চট্টগ্রামে
একটি ছয়তলা ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের তিনজনসহ
চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন- ছমুদা খাতুন (৬৫), আরিফ হোসেন (২৩), তনিমা
আফরিন ইপ্তি (১৭) ও মাহমুদুল হক (৫৫)। ছমুদা খাতুনের নাতি-নাতনি হলেন আরিফ ও
ইপ্তি। ছমুদা খাতুন ও ইপ্তির অবস্থা আশংকাজনক। তাদের শরীরের প্রায় ৯৫
শতাংশ পুড়ে গেছে। আরিফ হোসেনের শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের চট্টগ্রাম
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে
৫টার দিকে বাকলিয়া থানার দেওয়ানবাজারের নিরাপদ হাউজিং সোসাইটি এলাকায় এ
ঘটনা ঘটে। বিস্ফেরণে ভবনটির ৩৬টি ফ্ল্যাটের প্রায় সবক’টি ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে। ভবনটির মালিক আনোয়ারা উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ সালেহ। তিনি ভবনে
থাকেন না। থাকেন নগরীর আরেক জায়গায়। বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটিতে
‘মাদ্রাসা আরেবিয়া খায়েরিয়া এতিমখানা’ রয়েছে।
এ কারণে ভবনটি মাদ্রাসা
বিল্ডিং হিসেবে এলাকায় পরিচিত। যে ফ্ল্যাটে (৩/১) বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে
সেটি ভাড়া নিয়েছিলেন আবদুল মোতালেব নামে এক ব্যক্তি। তার বাড়ি লোহাগাড়া
উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নে। সিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ধারণা করছেন,
চুলা খোলা রাখার কারণে জমে থাকা গ্যাসে আগুন লাগায় বিস্ফোরণের এ ঘটনা
ঘটেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাসায় কোনো গ্যাস
সিলিন্ডারও ছিল না, বৈদ্যুতিক কোনো ত্র“টিও পাওয়া যায়নি। কী কারণে বিস্ফোরণ
ঘটেছে, তদন্ত না করে কিছু বলা সম্ভব নয়। পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের
বসবাসকারীরা জানান, বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে উঠে। ভবনের বাসিন্দাদের
অনেকে ধারণা করেছিলেন ভূমিকম্প হচ্ছে। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় আতংক
ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে চন্দনপুরা ও
নন্দনকানন স্টেশন থেকে চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টা
চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ভবনটি ওয়াকফ এস্টেট। ভবনের ৩৬টি
ফ্ল্যাটের ভাড়ায় পাওয়া টাকায় এতিমখানাটি পরিচালিত হয়। সকালে বিস্ফোরণ হওয়া
ভবনে গিয়ে দেখা যায়, এমদাদ আলী সড়কের মাদ্রাসা ভবন নামে পরিচিত ছয়তলা ভবনের
তৃতীয় তলায় বিস্ফোরণে উড়ে গেছে ঘরের আসবাবপত্র,
ভেঙে চুরমার হয়েছে পুরো
ভবনের জানালার কাচ। শুধু তাই নয়, বিস্ফোরণের সময় উড়ে যাওয়া দেয়ালের বড় বড়
টুকরা রাস্তার ওপাশের একটি ভবনের ব্যালকনিতে পড়ায় সেই ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে। হাজারো কৌতূহলী মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করে আছেন। ভবনের পূর্বপাশে
অবস্থিত জারিফ হাউস নামে একটি ভবনের দেয়ালও উড়ে গেছে। তৃতীয় তলার ৫টি
ফ্ল্যাট সবেচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র,
দরজা-জানালা, বেসিন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ভবনটিতে অবস্থিত মাদ্রাসা আরেবিয়া
খায়েরিয়া এতিমখানার প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ সোহেল সালেহ যুগান্তরকে বলেন,
আমাদের ধারণা, গ্যাস লাইনে ত্র“টির কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তিনি
বলেন, ভবনটিতে মাদ্রাসা রয়েছে বলে অনেকে বোমা বিস্ফোরণ বলে ধারণা করছেন।
এটি সঠিক নয়। এ ব্যাপারে আমরা (এতিমখানা কর্তৃপক্ষ) পুলিশ ও মিডিয়াসহ সবার
সহযোগিতা চাই। দগ্ধদের চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে : দগ্ধ চারজনকে
চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক
অধ?্যাপক এস খালেদ জানান, ছমুদা খাতুন ও ইপ্তির অবস্থা আশংকাজনক। তাদের
দেহের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। আরিফ অনেকটা আশংকামুক্ত। তার দেহের ২৫ শতাংশ
পুড়ে গেছে।
দগ্ধ একজনের বক্তব্য : চমেক
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরিফ যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা রাতে খাওয়া-দাওয়া করে
ঘুমাতে যাই। ভোররাতে হঠাৎ বিস্ফোরণ। পুরো ঘরের জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। কাচের
টুকরা ছড়িয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকবার বিকট শব্দে আওয়াজ হয়েছে। আমি দ্রুত নিচে
নেমে দারোয়ানকে বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে বলি। এরপর কী হয়েছে, তা
আর মনে করতে পারছি না। পরে দেখি, আমাকেসহ পরিবারের সবাইকে হাসপাতালে নিয়ে
আসা হয়েছে।’
সিআইডি ও বোমা নিষ্ক্রিয় দলের আলামত সংগ্রহ : বিস্ফোরণের পর দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট দল ও সিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয় ইউনিট দলের সদস্যরা। তারা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আবদুর রউফ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ওই বাসার ভেতরে গ্যাস জমেছিল। এর ফলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বোমা বিশেষজ্ঞ ইউনিট কাজ করছে। পরে বলা যাবে আসলে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।’ সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার ডিসি (দক্ষিণ) এসএম মোস্তাইন হোসেন বলেন, কী কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সিআইডি ও বোমা নিষ্ক্রিয় দলের আলামত সংগ্রহ : বিস্ফোরণের পর দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট দল ও সিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয় ইউনিট দলের সদস্যরা। তারা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আবদুর রউফ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ওই বাসার ভেতরে গ্যাস জমেছিল। এর ফলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বোমা বিশেষজ্ঞ ইউনিট কাজ করছে। পরে বলা যাবে আসলে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।’ সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার ডিসি (দক্ষিণ) এসএম মোস্তাইন হোসেন বলেন, কী কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
দগ্ধদের মধ্যে ছোট মেয়েটি জানিয়েছে ভোর
৫টার দিকে সে রান্নার জন্য আগুন ধরাতে গেলে বিস্ফোরণ ঘটে। গ্যাস লাইনের
চাবি খোলা থাকায় দীর্ঘক্ষণ ধরে গ্যাস চারপাশে ছড়িয়ে পড়ার কারণে আগুন ধরাতে
গিয়েই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের এখন পর্যন্ত তাই মনে হচ্ছে। ঘটনাস্থলে
কোনো স্পিন্টার বা বোমা জাতীয় কিছুর আলামত পাওয়া যায়নি। বোমা নিষ্ক্রিয়
টিম ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন। এসব আলামত
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা জানা যাবে।

No comments:
Post a Comment