দশম
আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব শেষ হল। শিশুদের প্রাণচাঞ্চল্য আর
সুন্দরের প্রকাশে সোমবার শেষ হল এ উৎসব। সমাপনী অনুষ্ঠানে ক্ষুদে
নির্মাতাদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। ‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্ন’
স্লোগানে এ উৎসবের আয়োজন করে চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ। সমাপনী
আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের মূল ভেন্যু সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের
শওকত ওসমান মিলনায়তনে। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক
আবদুল্লাহ্ আবু সায়ীদ। এছাড়া সমাপনী আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত ছিলেন চিলড্রেনস
ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও সাধারণ সম্পাদক
মুনিরা মোরশেদ মুন্নী, উৎসব উপদেষ্টা মোরশেদুল ইসলাম এবং উৎসব পরিচালক আবীর
ফেরদৌস। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ী ক্ষুদে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের পুরস্কৃত
করা হয়। শিশু নির্মাতাদের প্রতিযোগিতায় সেরা ছবির পুরস্কার পেয়েছে রিয়াদ
সান এবং নাহিদ পারভেজ নির্মিত ছবি ‘দ্য পাপেট শো’। দ্বিতীয় সেরা ছবি
নির্বাচিত হয়েছে নাবিদ হাসনাত ও শিফাতুল অপূর্ব নির্মিত ছবি ‘বাক্সবন্দী’।
তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে সাইয়েদুল আবরারের ‘অ্যালান কুর্দি ফ্রম হেভেন’ নামের
অ্যানিমেটেড ছবি। বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে সুমাইতা শামা নির্মিত ‘এনমেসড
বোরডোম’ এবং তারিকুল হাসানের ‘ইনার প্যারালেলিজম’। আন্তর্জাতিক শিশু
নির্মাতাদের প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়েছে অ্যাস্টোন ব্রাউন ও জর্জ পোপল
নির্মিত অস্ট্রেলিয়ার ছবি ‘ইন মেমোরি’। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা
বিভাগে বড়দের তৈরি ছবির মধ্যে ছিল তিনটি পুরস্কার। যেখানে সেরা ফিচার ফিল্ম
পুরস্কার পেয়েছে জার্মানির ছবি ‘অ্যাট আই লেভেল’। সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য
চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে সুইজারল্যান্ডের ছবি ‘হাইডি অ্যট দ্য ফলি
আর্টিস্ট’। সেরা পরিচালকের পদকটি পেয়েছেন বুলগেরিয়ার পরিচালক রিসতো
সিমেওনভ। এছাড়া উৎসবে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের বিভাগে পুরস্কার পায় হেমন্ত
সাদিকের পরিচালনায় ছবি ‘অ্যা লেটার টু গড’। ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ’
বিষয়ে সামাজিক চলচ্চিত্র বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে ‘খেলাঘর’ নামের একটি
স্টপমোশন অ্যানিমেশন। ২৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ উৎসবে ঢাকা, রাজশাহী ও
রংপুরের মোট ১১টি ভেন্যুতে ৫৪টি দেশের দুই শতাধিক শিশুতোষ চলচ্চিত্র
প্রদর্শিত হয়।
জাতীয় কবিতা উৎসব শুরু কাল : আগামীকাল জাতীয় কবিতা উৎসবের
উদ্বোধন। দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের এবারের প্রতিপাদ্য ‘কবিতা মানে না
বর্বরতা’। জাতীয় কবিতা পরিষদের আয়োজনে এটি এ উৎসবের ৩১তম আসর। আর উৎসবস্থল
হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণ। এবারের উৎসবটি
উৎসর্গ করা হয়েছে কবি সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক, রফিক আজাদ ও শহীদ কাদরীর
স্মৃতির প্রতি। উৎসব উদ্বোধন করবেন কবি বেলাল চৌধুরী। এবারের উৎসবে সাত
দেশের ১৪ জন কবি অংশ নেবেন। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী
মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বক্তৃতা করেন
জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উৎসব কমিটির
আহ্বায়ক কবি স্থপতি রবিউল হুসাইন, পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাত,
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী রোজি, আমিনুর রহমান সুলতান প্রমুখ। লিখিত
বক্তব্যে তারিক সুজাত বলেন, এবারের উৎসবে ভারতের কবি আশিস সান্যাল, বীথি
চট্টোপাধ্যায়, রাতুল দেব বর্মণ, কাজল চক্রবর্তী, দিলীপ দাস, অংশুমান কর,
প্রাবন্ধিক চিন্ময় গুহ, সুইডেনের কবি ক্রিস্টিয়ার কার্লসন, অস্ট্রিয়ার
মেনফ্রেড কোবো, জার্মানির ইওনা বুরঘার্ট ও টোবিয়াস বুরঘার্ট,
পুয়ের্তোরিকোর লুস মারিয়া লোপেজ ও মারিয়া ডি লোস অ্যানজেলেস কামাকো রিভাস,
রাশিয়ার ড. ভিক্টর আলেক্সান্ড্রোভিচ পোগাদাইভের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।
এর বাইরে আরও কবিরা আসবেন। মুহাম্মদ সামাদ বলেন, এবারের উৎসবে জাতীয় কবিতা
পরিষদ সম্মাননা দেয়া হবে কবি বেলাল চৌধুরীকে এবং জাতীয় কবিতা পরিষদ
পুরস্কার পাচ্ছেন কবি সায্্যাদ কাদির। এবারের উৎসবে অংশ নেয়ার জন্য এরই
মধ্যে ২০০ জন কবি নিবন্ধন করেছেন। ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিবন্ধন প্রক্রিয়া
চলবে।

No comments:
Post a Comment