নিউজিল্যান্ডের
অপরূপ প্রকৃতিও আর টানছে না মুশফিকুরদের। দুর্ভাগ্যের সফরটা শেষ করে দেশে
ফিরতে পারলেই যেন বাঁচে বাংলাদেশ দল। বাকি আর একটি ম্যাচ। ২০ জানুয়ারি
ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।
দুঃস্বপ্নের সফরের শেষটা রাঙিয়ে রাখার ক্ষীণ আশা নিয়ে কাল ওয়েলিংটন থেকে
ক্রাইস্টচার্চে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। ভ্রমণ ক্লান্তি, টানা হারের হতাশা
এবং শরীর ও হৃদয়ের টাটকা ক্ষতও সঙ্গী হয়েছে টাইগারদের। প্রায় চারদিন চালকের
আসনে থেকেও ওয়েলিংটন টেস্টে অবিশ্বাস্য হার এখনও তাড়া করে ফিরছে সবাইকে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে ক্রাইস্টচার্চে পৌঁছে সোজা টিম হোটেলে ঢুকে
যান সবাই। কাল অনুশীলন না থাকলেও দলের কয়েকজনের ভাগ্যে বিশ্রাম জোটেনি।
ফিজিও ডিন কানওয়ের সঙ্গে ছুটতে হয়েছে হাসপাতালে। বাংলাদেশ দলটাই যে এখন
মিনি হাসপাতাল! ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে একাদশে আসতে পারে একাধিক পরিবর্তন।
এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয়
টেস্টে সম্ভবত খেলা হচ্ছে না অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের। চোট সমস্যা রয়েছে
ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল হকেরও। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট
পাওয়ায় বাকি দুটি ওয়ানডে ও টি ২০ সিরিজে খেলা হয়নি মুশফিকের। সেই চোট
কাটিয়ে প্রথম টেস্টে ফিরে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সময় আবার চোট পেলেন
বাঁ-হাতের বুড়ো আঙুলে। পরে ফিল্ডিং করতে পারেননি। কিন্তু দলের প্রয়োজনে
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে পেলেন নতুন আঘাত। টিম সাউদির বাউন্সারের
আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়া মুশফিককে মাঠ ছাড়তে হয় অ্যাম্বুলেন্সে।
হেলমেটের
কারণে বড় কোনো অঘটন ঘটেনি। মাথা ও ঘাড়ের এক্স-রে রিপোর্টে কোনো চোট ধরা না
পাড়ায় গত পরশুই হাসপাতাল থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে সতর্কতা হিসেবে
মুশফিককে চার সপ্তাহ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। আঙুলের
চোটও পুরোপুরি সারেনি। এ পরিস্থিতিতে মুশফিককে খেলানোর ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে
না টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে বাউন্সারের ধকল পুরোপুরি সামলে উঠেছেন অধিনায়ক।
ক্রাইস্টচার্চে এসে দলের ফিজিও ও ম্যানেজারের দৌড়ঝাঁপ এখন ইমরুল ও
মুমিনুলকে নিয়ে। প্রথম টেস্টে বাঁ-ঊরুতে পাওয়া চোট এখনও ভোগাচ্ছে ইমরুলকে।
মুমিনুলের চোট বুকের পাঁজরে। ব্যথা না কমায় কাল ক্রাইস্টচার্চে দু’জনেরই
আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা হয়েছে। ইমরুলের চোটই বেশি গুরুতর। ২০ জানুয়ারির
মধ্যে শতভাগ ফিট হয়ে উঠতে না পারলে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে ইমরুলের জায়গায়
খেলতে পারেন সৌম্য সরকার। আর মুশফিকের জায়গায় একাদশে আসতে পারেন নুরুল
হাসান। এর বাইরে পেস আক্রমণেও একটি পরিবর্তন আসতে পারে। তবে দলের চেহারা
যেমনই হোক, লড়াইটা সহজ হবে না। টেস্টে হ্যাগলি ওভাল পেসারদের স্বর্গ। এ
মাঠেই সিরিজের প্রথম ওয়ানডে খেলেছিল বাংলাদেশ। বহু পথ ঘুরে সফরের শেষভাগে
সেখানেই ফেরা। হারের চক্রটাও কী তাহলে পূর্ণ হবে!

No comments:
Post a Comment