Saturday, January 21, 2017

ইরানের এক গ্রামে ৬৩ হাফেজ

ইরানের একটি গ্রামে ৬৩ জন হাফেজ রয়েছেন। এক গ্রামে সংখ্যার দিক দিয়ে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক হাফেজ বলে মনে করা হচ্ছে। গ্রামটির আদি নাম মুহাম্মাদাবাদ হলেও বর্তমানে এর নাম রাখা হয়েছে কুরআনাবাদ। প্রেস টিভি জানায়, ১২০০ অধিবাসীর এই গ্রামটির অবস্থান ইরানের শিরাজ শহর থেকে ১৭৫ কিলোমিটার পূর্বে।
এস্তেহব’ন জেলার দেহেস্ত’ন অঞ্চলের এ গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই আগে পবিত্র কোরআন সাধারণভাবে ও সাবলীলভাবে পড়তে পারতেন না। দেহেস্ত’নের একদল আলেম ১৯৯৬ সালে এখানে গড়ে তোলেন ‘বাইতুল আহজানে হযরত জাহরা’ নামের পবিত্র কোরআন শিক্ষাবিষয়ক একটি বেসরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। প্রথমদিকে এখানে কেবলই পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের ক্লাস করানো হতো। অর্থাৎ ক্লাসে শেখানো হতো কিভাবে কোরআনের আয়াত দেখে দেখে পড়া যায় এবং কিভাবে তিলাওয়াতকে সাবলীল করা যায়। পুরো এস্তেহব’ন জেলায় পবিত্র কোরআনের একজন হাফেজও ছিলেন না। এই প্রতিষ্ঠানে ২০০১ সালে চালু করা হয় পবিত্র কোরআন মুখস্ত করা বা হেফজের ক্লাস। আর কেবল এক বছরের মধ্যেই এই প্রতিষ্ঠানের ক্লাস উপহার দেয় পুরো কোরআনের সাত হাফেজ। আর ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত এই মহতী প্রতিষ্ঠান উপহার দিয়েছে পবিত্র কোরআনের ২০০ হাফেজ,
যাদের মধ্যে ৬৩ জন হলেন মুহাম্মাদাবাদ গ্রামের। বর্তমানে সারা ইরানে বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে ১৬৫টি শাখা এবং এসব প্রতিষ্ঠান উপহার দিয়েছে পবিত্র কোরআনের প্রায় ১৫০০ হাফেজ। ইরানে পবিত্র কোরআনের হাফেজ ও পেশাদার ক্বারীকে মাস্টার্স ডিগ্রি সমমানের সনদ দেয়া হয়। ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের ছাত্রসহ অনেক বিদেশী শিক্ষার্থী বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছেন কোরআনের হাফেজ হওয়ার জন্য। বর্তমানে প্রতি বছর এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিন লাখ বার কোরআন খতম (পুরো কোরআন তিলাওয়াত) করা হয়। এই গ্রামে কোরআন শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রমের জন্য সেখানকার অধিবাসীদের অনেকেই জমি, ফলের বাগান ও ভবন ওয়াক্ফ করেছেন। সাম্প্র্রতিক বছরগুলোতে ইরানে কোরআন শিক্ষা ও চর্চাবিষয়ক নানা সরকারি এবং বেসরকারি কার্যক্রম জোরদার হয়েছে।

No comments:

Post a Comment