সাত
মুসলিম দেশের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞায় অনড় মার্কিন
প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের আদালত স্থগিতাদেশ
দিলেও তাতে ভ্রুক্ষেপ করছেন না সীমান্তরক্ষীরা। বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও
সীমান্তে আটকে দেয়া হচ্ছে মুসলিমদের। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘এটি
মুসলিম নিষেধাজ্ঞা নয়। মিডিয়া মিথ্যা প্রচার করছে।’ রোববার
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়েছে। মুসলিম
নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছেন ১৬টি রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল। খবর বিবিসি ও
এএফপির। শুক্রবার ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ জারির পর শনিবার থেকে বিমানবন্দরে
কাস্টমস ও বর্ডার প্রটেকশন এজেন্ট আদেশ বাস্তবায়ন শুরু করে। শনিবার এ
আদেশে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালত স্থগিতাদেশ দেন। তবে বিমানবন্দর ও সীমান্তে
নিয়োজিত কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) এজেন্টরা আদালতের
নির্দেশ অমান্য করে মুসলিম অভিবাসীদের আটকে দিচ্ছেন। ডেমোক্রেটিক দলের
চারজন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ সদস্য রোববার বিকালে ডালাস বিমানবন্দরে
বিক্ষোভে যোগ দিয়ে তা প্রত্যক্ষ করেছেন। তারা বলছেন, আমরা এখন সাংবিধানিক
সংকটে পড়েছি। সীমান্ত এজেন্টরা আদালতের আদেশ মানছেন না। একজন সদস্য জামি
রাসকিন টুইটার পোস্টে বলেছেন, আমরা ফেডারেল এজেন্সির কাছে প্রশ্ন করেও কোনো
উত্তর পাইনি কেন এজেন্টরা আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষো করছেন। গার্ডিয়ান
জানিয়েছে, বৈধ ভিসা ও অন্যান্য অনুমোদন সাপেক্ষে যারা যুক্তরাষ্ট্রে
প্রবেশের জন্য ফ্লাইটে মাঝপথে রয়েছেন, বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাদের আটক
করা হচ্ছে। অনেককে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। দু’দিনে ঠিক কতজনকে বিমানবন্দর থেকে
ফেরত পাঠানো হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাময়িকভাবে শরণার্থী নিষিদ্ধ ও
ভিসা বন্ধের বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভের মুখেও হোয়াইট হাউসের দাবি,
নিষেধাজ্ঞা সফল হয়েছে। এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেছেন,
‘সর্বোচ্চ নিরাপদ
নীতি’ গ্রহণের পর আবারও ভিসা দেয়া হবে। তবে এ আদেশ ‘মুসলিমবিরোধী
নিষেধাজ্ঞা’ নয় বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। লিখিত বক্তব্যে ট্রাম্প বলেছেন, এটি
মিডিয়ার মিথ্যা প্রচার। তিনি বলেন, ‘পরিষ্কার করে বলছি, এটা মুসলিমদের ওপর
নিষেধাজ্ঞা নয়। এমনটা বলে গণমাধ্যম মিথ্যা খবর প্রচার করছে। এটা
ধর্মসংক্রান্ত বিষয়ে নয়, বরং সন্ত্রাস প্রতিরোধ এবং আমাদের দেশকে নিরাপদ
রাখার জন্য এটা করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে মুসলিম অধ্যুষিত আরও ৪০টির বেশি দেশ
রয়েছে যাদের ?ওপর এ আদেশের প্রভাব পড়েনি।’ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর
সব দেশের নাগরিকদের ভিসা দেয়া হবে বলে জানান ট্রাম্প। ‘একস্ট্রিম ভেটিং
মেজার্স’-এর কথা বলে শুক্রবার ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে মুসলিম অধ্যুষিত
সাত দেশ ইরাক, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেনের নাগরিকদের ওপর ৯০
দিনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সেই সঙ্গে, আগামী চার মাস আর কোনো
শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে না। সিরীয় শরণার্থীদের
ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত।
দ্বৈত-নাগরিক এবং গ্রিনকার্ড হোল্ডাররাও (যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের
অনুমতি) এ আদেশের আওতায় বলে জানিয়েছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি
ডিপার্টমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা ট্রাম্পের এ
আদেশকে অসাংবিধানিক বলেছেন। নিউইয়র্ক ক্যালিফোর্নিয়াসহ ১৬ রাজ্যের
অ্যাটর্নি জেনারেলরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ১৩ কোটি আমেরিকানের প্রধান আইন
কর্মকর্তা হিসেবে আমরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের
নিন্দা জানাচ্ছি। এটা অসাংবিধানিক, অ-আমেরিকান ও অবৈধ।’ নিউইয়র্কের
ডেমোক্রেটিক সিনেটর চার্লস শুমার বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বলেছেন, ট্রাম্পের
নির্বাহী আদেশ ‘আমেরিকান নয়’ এবং দেশের মৌলিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে চালিত
হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment