রাজধানীর
ব্যস্ততম এলাকা বাংলাবাজার মোড়ে মূল সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে একটি
টেম্পোস্ট্যান্ড। এটি সদরঘাট টু পোস্তগোলা টেম্পোস্ট্যান্ড। এতে ব্যস্ততম এ
চারমুখী রাস্তায় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। বহু দিন ধরে এ রাস্তাটি
টেম্পোস্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। স্ট্যান্ডটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে
রাস্তাটি যানজটমুক্ত রাখার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে
অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাংলাবাজারের এ রাস্তাটির পাশে রয়েছে দেশের বৃহত্তম
প্রকাশনা ও বইয়ের পাইকারি মার্কেট। তা ছাড়া স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়ের
বৃহত্তম মার্কেট এ রোডেই অবস্থিত। রয়েছে সদরঘাট প্রধান পোস্ট অফিস। এ ছাড়া
শিক্ষার যাবতীয় পণ্যসামগ্রীর দোকান এ রোডে গড়ে ওঠায় রাস্তাটিতে সব সময়
ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের চাপ অনেক বেশি থাকে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সব বই
এবং পণ্যসামগ্রীর বৃহত্তম মার্কেট হওয়ায় শিক্ষাসামগ্রী ক্রয় করতে মানুষ
এখানে আসে। তাই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাংলাবাজার এ রোডটিতে থাকে
কর্মব্যস্ত মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের চাপ। কিন্তু রাস্তাটির অধিকাংশ জায়গায়
সারি সারি টেম্পো রাখার ফলে দুটি যানবাহন আসা-যাওয়া করতে কষ্ট হচ্ছে।
ফলে
রাস্তাটিতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বেলা
১১টা নাগাদ টেম্পোর সিরিয়াল রাস্তার অনেক দূর পর্যন্ত চলে গেছে। ১৫-২০
সিটের এ টেম্পোগুলো আকারে বড় হওয়ায় রাস্তার অনেকাংশ জুড়ে থাকে। তার মধ্যে
মূল রাস্তা দখল করে তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য বইয়ের দোকান। রয়েছে ভ্রাম্যমাণ
কিছু হকার। সব মিলিয়ে বাংলাবাজার মোড় থেকে প্যারিদাস রোড পর্যন্ত
রাস্তাটিতে সব সময় যানজট লেগেই থাকে। তার মধ্যে টেম্পোগুলো এক দিক থেকে
অন্য দিকে ঘোরানোর কাজ এ রোডেই করা হচ্ছে। এ সময় দু’পাশের পুরো রাস্তাই
ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কিছু কিছু সময় যানজট চরম আকার ধারণ করে। এ
টেম্পোস্ট্যান্ডের পাশেই অবস্থিত ঢাকা সদর প্রধান ডাকঘর। ডাকঘরের এক
কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, এ টেম্পোস্ট্যান্ডটি
আমাদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এটি আমাদের অফিসের
সামনে হওয়ায় কিছু কিছু সময় অফিস থেকে বের হওয়ার রাস্তাটি পর্যন্ত আটকে রাখা
হয়। ডাক বিভাগের গাড়িগুলো অফিস চত্বরে প্রবেশ করতে এবং বের হতে অনেক
সমস্যা হচ্ছে। তা ছাড়া এদের কারণে অফিসের সামনের রাস্তাটিতে যানজট তো আছেই।
পোস্ট অফিসে সেবা নিতে আসা লোকজনের এদের কারণে অনেক সমস্যা হয়। তিনি আরও
বলেন, কয়েক দিন আগে এক ব্যক্তির পায়ের ওপর দিয়ে টেম্পোর চাকা তুলে দিয়ে
মারাত্মক আহত করা হয়। তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে এ ভোগান্তি থেকে জরুরি
ভিত্তিতে পরিত্রাণ আশা করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বইয়ের দোকান
মালিক যুগান্তরকে বলেন, পূর্বে টেম্পোর সংখ্যা অল্প ছিল বলে রাস্তাটিতে
তেমন যানজট ছিল না। কিন্তু দিন দিন টেম্পোর সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এখন
রাস্তাজুড়ে সারি সারি টেম্পো রাখা হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টেম্পোর চাপ
বেশি থাকায় এ টেম্পোর সারি প্রায় আধা কিলোমিটার অতিক্রম করে। তারা আরও
বলেন, রাস্তাটিতে এত টেম্পোর চাপ এবং যানজটের ফলে আমাদের ব্যবসায় নেতিবাচক
প্রভাব পড়ছে। আমরা কিছু বলতে পারি না। কারণ আমাদের ব্যবসার যদি কোনো সমস্যা
হয়। তাই আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এ দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ চাই। এ
রাস্তাটি সম্পর্কে কয়েক পথচারী এবং বই ক্রেতার সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন,
রাস্তাটি যান চলাচলের জন্য যথেষ্ট প্রশস্ত হলেও টেম্পো রাখা এবং মূল রাস্তা
দখল করে বইয়ের দোকানগুলো বসায় এর এক-তৃতীয়াংশে যানবাহন চলাচল করতে পারছে।
তাই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তারা বলেন, কিছু কিছু সময় মানুষ চলাচলের রাস্তাও
থাকে না। বাংলাবাজার মোড়ের পাশেই ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে কয়েক
অভিভাবকের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হলে তারা বলেন, আমরা প্রতিদিন আমাদের
সন্তানকে স্কুলে দিয়ে আসি এবং নিয়ে যাই। প্রতিদিনই এ যানজটের মুখোমুখি হই।
এ
পথ দিয়ে চলাচলকারী এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক
থেকে টেম্পোস্ট্যান্ডটি অন্যত্র সরিয়ে নিলে এবং মূল রাস্তায় বসা অবৈধ বইয়ের
দোকান উচ্ছেদ করতে পারলে যানজট নিরসন সম্ভব। এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি
কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুর রহমান মিয়াজী
যুগান্তরকে বলেন, আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ পর্যন্ত কয়েকবার এদের মূল
রাস্তায় টেম্পো রাখতে নিষেধ করেছি। নিজে উপস্থিত থেকে এদের কয়েকবার রাস্তা
থেকে অপসারণ করেছি। তিনি আরও বলেন, চারদিক থেকে চারটি রাস্তা এ মোড়ে এসে
মিলিত হয়েছে। তা ছাড়া ব্যবসায়িক এলাকা হওয়ায় এ স্থানটি সর্বদাই যানবাহন ও
মানুষের চাপ অনেক বেশি থাকে। তার মধ্যে এ টেম্পোস্ট্যান্ড প্রধান সড়কের
একটি অংশ দখল করে রাখার ফলে যানজট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট
সবার সঙ্গে কথা বলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টেম্পোস্ট্যান্ডটি অন্যত্র সরিয়ে
নেয়ার ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি দেয়া হবে।

No comments:
Post a Comment