মাসব্যাপী
২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পর্দা নামল। এবারের মেলায় ২৪৩ কোটি
৪৪ লাখ টাকার রফতানি আদেশ এসেছে, যা গতবারের চেয়ে আট কোটি টাকা বেশি। আর
পুরো মাসে মেলায় বিক্রি হয়েছে ১১৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। শনিবার বাণিজ্য মেলার
সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ভাইস
চেয়ারম্যান বেগম মাফরূহা সুলতানা এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি
ছিলেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য
সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন ও এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। সৈয়দ
আশরাফ বলেন, এত বড় আয়তনে মেলার আয়োজন করা হয় ধারণা ছিল না। দর্শনার্থী ও
প্যাভিলিয়ন দেখে মনে হয়েছে ভবিষ্যতে এখানে মেলা করা সম্ভব হবে না। তাই
মেলার স্থায়ী কাঠামো নির্মাণের জন্য বড় একটি জায়গা নেয়া হয়েছে। সেখানে
স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। আগামীতে আরো বড় পরিসরে বাণিজ্য মেলার
আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, বাংলাদেশে মেধার কোনো অভাব
নেই। এমন চিন্তা, চেতনা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা কম দেশের মানুষেরই আছে।
প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সুযোগ দেয়া হলে অচিরেই
বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিগণিত হবে। তিনি আরো বলেন, পাঁচ বছর আগের
বাংলাদেশ আর এখনকার বাংলাদেশ এক নয়। প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে
দুর্বারগতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা
দেশকে এগিয়ে নেয়ার কাজ করছেন। এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব আহমাদ বলেন, একসময়
বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হতো। এখন বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।
জাপান, হাঙ্গেরির মানুষ বাংলাদেশের মানুষকে মিরাকল দেশের বাসিন্দা বলে
ডাকেন। একটা সময় আসবে যখন বিদেশের ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশীদের সালাম দিয়ে
আমন্ত্রণ জানাবে। ইতিমধ্যেই ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশকে অন এরাইভাল ভিসা
দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আগে বাংলাদেশে ফার্নিচার, জুতা আমদানি হতো। এখন
রফতানি হয়। এক পণ্যের (পোশাক) ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে রফতানি পণ্য
বহুমুখীকরণ করতে হবে। এ জন্য ইপিবি প্রোডাক্ট ও মার্কেট ডাইভারসিফিকেশনে
কাজ করছে। আগামীতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধান এবং ‘ইজ অব ডুয়িং
বিজনেস’-এর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। মেলায় অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা দিয়ে
তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে প্রথম বাণিজ্য মেলায় অংশ নেই। তখন বাঁশ দিয়ে স্টল
বানিয়ে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছিলাম।
এখন মেলায় পরিসর অনেক বেড়েছে। স্বাগত
বক্তব্যে মাফরূহা সুলতানা বলেন, বাণিজ্য মেলা একটি প্ল্যাটফরমে তৈরি হয়েছে।
যেখানে উৎপাদকরা তাদের নতুন পণ্য ও ব্র্যান্ডকে পরিচিত করার সুযোগ
পাচ্ছেন। এ মেলা পশ্চাৎপদ শিল্প উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইপিবি
সূত্রে জানা গেছে, এবারের মেলায় ৫৯০টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন অংশ নেয়।
প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৬৪টি, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৭টি, সাধারণ স্টল
২৮৯টি, বিদেশী প্যাভিলিয়ন ২৮টি অংশ নেয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ২০ দেশের
ব্যবসায়ীরা মেলায় অংশ নেন। এর মধ্যে সমাপনী অনুষ্ঠানে অবকাঠামো, স্থাপত্য
বিবেচনায় নিয়ে ১১টি ক্যাটাগরিতে ৪২ প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়।
শেষ দিনে পণ্য কেনায় কাড়াকাড়ি : এদিকে বাণিজ্য মেলার শেষ দিনে আগত
ক্রেতারা পণ্য কিনতে ব্যস্ত ছিলেন। বিকাল থেকে মেলা মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত
হয়। আগতদের সবাই সাধ্য অনুযায়ী পণ্য কিনেছেন। আর শেষ মুহূর্তে বিক্রি
বাড়াতে সর্বোচ্চ ছাড় দেয় স্টল-প্যাভিলিয়নগুলো। খাদ্যসামগ্রী, ক্রোকারিজ
আইটেম, গৃহস্থালি সামগ্রী ও ইলেকট্রুনিক্স পণ্যের প্যাভিলিয়নে ক্রেতারা
হুমড়ি খেয়ে পড়েন।

No comments:
Post a Comment