Monday, February 13, 2017

কাজ ছিনতাই ডাকাতি টার্গেট প্রাইভেট কার

তারা চলেন বিলাসবহুল গাড়িতে। পরনে থাকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অ্যাপ্রোন, জ্যাকেট। কোমরে গোঁজা থাকে পিস্তল, গুলি। হাতে হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি। দেখে কে বলবে- তারা সত্যিকারের ডিবি নয়! তাদের টার্গেট গভীর রাতে প্রাইভেট কার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা রিকশার যাত্রী। ডিবি পরিচয়ে অস্ত্রের মুখে ওই যাত্রীদের গাড়িতে তুলে নেয়। পরে টার্গেট ব্যক্তিদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় সবকিছু। তারপর দূরে কোথাও নিয়ে গাড়ি থেকে ফেলে দেয়া হয়। এ ‘ডিবি’রা অংশ নেয় ডাকাতিতেও। দিনের বেলা যারা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বের হয় তাদেরও টার্গেট করে তারা। বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে তাদের সোর্স। সোর্সদের কাছে ব্যাংকের চেকবইসহ বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র থাকে। যে কেউ তাদের দেখলে মনে করবেন তারা কাজেই ব্যাংকে এসেছেন। তাদের ডাকাত বা ছিনতাইকারীদের সোর্স মনে করার কোনো উপায় থাকে না। রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন। তিনি বলেন, রাজধানীতে এ ধরনের ভুয়া ডিবি পুলিশের ৬-৭টি চক্র সক্রিয়। রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে একটি চক্রের ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাকা ডিবি পুলিশের পূর্ব বিভাগের খিলগাঁও জোনাল টিম তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হল- ইউসুফ কাজী, আলাউদ্দিন আলী, আকাশ রহমান মিন্টু, আফসার আলী, ফারুক হোসেন, আবদুল মালেক মিয়া, মাসুদ পারভেজ, শাহীন কাজী,
লিটন শেখ, মাসুম গাজী ও আসলাম শেখ। তাদের দুইদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এদের কাছ থেকে ৩টি গাড়ি, ৫ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন, ৩টি বিদেশী পিস্তল, দুটি দেশীয় পাইপগান, একটি ওয়াকিটকি, ৫টি ডিবি পুলিশের জ্যাকেট, ৫টি হ্যান্ডকাফ ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। এ সময় এদের সঙ্গে থাকা আরও সাতজন পালিয়ে যায়। পরে তাদের বিরুদ্ধে সবুজবাগ থানায় দুটি মামলা করা হয়। আবদুল বাতেন বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতি করে থাকে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে কোনো দোকানির পুলিশের সামগ্রী বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আছে। তারপরও এদের কাছে কীভাবে এসব সামগ্রী গেল, তা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো সদস্য জড়িত আছেন কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভিন্ন প্রশ্নে এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা এর আগে কতগুলো ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে রিমান্ডে এনে এ বিষয়ে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আরেক প্রশ্নে ডিবির যুগ্ম কমিশনার জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ইউসুফ কাজীকে দলনেতা মনে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ছিনতাই বা ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত গাড়িগুলো ভাড়া করে আনা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা গাড়িচালককে ম্যানেজ করে ফেলে। কখনও আবার তারা নিজেদের লোক দিয়ে গাড়ি চালায়।

No comments:

Post a Comment