২২তম
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পর্দা নামছে আজ। শেষ মুহূর্তে উৎসবমুখর
পরিবেশে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন ক্রেতারা। সাংসারিক কাজে ব্যবহৃত
প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে সকাল থেকেই মেলায় লোকজন আসতে শুরু করেন। সাধ্য
অনুযায়ী সব শ্রেণীর ক্রেতাই পণ্য কিনেছেন। আর ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে
সর্বোচ্চ ছাড় দেয় স্টল-প্যাভিলিয়নগুলো। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন
হওয়ায় মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় কেনাকাটায় নতুন মাত্রা যোগ
করে।
সরেজমিন মেলা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে ক্রেতারা সপরিবারে মেলায়
হাজির হন। এদের মধ্যে অনেকে আগে কিছুটা কেনাকাটা করে গেছেন। শেষ দিকে বাকি
সামগ্রী কিনতে মেলায় এসেছেন। আবার অনেকে ছাড়ের আশায় ইচ্ছে করেই শেষে
এসেছেন। ক্রেতারা মেলায় প্রবেশের পর কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় কাটান। দুপুর
গড়িয়ে বিকাল হতেই মেলায় মানুষের ঢল নামে। এ সময় মূল সড়কের দুই পাশে সাময়িক
যানজট সৃষ্টি হয়। এরপর মেলায় প্রবেশের টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন ধরে
অপেক্ষা করতে হয়েছে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের। কসমেটিক্স, গৃহস্থালি সামগ্রী,
খাবার সামগ্রী, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, ইলেকট্রুনিক্স পণ্যের স্টল-প্যাভিলিয়নে
ক্রেতাদের ভিড় ছিল বেশি। আর ক্রেতাদের সুবিধার্থে ছাড় ও গিফটের সুযোগ
অব্যাহত রাখে প্যাভিলিয়নগুলো। যমুনা প্যাভিলিয়নের ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম
বলেন, ক্রেতাদের সুবিধার্থে যমুনা ইলেকট্রুনিক্সের পক্ষ থেকে মেলায়
আকর্ষণীয় গিফট ভাউচার ও ডিসকাউন্ট দেয়া হচ্ছে। এক হাজার টাকার পণ্য কিনলে
১০০ টাকা গিফট ভাউচার দেয়া হচ্ছে, যা দিয়ে পরে ক্রেতারা যমুনা ফিউচার
পার্কে কার্নিভাল ও ব্লকবাস্টার সিনেমাতে ছাড়ের সুবিধা পাবেন। ১০ হাজার
টাকার পণ্য কিনলে এক হাজার টাকার গিফট ভাউচার দেয়া হচ্ছে। এই ভাউচার দেখিয়ে
মেলা চলাকালীন যমুনার পণ্য ক্রয়ে ছাড় পাবেন ক্রেতারা। এ ছাড়া পণ্যের
মূল্যের ওপর আকর্ষণীয় ছাড় রয়েছে।
তিনি বলেন, সব শ্রেণীর ক্রেতার চাহিদার
কথা মাথায় রেখে ছোট-বড় ইলেকট্রুনিক্স সামগ্রী আনা হয়েছে। মেলায় ১৭০ থেকে
৩৪৮ লিটার পর্যন্ত ৫০ মডেলের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ফ্রিজ, ২০ থেকে ৫৫ ইঞ্চি
পর্যন্ত আকর্ষণীয় গড়নের এলইডি টিভি, ইলেকট্রিক ফ্যান, পাঁচ ধরনের হোম
অ্যাপ্লায়েন্স এবং এসি বিক্রি হচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করায়
যমুনার সব পণ্য জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। পাশাপাশি সর্বোচ্চ
ওয়ারেন্টি সুবিধা তো থাকছেই। নারায়ণগঞ্জ থেকে মেলায় আসা গৃহিণী মারিয়া
হোসেন বলেন, শুরুতে একবার মেলায় এসেছিলাম। তখন কিছু কেনাকাটা করে নিয়ে
গেছি। আর কিছু বাকি ছিল তা কিনতে মেলায় এসেছি। মেলায় কেনাকাটার কারণ জানতে
চাইলে তিনি বলেন, মেলায় সব ধরনের পণ্য একসঙ্গে পাওয়া যায়। বিশেষ করে
গৃহস্থালি সামগ্রী ও ক্রোকারিজ আইটেমের পণ্য ভালো পাওয়া যায়। পাশাপাশি
ঘোরাঘুরিও হয়। তাই কেনাকাটা করতে মেলায় আসা। এদিকে মেলায় খাবারের
দোকানগুলোতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য রাখায় ৪১টি
প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।
আর ক্রেতার
সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ৩০ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মেলায় দায়িত্ব
পালনকারী অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আবদুল জব্বার মণ্ডল বলেন, খাবারের
দোকানগুলোসহ অন্য স্টলগুলো আইন ভঙ্গ করায় প্রায় সাত লাখ টাকা জরিমানা করা
হয়েছে। এ ছাড়া হাজীর বিরিয়ানির নাম ব্যবহার করায় খাবারের দোকানগুলোকে
জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ক্রেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আদায় করা
জরিমানার অর্থের ২৫ শতাংশ অভিযোগকারী ক্রেতাকে পুরস্কার হিসেবে নগদ দেয়া
হয়েছে। ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, এবার মেলায় প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৬৪টি,
জেনারেল প্যাভিলিয়ন ১৬টি, বিদেশী প্যাভিলিয়ন ২৮টি, প্রিমিয়ার মিনি
প্যাভিলিয়ন ৩৭টিসহ মোট ৫৮০টি স্টল-প্যাভিলিয়ন রয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়া ২০টি
দেশ মেলায় অংশ নিয়েছে।

No comments:
Post a Comment