শার্শায়
পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে ছাত্রলীগ নেতাকে। তার নাম নূর হোসেন বিপ্লব।
স্থানীয় আওয়ামী লীগে এমপি-মেয়র গ্রুপে দ্বন্দ্বের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড।
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে যশোরের শার্শা উপজেলার মাটিপুকুর গ্রামে এ ঘটনা
ঘটে। বিপ্লব তখন একটি ধর্মীয় সভা শুনতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে প্রতিপক্ষের
লোকজন তাকে হাতুড়িপেটা, কিলঘুষি ও অণ্ডকোষ চেপে ধরে গুরুতর জখম করে ফেলে
রেখে যায়। হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। উপজেলার জিরেনগাছা গ্রামের
নজরুল ইসলামের পুত্র বিপ্লব নাভারন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি
ছাত্রলীগের উলাশি ইউনিয়নের সহসভাপতি ছিলেন বলে দাবি মেয়র গ্রুপ ছাত্রলীগের।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা
হয়েছে। এদিকে বিপ্লব হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে মেয়র সমর্থকরা শনিবার রাতে
নাভারন মোড়ে যশোর-বেনাপোল সড়ক অবরোধ করে। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ
করে। পরে পুলিশ এসে অবরোধ সরিয়ে দেয়। বিক্ষুব্ধরা প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা
চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। স্থানীয়রা বলছেন,
শার্শায় এমপি শেখ আফিল
উদ্দিন ও বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম লিটনের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের
ধরে গোটা উপজেলায় আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। বিপ্লব মেয়র গ্রুপের সমর্থক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শার্শার জিরেনগাছা গ্রামের ক্ষমতাসীন
দলের মেয়র গ্রুপের সমর্থক শাহানুর মেম্বার গ্রুপ ও এমপি গ্রুপের সমর্থক
হিসেবে পরিচিত হাসান মেম্বার গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এর জের ধরে
সম্প্রতি শাহানুর মেম্বার গ্রুপের লোকজন হাসান মেম্বার গ্রুপের সমর্থকদের
মারধর করে। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গ্রামেই ধর্মীয় সভা শুনতে যান
বিপ্লব। এ সময় হাসান মেম্বার ও তার লোকজনের সঙ্গে বিপ্লবের কথা কাটাকাটি
হয়। একপর্যায়ে তারা হাতুড়িপেটা, লাথি-ঘুষি ও অণ্ডকোষ চেপে ধরে বিপ্লবকে আহত
করে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। ওই রাতেই উত্তেজিত জনতা
জিরেনগাছা গ্রামের এমপি শেখ আফিল উদ্দিন গ্রুপ সমর্থিত ১০ নেতাকর্মীর
বাড়িতে ভাংচুর চালিয়ে আগুন দেয়। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকা। এলাকায় উত্তেজনা চলছে। নাভারন ও
জিরেনগাছা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে রোববার সকালে
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নাভারন বাজারে পুলিশ প্রহরায় মেয়র গ্রুপের ছাত্রলীগ
এক বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা হত্যাকারীদের শাস্তি দাবিতে স্লোগান দেয়।
নিহত বিপ্লবের পিতা নজরুল ইসলাম জানান, বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম
লিটনের সভায় যাওয়ার কারণে আমার পুত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এমপি শেখ আফিল উদ্দিন গ্রুপ
সমর্থিত হাসান মেম্বারের নেতৃত্বে ১০-১২ সন্ত্রাসী আমার ছেলেকে পিটিয়ে
হত্যা করেছে। নিহত বিপ্লবের মা আমিরন নেছা হত্যাকাণ্ডে জড়িত হাসান
মেম্বারের ফাঁসি দাবি করেন। শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রহমান
জানান, শার্শায় আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ রয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন এমপি
আফিল উদ্দিন অন্যপক্ষে বেনাপোল পৌরসভা মেয়র আশরাফুল আলম লিটন। শনিবার
বিকালে নাভারনে লিটন পক্ষের সভা ছিল। এতে যোগ দেন বিপ্লব। তার জের ধরে এমপি
আফিল উদ্দিনের পক্ষের হাসান মেম্বারের নেতৃত্বে বিপ্লবের ওপর হামলা চালিয়ে
তাকে হত্যা করা হয়। উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হোসেন বলেন,
হত্যাকারীদের দ্রুত আটক না করা হলে ছাত্রলীগ অন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা
করবে। শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান,
বিপ্লবের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পিতা মামলা করেছেন। আসামি গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

No comments:
Post a Comment