একইদিনে
মুদ্রার দুই পিঠই দেখলেন ইমরুল কায়েস। নিয়মিত উইকেটকিপার নন তিনি। অধিনায়ক
মুশফিকুর রহিমের চোট তাকে নিয়ে আসে উইকেটের পেছনে। সুযোগ পেয়েই রেকর্ড
গড়লেন উইকেটকিপার ইমরুল। পাঁচটি ক্যাচ নিয়ে এ রেকর্ড গড়েন তিনি। তা
উইকেটকিপার ক্যাচ নেবেন এটাই স্বাভাবিক। রেকর্ডটা এজন্যই যে, এই প্রথম
টেস্ট ইতিহাসে কোনো বদলি উইকেটকিপারের পাঁচ ক্যাচ নেয়ার নজির তৈরি হল।
পাশাপাশি ইমরুল বাংলাদেশের হয়ে ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসালের রেকর্ডও
স্পর্শ করেন। এমনদিনে হাসিমুখে মাঠ ছাড়ার কথা ছিল তার। কিন্তু তিনি মাঠ
ছাড়লেন স্ট্রেচারে। রোববার ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভ দেখল ইমরুলের সৌভাগ্য ও
দুর্ভাগ্য দুই-ই।
এও এক আশ্চর্য যে, ইনজুরির দরুন কিপিং থেকে ছিটকে পড়েন
মুশফিক। তার বদলি হিসেবে উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো ইমরুলও একই পথের পথিক হলেন।
তবে মুশফিক ও ইমরুল দু’জনই চোটাক্রান্ত হন ব্যাটিং করার সময়। ইমরুলের
দুর্ভাগ্য, কিপিং ঠিকঠাক মতো করার পর ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপত্তি। দ্রুত রান
নিতে গিয়ে ডেকে আনলেন অনাকাঙ্ক্ষিত চোট। ঝাঁপ দিয়েছিলেন রানআউট হওয়া থেকে
বাঁচার জন্য। সেটাই হল কাল। আর উঠতে পারলেন না। স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন
যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখে। রোববার বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড প্রথম টেস্টের
চতুর্থদিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ দলের মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম জানান,
‘ইমরুল চোট পেয়েছেন বাঁ-পায়ের ঊরুতে। দিনের খেলা শেষে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়
হাসপাতালে। এক্সরে’তে অবশ্য কিছু ধরা পড়েনি।’ রাবিদের দেয়া তথ্যমতে, পরে
আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান করানোর কথা ইমরুলের। চোটের শিকার হওয়ার আগে
বাংলাদেশের হয়ে ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসালের রেকর্ড স্পর্শ করেন ইমরুল।
এর আগে দুই দফায় ইনিংসে পাঁচবার ডিসমিসাল করেছিলেন মুশফিক।
২০১০ সালে
ভারতের বিপক্ষে মিরপুরে এবং ২০১৩ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে কলম্বোয়। আগের দিন
জিত রাভালের ক্যাচ নিয়ে ইমরুলের শুরু। পরে নিয়েছেন কিউই অধিনায়ক কেন
উইলিয়ামসনের ক্যাচ। আর চতুর্থদিনে তার গ্লাভসে জমা পড়েছে কলিন ডি
গ্র্যান্ডহোমের ক্যাচ। বিজে ওয়াটলিংয়ের ক্যাচটি ছিল অসাধারণ। লেগ স্টাম্পের
বাইরে মাহমুদউল্লাহর বাজে বলটিতে যেভাবে ক্যাচ নিয়েছেন, সেটি গর্বিত করবে
কোনো বিশেষজ্ঞ কিপারকেও। যার বলে নিয়েছিলেন প্রথম ক্যাচ, সেই কামরুল ইসলাম
রাব্বির বলে নিল ওয়েগনারের ক্যাচ নিয়ে পূর্ণ করেন পঞ্চম ডিসমিসাল। ১৪৩
বছরের টেস্ট ইতিহাসে বদলি উইকেটকিপার হিসেবে এক ইনিংসে পাঁচটি ক্যাচ নেয়ার
কীর্তি নেই আর কারও। আগের রেকর্ডটি ছিল পাকিস্তানের মাজিদ খানের। ১৯৭৭ সালে
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়াসিম বারির বদলে কিপিং করতে নেমে চারটি ক্যাচ
নিয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনায় মুশফিকের চোটেই ১২০
ওভার কিপিং করেছিলেন ইমরুল। তবে সেবার ছিল না কোনো ডিসমিসাল।

No comments:
Post a Comment