বয়স
১৪ পেরিয়েছে সবে। নাম গালিব রহমান। খুলনা নগরীর সেন্ট জোসেফ্স উচ্চ
বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর এ শিক্ষার্থীই এখন তাক লাগিয়ে দিচ্ছে সবাইকে।
১৯০০ থেকে ২০৯৯ সাল পর্যন্ত যে কোনো বছরের তারিখ-বার সে অনায়াসে বলে দিতে
পারে। এজন্য সময় নেয় মাত্র ‘তিন সেকেন্ড’। গালিবের মা ফারিহা ইসলাম
যুগান্তরকে বলেন, ‘তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময় গালিব আমার কাছে শুধু বিভিন্ন
বছরের তারিখ ও মাসের নাম শুনতে চাইত এবং না দেখেই বার বলে দিতে পারত। এটা
দেখে আমি প্রথমে পাত্তা দেইনি।
কিন্তু ধীরে ধীরে ওর প্রতিভার কথা স্কুল
থেকে শুরু করে আত্মীয়রা জেনে যান। এখন আমার কাছেও বিষয়টি অনেক ভালো লাগে।’
খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ
মিজানুর রহমান মিজান রোববার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে আসেন। এ সময় তিনি
তার জন্মের তারিখ ও সাল বলার সঙ্গে সঙ্গেই গালিব বার বলে দেয়। এতে মিজানুর
রহমান তার এ প্রতিভাকে স্বাগত জানান। গালিবের স্কুলের প্রধান শিক্ষক
আলফ্রেড রণজিৎ মণ্ডল জানান, তার (গালিব) ঐশ্বরিক ক্ষমতা আছে। সৃষ্টিকর্তার
সহযোগিতা ছাড়া কেউ এত অল্প সময়ে ১৯৯ বছরের ক্যালেন্ডার আয়ত্ত করতে পারে না।
গালিব যুগান্তরকে জানায়, ছোটবেলা থেকেই পড়ার ফাঁকে মোবাইল ফোনের
ক্যালেন্ডার দেখত সে। এটি দেখতে দেখতে এখন মুখস্থ হয়ে গেছে। সে এখন ১৯০০
সাল থেকে ২০৯৯ সালের যে কোনো তারিখ-বার মাত্র ৩ সেকেন্ডেই বলে দিতে পারে।
এটা মনের অজান্তেই হয়ে গেছে। সে আরও জানায়, ৩য় শ্রেণী থেকে সে নিয়মিত
মোবাইল ফোনে ক্যালেন্ডার দেখত এবং চিন্তা করত কীভাবে এটা তৈরি করা হয়েছে।
পরিবারের সবাই তাকে মজা করে বলেন, এটা তার আধ্যাত্মিক শক্তি কিংবা ওপর থেকে
কেউ তাকে বলে দেয়। তবে এ প্রতিভার জন্য সে সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ
জানায়। গালিবের স্বপ্ন বড় হয়ে একজন গোয়েন্দা পুলিশ হবে। মা-বাবার একমাত্র
সন্তান সে। তার বাবা কাজী মতিয়ার রহমান পেশায় ব্যবসায়ী। তাদের বাড়ি নগরীর
মৌলভীপাড়ার টিবি বাউন্ডারি রোডে।

No comments:
Post a Comment