রতিষ্ঠিত টিভি চ্যানেলে উপস্থিতি ও
সামাজিক মাধ্যম টুইটার ব্যবহারের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।
তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ‘গ্লোবাল মিডিয়াকম’ এমএনসি গোষ্ঠী হিসেবেও পরিচিত।
গত নভেম্বরে নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পরপরই তানোর এমএনসি
কোম্পানির শেয়ারমূল্য ব্যাপকভাবে বেড়েই চলেছে। তানো বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে
তার সীমিত যোগাযোগ আছে। আর যৌথ ব্যবসায়ের ব্যাপারে তার বেশিরভাগ যোগাযোগ হয়
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড জুনিয়র ও এরিক এবং মেয়ে ইভাঙ্কার
সঙ্গে। ব্যবসায়ে তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা ভূমিকা রয়েছে। একজন আসন্ন
প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তানোর রয়েছে বিশাল বৈদেশিক বাণিজ্য স্বার্থ,
যা এখন ইন্দোনেশিয়াতে সম্ভাব্য স্বার্থের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ইন্দোনেশিয়ার গত নির্বাচনে সাবেক জেনারেল প্রাবোয়ো
সুবিয়ান্তোকে সমর্থন করেছিলেন তানো। ওই নির্বাচনে জেনারেল সুবিয়ান্তো
জাকার্তার সাবেক মেয়র জোকো উইদোদোর কাছে পরাজিত হন। এর অর্থ হচ্ছে,
ইন্দোনেশিয়ায় ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় আর্থিক খুঁটি দেশটির প্রধান নেতার একজন
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মাধ্যমে চালিত হচ্ছে। তানো এরই মধ্যে দু’জন বিতর্কিত
ইন্দোনেশীয় রাজনীতিবিদকে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করেছেন।
প্রথমজন হচ্ছেন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস স্পিকার সেতিয়া নভান্তো।
ইন্দোনেশিয়ার ৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় ধরনের দুর্নীতির কেন্দ্রে রয়েছেন এ
সেতিয়া নভান্তো। অবশ্য তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দ্বিতীয় জন ডেপুটি
স্পিকার ফাদাল জন। ইন্দোনেশিয়ার ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের খুব কাছের একজন বলে
পরিচিত ফাদাল জন।
ব্লাসফেমি তথা ইসলাম অবমাননার জন্য জাকার্তার খ্রিস্টান
গভর্নরকে জেলে পাঠানোর জন্য তিনি আন্দোলন করছেন। ডাক নাম আহক বলে পরিচিত
জাকার্তার গভর্নর বাসুকি জাহাজা পুর্নমা এখন তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায়
লড়ছেন। অভিযোগ রয়েছে, আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য গভর্নর নির্বাচনে দ্বিতীয়বার
যাতে তিনি নির্বাচিত হতে না পারেন সেজন্য ইসলামী কট্টরপন্থীরা তার
বিরুদ্ধে ব্লাসফেমি মামলা করেছে। ইন্দোনেশিয়ার ইসলামপন্থীরা কোনো খ্রিস্টান
ইন্দোনেশীয়কে ক্ষমতায় দেখতে চান না। কিন্তু তানোও একজন চীন বংশোদ্ভূত
ইন্দোনেশীয় খ্রিস্টান। তানো অবশ্য বলছেন, ইন্দোনেশীয়রা যে কোনো ধর্মের একজন
নেতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণই বেশ
বাস্তববাদী। তিনি বলেন, তারা এমন একজন নেতা চান, যিনি সমস্যার সমাধান দিতে
পারেন। তানো প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোকে দোষারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন,
রাজধানীতে বিক্ষোভ শান্ত করতে জোকো ‘দ্রুত’ কোনো পদক্ষেপ নেননি। ২ ডিসেম্বর
জাকার্তায় পাঁচ লক্ষাধিক লোক জাকার্তার খ্রিস্টান গভর্নর আহকের বিরুদ্ধে
বিক্ষোভ সমাবেশ করে। তানো বলেন, ইস্যুটা প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর সঙ্গে
জড়িত। তাকে দেখাতে হবে। জনগণকে শান্ত করতে তার নেতৃত্বই যথেষ্ট। দ্য
গার্ডিয়ান।

No comments:
Post a Comment