শিল্পায়নের
উন্নয়ন ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় বসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার
প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নও হচ্ছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ট্রাম্পবিরোধী রাজনৈতিক
সঙ্গীতের দিক দিয়ে ইতিমধ্যে সফলতা অর্জন করেছেন তিনি। ট্রাম্পের
প্রেসিডেন্সিবিরোধী সঙ্গীত দিন দিন বেড়েই চলেছে। কুড়াচ্ছে জনপ্রিয়তাও। ফলে
ট্রাম্প জমানায় ফের রাজনৈতিক সঙ্গীত বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। নির্বাচনী
প্রচারণা থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয়ী হওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত
মেক্সিকো অভিবাসী, মুসলিম ও অন্য সংখ্যালঘুদের নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের
ওপর প্রতিবাদী সঙ্গীত তৈরি করেছে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যান্ড দল। ক্রুদ্ধ সুর,
উচ্চমাত্রার জ্বালাময়ী গিটারের ঝংকার এবং কঠোর ভাষার এসব গানে রাজনৈতিক
স্বাদ রয়েছে। ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সম্প্রতি দুটি ব্যান্ড দল
তাদের প্রথম গান প্রকাশ করেছে। ইন্ডি রক সঙ্গীতের জন্য বিখ্যাত কানাডার
শীর্ষস্থানীয় মিউজিক ব্যান্ড ‘আরকেড ফায়ার’ এবং ইংল্যান্ডের সঙ্গীত তারকা
ড্যামন আলবানের ব্যান্ড ‘গরিলাজ’ তাদের গান প্রকাশ করেছে। আরকেড ফায়ার
ব্যান্ডের ‘আই গিভ ইউ পাওয়ার’ (আমি তোমাকে ক্ষমতা দেই) শিরোনামের গানটিতে
নাচের সমন্বয়ে কণ্ঠ দিয়েছেন মার্কিন শিল্পী ও বিজ্ঞ অধিকারকর্মী মাভিস
স্ট্যাপল।
ব্যান্ড দলটি জানায়, তারা মানবাধিকার সংস্থা আমেরিকান সিভিল
লিবার্টিস ইউনিয়নকে অর্থ দিতে চায়। সংস্থাটি ট্রাম্পের উগ্রপন্থী মন্তব্যের
বিরুদ্ধে আদালতে লড়তে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অন্যদিকে গরিলাজ ব্যান্ডের
‘হালেলুজাহ মানি’ শিরোনামের গানটিতে যান্ত্রিক কারসাজির তালে কণ্ঠ দিয়েছেন
মারকিউরি মিউজিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সঙ্গীত শিল্পী বেঞ্জামিন
ক্লেমিনটিন। নির্বাচনের পর থেকে বেশ কয়েকটি মিউজিক ব্যান্ড গান তৈরির
ব্যাপারে সক্রিয় হয়েছে। নভেম্বর মাসে আমেরিকার মিউজিক অ্যাওয়ার্ড
অনুষ্ঠানের সময় গ্রিন ডে নামের মার্কিন রক ব্যান্ড ‘নো ট্রাম্প! নো কেকেকে!
নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ!’ শিরোনামে একটি গান পরিবেশন করে। এটি ট্রাম্পবিরোধী
বিক্ষোভের সময়ও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ট্রাম্পের শপথকে টার্গেট করে
র্যাপার জোয়ে বাডা ‘ল্যান্ড অব দ্য ফ্রি’ শিরোনামে গান প্রকাশ করে।
মার্কিন ডিজে শিল্পী মবি ‘ইরাপ্ট অ্যান্ড ম্যাটার’ শিরোনামে অনলাইনে একটি
ভিডিও গান প্রকাশ করেছে। নারীদের অধিকার নিয়ে গান করা মার্কিন শিল্পী
ফিয়োনা আপলও রাজনৈতিক সঙ্গীতে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। ‘টাইনি হ্যান্ড’ (ছোট
হাত) শিরোনামে একটি গান মুক্তি পেয়েছে তার। এ ছাড়া ‘৩০ দিনে ৩০টি গান’
(থার্টি ডেজ, থার্টি সংস) নামের একটি যৌথ প্রকল্প চালু করে সফল হয়েছে রক
ব্যান্ড আরইএম, ডেথ ক্যাব ফর কুটি, আইমি ম্যান এবং ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ।
অভিবাসী নারী, জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য ইস্যুতে নতুন মার্কিন প্রশাসনের
হুমকির বিরুদ্ধে ১০ অক্টোবর এ প্রকল্প চালু করেন মার্কিন লেখক ও প্রকাশক
ডেভ ইগারস। এএফপি।

No comments:
Post a Comment