চার
মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী, বিশেষ করে মুসলিম প্রবেশ নিষিদ্ধ করার
নির্বাহী আদেশ আজ নয়, আগামীকাল শুক্রবার দিনের শুরুতে জারি করতে পারেন
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। এ
বিষয়ক একটি খসড়া নির্বাহী আদেশ হাতে এসেছে সিএনএন-এর। তা যাচাই করেছে
সিএনএন। এতে বলা হয়েছে ইরাক, সিরিয়া, ইরান, সুদান, লিবিয়া, সোমালিয়া ও
ইয়েমেনের সব মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে।
নিষেধাজ্ঞায় ইসলাম বা মুসলিম স্পষ্ট করে উল্লেখ না থাকলেও পরামর্শক
গ্রুপগুলো বলছে, সরাসরি মুসলিমদের টার্গেট করে এ আদেশ দেয়া হচ্ছে। এর ফলে
যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসীদের প্রবেশ বন্ধ হবে বলে ধরে নিচ্ছে প্রশাসন।
হোয়াইট হাউজের এক সিনিয়র কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে রিপোর্টে বলা হয়েছে ওই
কর্মকর্তা একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। তা হলো সন্ত্রাস-কবলিত বা
সন্ত্রাস-প্রবণ দেশগুলো থেকে শরণার্থী অথবা অভিবাসীদের টার্গেট করে এই
নির্বাহী আদেশে আজ বৃহস্পতিবার সই করবেন না ট্রাম্প। সিএনএন লিখেছে, ওই
আদেশে বলা হয়েছে ‘আমেরিকার মানুষদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে, আমাদেরকে
নিশ্চিত করতে হবে যে, যাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে অনুমতি দেয়া হয়েছে তারা
এদেশের প্রতি এবং এদেশের মূলনীতির বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন কোনো মনোভাব
দেখাতে পারবেন না। যারা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানকে সমর্থন করে না অথবা
আমেরিকার আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে ধর্মীয় অনুশাসন দেখাবে তাদেরকে আমরা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারি না। দেয়া উচিতও নয়। ওই নির্বাহী
আদেশের খসড়ায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে, শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চার
মাসের বা ১২০ দিনের নিষেধাজ্ঞা যখন শেষ হবে তখন ধর্মীয় নির্যাতন থেকে
পালানো শরণার্থীদের আশ্রয়ের বিষয়টি অগ্রাধিকার দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে
যুক্তরাষ্ট্রে সিরিয়ার শরণার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে
অনির্দিষ্টকাল। এ বিষয়টিতে নজর রাখবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বর্তমানে
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর শরণার্থী প্রবেশের সংখ্যা এক লাখ ১০ হাজার। এসব
পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৭ অর্থ বছরে শরণার্থীর এ সংখ্যা ৫০
হাজারে নামিয়ে আনতে চাইছে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর
নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে সফরের জন্য অস্থায়ী পর্যটন ভিসা সুবিধা দিয়ে থাকে
যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু শরণার্থী বিষয়ক নির্বাহী আদেশে এ কর্মকান্ডও স্থগিত
রাখার কথা বলা হয়েছে। একই আদেশে সিরিয়ার ভিতরে নিরাপদ এলাকা (সেফ জোন)
তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে পেন্টাগন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি
নির্দেশনা আছে। গৃহযুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত সিরিয়ার বেসামরিক মানুষ এসব নিরাপদ
এলাকায় আশ্রয় নিতে পারবেন। এ জাতীয় প্রস্তাব সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা
প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ইঙ্গিত মিলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে যাদেরকে প্রবেশের
অনুমতি দেয়া হবে তাদের বায়োমেট্রিক ডাটা যেমন চোখ স্ক্যান ও আঙ্গুলের ছাপ
নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। তবে শরণার্থীদের বিরুদ্ধে
এমন কঠোর নীতি গ্রহণ করার কারণে মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো প্রতিবাদ
জানিয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম-আমেরিকানরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা এরই
মধ্যে বিক্ষোভও করেছেন ওয়াশিংটনে। কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনসের
নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তাতে তিনি
সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভুল করবেন না। প্রেসিডেন্ট
ট্রাম্পের শরণার্থী, অভিবাসন ও ভিসা প্রোগ্রাম নিয়ে নির্বাহী আদেশে যে
ভাষাই ব্যবহার করা হোক না কেন এর মূল টার্গেট হলো মুসলিমরা। ১২০ দিন বা ৪
মাস যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার আদেশকে ‘অদ্ভুত নিষ্ঠুরতা’
হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইউএস কমিটি ফর রিফিউজিস অ্যান্ড ইমিগ্রান্টস-এর
প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লাভিনিয়া লিমোন। তিনি বলেছেন, এটা
শুধু শরণার্থীদের জন্য একটা খারাপ দিন শুধু তা-ই নয়, এটা যুক্তরাষ্ট্রের
জন্যও একটি খারাপ দিন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় যে বাগাড়ম্বরতা দেখানো
হয়েছিল তাতে আমি বিস্মিত হইি নি। আমি আতঙ্কিত হয়েছিলাম।
>>>মানবজমিন

No comments:
Post a Comment