জাপান
সাগরে নতুন একটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর
কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শুরুর পর এটিই
উত্তর কোরিয়ার প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। বিবিসির খবরে বলা হয়, রোববার
সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে কোরীয় উপদ্বীপের পশ্চিম পাশের উত্তর পিয়ঙ্গান প্রদেশের
বাঙ্গিয়ন বিমানঘাঁটি থেকে এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়। উৎক্ষেপণের পর
ক্ষেপণাস্ত্রটি ৫০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে জাপান সাগরে পড়েছে বলে
জানিয়েছে দক্ষিণ কোরীয় সেনাবাহিনী। ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপের কিছুক্ষণ পর
জাপানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক
সময়ে পরমাণু বোমা এবং ব্যালাস্টিক ও আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের বেশ
কয়েকটি পরীক্ষা চালিয়েছে, যা নিয়ে ওই এলাকায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। দক্ষিণ
কোরিয়া এবং পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানান, জাপানের দিকে লক্ষ্য করে এ
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র বলেন,
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে
জানিয়েছেন। এদিকে, জাপানকে যুক্তরাষ্ট্র শতভাগ সমর্থন দেবে বলে আশ্বাস
দিয়েছেন ট্রাম্প। বর্তমানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে যুক্তরাষ্ট্র
সফরে রয়েছেন। আবের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কেবল
সবাইকে জানাতে ও বোঝাতে চাই যে জাপানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শতভাগ সমর্থন
আছে।’ জাপানের নেতা উত্তর কোরিয়ার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রতি
নিন্দা জানিয়ে এ বিষয়টিকে ‘অসহ্য’ বলে উল্লেখ করেন।
আবে বলেন, ‘উত্তর
কোরিয়ার অবশ্যই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট নীতি মেনে চলা
দরকার।’ অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক
ডেকেছে। দেশটির জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের অফিস থেকে উত্তর কোরিয়ার এ
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ‘শক্তির প্রদর্শনী’ অ্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। বছরের
শুরুতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বলেছিলেন, তার দেশ শিগগিরই নিউক্লিয়ার
ওয়ারহেড বহনে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাবে। গত সপ্তাহে
দক্ষিণ কোরিয়া সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস
ম্যাটিস সতর্ক করে বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়া তেমন কিছু ঘটালে যুক্তরাষ্ট্র
প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করবে না। উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলায় এ বছরের
শেষ দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম বসানোরও
ঘোষণা দেন তিনি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তর কোরিয়া নতুন আন্তঃমহাদেশীয়
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর আভাস দিয়ে বলেছিল, তাদের এ ক্ষেপণাস্ত্রটি
যুক্তরাষ্ট্রের সীমানায় আঘাত হানতে সক্ষম। ২০১৬-এর সেপ্টেম্বরে দেশটি পঞ্চম
বারের মতো পারমাণবিক বোমার সফল পরীক্ষা চালানোর কথা জানায়। বিশেষজ্ঞরা সে
সময় বলেছিল, উত্তর কোরিয়া দাবি করলেও তাদের প্রযুক্তি এখনও যুক্তরাষ্ট্রে
হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা অর্জন করেনি।

No comments:
Post a Comment