পাকিস্তানের
সিন্ধ প্রদেশের আলোচিত যুদ্ধবাজ গ্রুপ 'লিয়ারি গ্যাং' কমান্ডার নুর
মুহাম্মদ ওরফে বাবা লাডলা দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন।
এছাড়া বাবা লাডলার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী সিকান্দার ওরফে সিক্কো এবং মোহাম্মদ
ইয়াসিন ওরফে মামাও গুলিতে নিহত হন। বৃহস্পতিবার সিন্ধ প্রদেশের রাজধানী
করাচির পার্শ্ববর্তী লিয়ারি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
জানিয়েছে আধা সামরিক বাহিনী পাকিস্তান রেঞ্জার্স।
বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা
হয়েছে, 'মোস্ট ওয়ান্ডেট' বাবা লাডলা বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলা এবং জঘন্য
অপরাধের ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহভাজন ছিলেন। লিয়ারির ফুল পট্টি এলাকায়
অবস্থানের খবর পেয়ে পাকিস্তান রেঞ্জার্স তল্লাসি অভিযান শুরু করে। এক
পর্যায়ে রেঞ্জারদের দেখতে পেয়ে তাদের ওপর গুলিবর্ষণ এবং হ্যান্ড গ্রেনেড
ছুড়তে শুরু করে বাবা লাডলার সহযোগীরা। এরপর ৩৫ মিনিট ধরে চলা
বন্দুকযুদ্ধকালে রেঞ্জার্সের গুলিতে বাবা লাডলা এবং তার দুই সহযোগী নিহত
হয়। তাদের অবস্থানস্থল থেকে একটি কালাশনিকভ রাইফেল (একে-৪৭), একটি নাইন
এমএম পিস্তল, একটি নাইন এমএম মাউসার (জার্মান রাইফেল) এবং একটি পিস্তল এবং
হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধারের করা হয়। পাক রেঞ্জার্স জানিয়েছে, পুলিশ ৭৪টিরও
বেশি মামলায় বাবা লাডলাকে মোস্ট ওয়ান্টেড ঘোষণা করেছিল। এছাড়া লিয়ারি
গ্যাংয়ের প্রধান বিভিন্ন টর্চার সেল পরিচালনা করে লিয়ারি এলাকায় আতঙ্ক এবং
ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল।
লাডলার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর মধ্যে
উল্লেখযোগ্য হলো, ২০১২ সালে পুলিশের একটি পার্টিতে হামলা চালিয়ে দুজন পুলিশ
সদস্যকে হত্যা; যুদ্ধবাজ নেতা আরশাদ পাপ্পু, ইয়াসির আরাফাত এবং শেরা
পাঠানকে হত্যা করে তাদের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা এবং ২০১৩ সালে তিনজনকে অপহরণ
করে নির্যাতনের পর হত্যা। করাচির বিভিন্ন গ্যাংয়ের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে গত
কয়েক বছর ধরে অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। এর অংশ হিসেবে লিয়ারিতেও
অনেক বার হানা দিয়ে তল্লাসি চালানো হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত
নিরাপত্তা বাহিনী বহু সন্দেহভাজন গ্যাংস্টার, মাদক ব্যবসায়ী এবং টার্গেট
কিলারকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া তারা এসএমজি, রকেট লাঞ্চার, হ্যান্ড গ্রেনেড
এবং একে-৪৭সহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

No comments:
Post a Comment