প্রশাসনের
কর্মকর্তারা মুখে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলেন না দলীয় স্লোগানের
অজুহাতে। তাদের মধ্যে ঘাপটি মেরে আছে বিএনপি-জামায়াতের অনেকেই। আওয়ামী লীগ
সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আছে, সেটাও তারা মাঝেমধ্যে ভুলে যান। অন্তরে তারা
যে আদর্শ লালন করেন মুখ ফসকে তা প্রকাশ করে ফেলেন। এমনি এক ঘটনা ঘটেছে
বুধবার জামালপুর জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দের
কার্যভার গ্রহণ উপলক্ষে জেলা পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে। জামালপুরের জেলা
প্রশাসক শাহাবুদ্দিন খান মুখ ফসকে বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার হিসেবে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদলে বেগম খালেদা জিয়ার নাম বলে সবাইকে তাক
লাগিয়ে দিয়েছেন। জামালপুর জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও
সদস্যবৃন্দের কার্যভার গ্রহণ উপলক্ষে জেলা পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সকাল ১১টায় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ
বাকী বিল্লাহ, জামালপুর পৌরসভা মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি।
নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী ছিলেন অনুষ্ঠানের
শেষ বক্তা। তার আগে জেলা প্রশাসক শাহাবুদ্দিন খান বক্তব্য রাখেন। তিনি
সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি উন্নয়নের
রূপকার হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারণ করেন। অতঃপর তিনি বক্তব্য
সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম বলেন। তারপরও তিনি
প্রধানমন্ত্রীকে ‘বেগম শেখ হাসিনা’ বলে উল্লেখ করলে অনুষ্ঠানে তীব্র
প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। চারদিকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিয়ে কানাঘুষা
শুরু হয় এবং অনেকে তাকে বিএনপি-জামায়াতের দোসর বলে আখ্যায়িত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন বাবুল।
তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ডিসি সাহেব মুখ ফসকে বেগম খালেদা
জিয়ার নাম বলে ফেলেছিলেন। পরে তিনি তার বক্তব্য সংশোধন করেন। নাম প্রকাশ না
করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের অপর এক নেতা বলেন, ডিসি
সাহেব আসলে মনেপ্রাণে বিএনপি-জামায়াতের আদর্শকে লালন করেন। তার অন্তরে
যেটা, তিনি সেটা চেপে রাখতে পারেননি। মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন। জেলা প্রশাসক
শাহাবুদ্দিন খান বলেন, আমি ভুলবসত বলে ফেলেছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে আবার সংশোধন
করেছি। শাহাবুদ্দিন খান তিন বছরের বেশি সময় জামালপুরে জেলা প্রশাসকের
দায়িত্ব পালন করছেন।

No comments:
Post a Comment