Tuesday, January 3, 2017

হালদা সবার কাছে প্রশংসিত হবে

জনপ্রিয় অভিনেতা তৌকীর আহমেদ। অভিনয়ের চেয়ে বর্তমানে নির্মাণেই বেশি সময় দিচ্ছেন তিনি। গত বছর মুক্তি পেয়েছে তার নির্মিত ছবি ‘অজ্ঞাতনামা’। বর্তমানে নির্মাণ করছেন ‘হালদা’ নামের আরও একটি ছবি। এর শুটিংও প্রায় শেষের পথে। এ ছবির শুটিং ও অন্যান্য ব্যস্ততা নিয়ে আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি
*হালদার শুটিং কতদূর?
**গুরুত্বপূর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সব দৃশ্যসহ ছবিটির ৮০ ভাগ শুটিং শেষ। এখন সহজ কিছু দৃশ্যের শুটিং চলছে।
*ছবিটি নিয়ে প্রত্যাশা কেমন আপনার?
**আমার সব ছবি নিয়েই বাড়তি প্রত্যাশা থাকে। তবে এটা শুধু আমার ক্ষেত্রে নয়, নির্মাতা হিসেবে সবার ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটে। আর ‘হালদা’ নিয়ে আমার প্রত্যাশা একটু অন্যরকম। কারণ এ ছবির মাধ্যমে আমি হালদা নদীর পাড়ে বসবাস করা একদল মানুষের জীবনযাপন সবাইকে জানাতে চাই। যা এ মানুষগুলোকে নিয়ে একটু হলেও আমাদের ভাবাবে। ছবিটি অজ্ঞাতনামার চেয়েও প্রশংসিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।
*হঠাৎ হালদা নদী নিয়ে আগ্রহী হলেন কেন?
**এক প্রকার দায়িত্ববোধ থেকেই চলচ্চিত্রটি করা। দেশের প্রায় সবাই জানেন হালদা চট্টগ্রামের একটি নদীর নাম। যাকে একটি প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রও বলা হয়। এটি ফটিকছড়ি থেকে শুরু হয়ে কর্ণফুলীর মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে। এখানে কার্পজাতীয় মাছ এসে ডিম পাড়ে। আমাদের দেশের একদল মানুষ সেই ডিম ও সেখানকার মাছ সংগ্রহ করে জিবিকা নির্বাহ করেন। এই হালদা পাড়ের মানুষের জীবনের প্রতিকূলতা, হাসি-কান্না, বেদনার কাহিনী নিয়েই তৈরি হচ্ছে ছবিটি।
*ছবিটি নির্মাণ করতে গিয়ে কোনো প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন কি?
**এখনও সে ধরনের প্রতিকূলতা সামনে আসেনি। তবে ছবিটি নির্মাণে হালদাবাসীসহ অনেকেরই সহায়তা পাচ্ছি। এই যেমন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া দীর্ঘদিন ধরে হালদা নিয়ে কাজ করছেন। শুধু গবেষণা নয়, হালদা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতিও তিনি। হালদা রক্ষায় আন্দোলনও করে যাচ্ছেন। তাদের বেশ সহায়তা পাচ্ছে আমাদের হালদা টিম।
*হালদার আইডিয়া কোথায় পেলেন?
**ছবিটি আমরা কয়েকজন যৌথভাবে প্রয়োজনা করছি। এই প্রযোজকদের অন্যতম একজন এইচএম ইব্রাহীম। তার কাছেই হালদার গল্প শুনি। তারই এক বন্ধু আজাদ বুলবুল গল্পটি লিখেছেন। একদিন ইব্রাহীম ভাই আমাকে জানান, তিনি এই গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র প্রযোজনা করতে চান। চলচ্চিত্রের বিষয় হিসেবে আমার কাছেও বেশ আকর্ষণীয় মনে হয় গল্পটি। তবে ছবিটির প্রায় অংশই নদীতে চিত্রায়িত হওয়ার আইডিয়াটা বেশ ভালো লাগে। তাই নতুন অভিজ্ঞতা নেয়ার পথে নামলাম।

No comments:

Post a Comment