ভারতের
নির্বাচন কমিশন উত্তর প্রদেশসহ ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
করেছে। এ নির্বাচন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নোট বাতিল ইস্যুতে
রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচনকে মোদির নোট বাতিলের ওপর
‘গণভোট’ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় উত্তর প্রদেশ রাজ্য
থেকে অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বেশি প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে থাকে। উত্তর
প্রদেশে ১১ ফেব্র“য়ারি থেকে ৮ মার্চের মধ্যে ৭ ধাপে নির্বাচন হবে। বুধবার
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজেপির জন্য বড় পরীক্ষা ২০১৭ সালের
বিধানসভা নির্বাচন। ৮ নভেম্বর দেশে হঠাৎ করেই কার্যকর করা ৫০০ ও ১০০০ রুপির
নোট বাতিল ইস–্যটির ওপর ‘গণভোট’ এ নির্বাচন। আইএইচএস গ্লোবাল ইনসাইটের
এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ রাজিব বিশ্বাস বলেন,
‘২০১৭ সালের প্রথম দিকে ভারতের ৫টি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন মোদি ও
বিজেপি সরকারের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের নির্বাচন। বিশেষ করে নোট বাতিল ইস্যুতে
মোদির জনপ্রিয়তা কোনদিকে গড়াল- তা পরিমাপের নির্বাচন এটি।’ তিনি আরও বলেন,
যদি উত্তর প্রদেশের নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হতে ব্যর্থ হয়, তবে তা হবে
বিজেপির জন্য চরম অশনি সংকেত। এ রাজ্যে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি
৭১ আসনে জয় পায়।
তবে ২০১৭ সালের এ নির্বাচনে যে কোনো ধরনের বিপত্তি ২০১৯
সালের নির্বাচনে বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসতে পারে। ভারতীয়
পার্লামেন্টের নিুকক্ষ লোকসভায় আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে
রাখা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে মোদিকে। এ কারণেই উত্তর প্রদেশে মোদির
নির্বাচনী প্রস্তুতিতেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিনিয়োগ করেছেন বিপুল পরিমাণ
অর্থ ও বারবার বড় বড় নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন। উত্তর প্রদেশে সোমবারের
নির্বাচনী বিশাল সমাবেশে বিজেপি বিপুল প্রচারণার জোয়ার দেখিয়েছে বলে মনে
করেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক শিলান শাহ। লোকসভায় বর্তমানে বিজেপির
সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এজন্য উত্তর প্রদেশের নির্বাচন মোদির জন্য সেই
সংখ্যাগরিষ্ঠতা টিকিয়ে রাখার লড়াই। তবে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়
সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধি রয়েছে উত্তর প্রদেশ থেকে। এ রাজ্য থেকে রাজ্যসভায়
কখনই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বিজেপি। সিঙ্গাপুরভিত্তিক এশিয়ান বিশ্লেষক জান
জালেওয়াস্কি বলেন, মোদির ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিল ক্ষমতাসীন সরকারের
জন্য বিপর্যয় বয়ে নিয়ে আসতে পারে। উত্তর প্রদেশে নির্বাচনের ফলাফল ২০১৯
সালের নির্বাচনের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলেও মনে করেন তিনি। ২০১২ সালে
ওই রাজ্যে কম আসন পেলেও ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়
পায় বিজেপি।

No comments:
Post a Comment