সকাল
৯টায় চানখাঁরপুল মোড়। শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা
জানানোর পর নগ্ন পায়ে হেঁটে আসছিলেন দুই তরুণী পারুল ও তাসনুভা। পরনে থাকা
শাড়িতে ছড়িয়ে রয়েছে বাংলা বর্ণমালা। পায়ের জুতো চানখাঁরপুলের এক ওষুধের
দোকানে রেখে শহীদ মিনারে গিয়েছিলেন তারা। উদ্দেশ্য, শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা
নিবেদন শেষে দিনভর বইমেলায় ঘুরে বেড়ানো।
একটু সামনে যেতেই দেখা গেল ছোট্ট
শিশু ফাহিম তার বাবা-মায়ের হাত ধরে বইমেলার দিকে যাচ্ছে। হাঁটা ছাড়া উপায়
নেই। ফাহিমের ছোট্ট গালে শহীদ মিনারের আলপনা আঁকা। একটু আগেই আঁকিয়ে নিয়েছে
ভ্রাম্যমাণ শিল্পী দিয়ে। হেঁটে পথ চললেও মুখে ছিল হাসি। জিজ্ঞেস করতেই
বলল, ‘বইমেলায় যাব তো!’ সাধারণ মানুষের এমনি টুকরো টুকরো ছবিগুলো অমর একুশে
ফেব্রুয়ারির দিনের। আর হাজারও এমন ছবি একুশে বইমেলাকে পরিণত করেছে
জনস্রোতে। শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জণারণ্যে পরিণত হয় মেলা।
সকাল থেকে শুরু করে রাতে মেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত ছিল ভিড় আর ভিড়। সন্ধ্যায়
তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না মেলায়। অমর একুশের দিনটি শোকের। বাংলা ভাষার জন্য
যারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। এ
শোক এখন শক্তিও। কারণ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে দিনটি সারা বিশ্বে
পালিত হচ্ছে। তাই শোক ও আনন্দ দুটোই মিলেমিশে একাকার। ভাষা দিবসের চেতনাকে
হৃদয়ে ধারণ করে পথে নামে মানুষের ঢল। আর সব পথ মিশে যায় শহীদ মিনারের পথে।
শহীদ বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো শেষে সবাই আসেন একুশের চেতনা লালিত
বইমেলায়।
বইমেলার দ্বার মঙ্গলবার খুলে যায় সকাল ৮টায়। চলে রাত সাড়ে ৮টা
পর্যন্ত। দিন যত গড়ায় মেলায় ভিড় তত বাড়ে। ছুটির দিন বলে মেলায় ভিড় থাকবে
এটাই স্বাভাবিক। তবে সাধারণত এমন দিনগুলোতে ভিড়ের তুলনায় বই বিক্রি কম হয়।
কিন্তু এবারের ২১ ফেব্রুয়ারির দিনটি ছিল ব্যতিক্রম। ভিড়ের সঙ্গে বিক্রিও
ছিল বেশ। সকাল থেকেই মেলায় ছিলেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।
অটোগ্রাফ দিয়ে গেছেন একটার পর একটা। বিকালে মেলায় গিয়েও দেখা গেল একই
অবস্থা। ইমদাদুল হক মিলন যুুগান্তরকে বলেন, মেলায় এবার এমনটা হবে এটাই
স্বাভাবিক। তবে আমি বলব, অন্যান্যবারের তুলনায় একুশের দিনে বইয়ের বিক্রি
বেড়েছে অনেক বেশি। দুপুরে মেলায় আসেন জ্ঞান এবং সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির
সভাপতি ও অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম। মেলা নিয়ে তিনি
বলেন, চমৎকার মেলা হচ্ছে। প্রচুর পাঠকের সমাবেশ। তবে মেলায় কিছু অসঙ্গতি
এখনও রয়ে গেছে। পাইরেটেড বই, ভারতীয় লেখকদের বই বিক্রি করা হচ্ছে অনকে
স্টলে। এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। একুশের দিনে মেলা
কেমন চলছে জানতে চাইলে জ্ঞান ও সৃশনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক ও
পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের পরিচালক কামরুল হাসান শায়ক বলেন, স্মরণকালের সেরা
মেলা হচ্ছে এবার। পৃথিবীতে মাসব্যাপী বইমেলা কোথাও নেই। কিন্তু আমাদের এ
প্রাণের মেলার যে স্পন্দন তা দেখলে মনে হয় মেলা আরও কিছুদিন বাড়ানো উচিত।
নতুন বই : বাংলা একাডেমির সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার মেলার ২১তম দিনে নতুন ২৬১টি বই প্রকাশ হয়েছে। পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশ হয়েছে সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ‘আমাদের সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য প্রবন্ধ’, অন্যপ্রকাশ থেকে জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের ‘গল্প পঞ্চাশৎ’, তাম্রলিপি থেকে আয়েশা ফয়েজের ‘শেষ চিঠি’, অনন্যা থেকে নাসরীন নঈমের ‘ঘুমের ভেতর হেঁটে যাই’, তাম্রলিপি থেকে মোশতাক আহমেদ রুহীর ‘রাজনীতি হযবরল’, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে নওশাদ জামিলের ভ্রমণ কাহিনী ‘লংকাপুরীর দিনরাত্রি, দেশ পাবলিকেশন্স থেকে খান চমন-ই-এলাহির ‘মৃত্যুবার্ষিকীর আগে প্রথম শোকসভা’, মম প্রকাশ থেকে দীপক চৌধুরীর ‘দিনবদলে শেখ হাসিনা’, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে শাকুর মজিদের ‘ময়ূরের গ্রাম’, অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে শামসুজ্জামান খানের ‘সাম্প্রতিক ফোকলোর ভাবনা’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘সায়েন্স ফিকশন সমগ্র’, পাঠক সমাবেশ থেকে কামাল চৌধুরীর ‘কন্যাকে নিয়ে লেখা’, পুঁথিনিলয় থেকে জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের ‘দাম্পত্য জীবনের গল্প’, সূচিপত্র থেকে অধ্যাপক আবু সাঈদের ‘কোর্ট মার্শাল আমি মৃত্যুকে পরোয়া করি না’।
যত আয়োজন : বইমেলার মূলমঞ্চে সকালে ছিল স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। এতে ১২০ নবীন-প্রবীণ কবি কবিতা আবৃত্তি করেন। সভাপতিত্ব করেন কবি মোহাম্মদ সাদিক।
বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘ধর্মীয় বহুত্ববাদ : বাঙালি গৌরবময় উত্তরাধিকার’ শীর্ষক বক্তৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতিহাসবিদ ড. আবদুল মমিন চৌধুরী। স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সভাপতিত্ব করেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল ফকির সিরাজের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী’। এছাড়া সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী আবদুল জব্বার, ফকির আলমগীর, নমিতা ঘোষ, শিবু রায়, আবদুল হালিম খান এবং স্বর্ণময়ী মণ্ডল।
নতুন বই : বাংলা একাডেমির সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার মেলার ২১তম দিনে নতুন ২৬১টি বই প্রকাশ হয়েছে। পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশ হয়েছে সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ‘আমাদের সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য প্রবন্ধ’, অন্যপ্রকাশ থেকে জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের ‘গল্প পঞ্চাশৎ’, তাম্রলিপি থেকে আয়েশা ফয়েজের ‘শেষ চিঠি’, অনন্যা থেকে নাসরীন নঈমের ‘ঘুমের ভেতর হেঁটে যাই’, তাম্রলিপি থেকে মোশতাক আহমেদ রুহীর ‘রাজনীতি হযবরল’, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে নওশাদ জামিলের ভ্রমণ কাহিনী ‘লংকাপুরীর দিনরাত্রি, দেশ পাবলিকেশন্স থেকে খান চমন-ই-এলাহির ‘মৃত্যুবার্ষিকীর আগে প্রথম শোকসভা’, মম প্রকাশ থেকে দীপক চৌধুরীর ‘দিনবদলে শেখ হাসিনা’, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে শাকুর মজিদের ‘ময়ূরের গ্রাম’, অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে শামসুজ্জামান খানের ‘সাম্প্রতিক ফোকলোর ভাবনা’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘সায়েন্স ফিকশন সমগ্র’, পাঠক সমাবেশ থেকে কামাল চৌধুরীর ‘কন্যাকে নিয়ে লেখা’, পুঁথিনিলয় থেকে জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের ‘দাম্পত্য জীবনের গল্প’, সূচিপত্র থেকে অধ্যাপক আবু সাঈদের ‘কোর্ট মার্শাল আমি মৃত্যুকে পরোয়া করি না’।
যত আয়োজন : বইমেলার মূলমঞ্চে সকালে ছিল স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। এতে ১২০ নবীন-প্রবীণ কবি কবিতা আবৃত্তি করেন। সভাপতিত্ব করেন কবি মোহাম্মদ সাদিক।
বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘ধর্মীয় বহুত্ববাদ : বাঙালি গৌরবময় উত্তরাধিকার’ শীর্ষক বক্তৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতিহাসবিদ ড. আবদুল মমিন চৌধুরী। স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সভাপতিত্ব করেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল ফকির সিরাজের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী’। এছাড়া সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী আবদুল জব্বার, ফকির আলমগীর, নমিতা ঘোষ, শিবু রায়, আবদুল হালিম খান এবং স্বর্ণময়ী মণ্ডল।

No comments:
Post a Comment