মুক্তবাজার
অর্থনীতির কল্যাণে, সেই সঙ্গে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ঋণ প্রকল্পের
আওতায় লেনদেনের কারণে বহু পরিচিত স্লোগান : ‘পৃথিবী এখন ছোট হয়ে এসেছে’।
অর্থাৎ পারস্পরিক প্রয়োজনে বিশ্বের বড়-ছোট সব দেশই আগের তুলনায় এখন একে
অন্যের অনেক কাছে। ধনী তথা দাতা দেশগুলোর চেষ্টা সাহায্যের বন্ধনে কথিত
তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর অর্থনীতির লাগাম নিজ নিয়ন্ত্রণে রাখা, অর্থনীতির
লাগাম-হাতে তাদের নিজ শাসনে রাখা। দাতা দেশগুলোর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে কত যে
ফেরত দিতে হয়, সর্বশেষ হিসাবে খাজনার চেয়ে যে বাজনা বেশি, কাঁধের বোঝা যে
এককালের মহাজনী ঋণের মতো ক্রমাগত ভারি হতে থাকে, লাভের চেয়ে লোকসান বেশি,
সামন্তবাদী যুগ পেরিয়ে এসেও আমাদের অর্থনীতিবিদদের এমন সর্বনাশা সত্য বুঝে
নিতে হচ্ছে। তাই একালে তাদের অনেকেই বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ থেকে ঋণ নেয়ার
নেতিবাচক দিক সম্বন্ধে সোচ্চার হতে শুরু করেছেন।
চাইছেন কষ্ট করে হলেও নিজ
সম্বলে ভর করে গুটি গুটি পায়ে এগোতে। হয়তো ওই ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা
সম্পর্কে মনে গানের কলি গুনগুনানি : ‘এ বোঝা আমার নামাও বন্ধু নামাও’।
কিন্তু নামাতে বললেই তো সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তি তাদের নিয়ন্ত্রণের সুতোটা
ছেড়ে দিতে চাইবে না। অর্থনৈতিক ভার সত্ত্বেও একটি স্বাধীন দেশে
শিক্ষা-সংস্কৃতিচর্চায় অগ্রসর শ্রেণীর আকাঙ্ক্ষা মরতে চায় না। আধুনিকতা ও
মননশীলতার টানে চলে ভাষিক ও জাতীয়তাবোধের গরিমা নানাসূত্রে ধরে রাখার
চেষ্টা। সেখানে কিছু কিছু বাতি জ্বালানোর চেষ্টা, বিশ্ব পরিসরে একটু জায়গা
করে নেয়ার ইচ্ছায়। বাংলাদেশকে এ স্তরের একটি রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করতে
চাইলে দেখা যায়, স্বাধীনতা অর্জনের প্রক্রিয়ায় পরিস্ফুট ভাষিক জাতীয়তাবোধ
ধরে রাখা এবং তার প্রসার ঘটানোর ইচ্ছা শিক্ষিত শ্রেণীর একাংশে এখনও রয়েছে।
ভাষিক গরিমাবোধের সক্রিয় তৎপরতার কারণেই তো দীর্ঘদিন পরে হলেও একুশে
ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে বিশ্বের দরবারে স্বীকৃতি
লাভ করেছে। অন্যদিকে বিশ্বের পঁচিশ-ছাব্বিশ কোটি বাংলাভাষী মানুষের তরফে
কিছুসংখ্যক বাংলাদেশীর চেষ্টা চলছে বাংলাকে জাতিসংঘের একটি ব্যবহারিক ভাষা
হিসেবে স্বীকৃতির জন্য। তাছাড়া রয়েছে মাতৃভাষা বাংলাকে ঐতিহ্যবাহী
সৃজনশীলতার গুণে বিশ্ব অঙ্গনে পরিচিত করে তোলার ইচ্ছাও।
বিশ্ব রাজনীতির
দাবা-পাশা খেলার ছকে মননশীলতা, সৃজনশীলতা, কূটনীতি ও রাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে
বাংলা একদিন আপন শক্তিতে না দাঁড়াতে পারার কোনো কারণ নেই। মুশকিল হল, সে
চেষ্টায় ব্রতী ভাষাপ্রেমী-জাতিপ্রেমী শিক্ষিত বা এলিটদের সংখ্যা দিন দিন
কমে যাচ্ছে মূলত ইংরেজির আগ্রাসনে, বিনোদনে হিন্দির প্রতাপে। তাই আমাদের
ভাষিক জাতিরাষ্ট্রে নতুন করে আবার ভাষার ব্যবহারিক ঘর গুছিয়ে নেয়ার প্রয়োজন
দেখা দিয়েছে। শুধু সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমেই নয়, দরকার পড়েছে
জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মাতৃভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করার। এক্ষেত্রে মূল
ভূমিকা রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত সরকারের, সেই সঙ্গে সহায়ক ভূমিকা সমাজের
শিক্ষিত শ্রেণীর। শেষোক্তদের ভূমিকা সহায়ক হলেও তা অতীব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ
তাদের হাত দিয়েই ঘটবে ভাষা ব্যবহারের বাস্তবায়ন। যেহেতু ‘প্রজাতন্ত্রের
রাষ্ট্রভাষা বাংলা’, তাই সংবিধানের এ তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা বাস্তবায়নে যেমন
সরকারের তেমনি শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর পিছু হটার অর্থ হবে সংবিধান লংঘন।
কথাটা তাদের মনে করিয়ে দিচ্ছি। সেই সঙ্গে মনে করিয়ে দিতে চাই, যে-সর্বজনীন
জাতীয় স্বার্থরক্ষার দায় নিয়ে লড়াইয়ের মাধ্যমে বাঙালির ভাষিক জাতিরাষ্ট্রের
প্রতিষ্ঠা, সে দায় পুরোপুরি বাস্তবায়নে দরকার জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে
অর্থাৎ প্রশাসনে, আদালতে ও শিক্ষার সর্বক্ষেত্রে মাতৃভাষার ব্যবহার নিশ্চিত
করা,
যাতে তৃণমূল স্তরেও উচ্চশিক্ষা-বিজ্ঞান শিক্ষার পথ প্রশস্ত হয়; এবং
তা সব শ্রেণীর জন্য একই ধারায়, যেখানে শিক্ষা গ্রহণে বৈষম্য তৈরির কোনো
সুযোগ থাকবে না। গণপ্রজাতন্ত্রে এমনটাই হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হচ্ছে না।
হয়তো শাসকশ্রেণী ঔপনিবেশিক হীনমন্যতার দায় মেটাতে বিপরীত পথে চলায়
স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। তাই দেখা যাচ্ছে সরকারি আনুকূল্যে
উচ্চশিক্ষা-বিজ্ঞান শিক্ষায় ইংরেজির ব্যবহার এবং বেসরকারি খাতে ইংরেজি
মাধ্যম শিক্ষায়তনের ব্যাপক উপস্থিতি- কিন্ডারগার্টেন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়
পর্যন্ত। ব্যয়বহুল এ শিক্ষা ধনীর সন্তানদের পক্ষেই সম্ভব। বাংলা ও ইংরেজি এ
দুই মাধ্যম শিক্ষার্থীদের দুই ভাগে বিভক্ত করে শিক্ষাক্ষেত্রে অহেতুক
সমস্যা তৈরি করে চলেছে। শিক্ষাক্ষেত্রের নীতিনির্ধারকরা এদিকটা ভেবে দেখছেন
না। পরিভাষা, আন্তর্জাতিকতা ইত্যাদি যেসব অজুহাতে বাংলাকে দূরে সরিয়ে রাখা
হয়েছে তা নিতান্তই খোঁড়া যুক্তি। এ বিষয়ে দুটো দেশীয় উদাহরণই যথেষ্ট।
চীনা ও জাপানির মতো প্রাচীন ও জটিল বর্ণমালার ভাষায় যদি বিজ্ঞানের
সর্বোচ্চ পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণা সম্ভব হতে পারে, তাহলে বাংলার মতো উন্নত
ভাষায় তা অসম্ভব হবে কেন? আসলে উপনিবেশবাদী শিক্ষায় অভ্যস্ত শিক্ষিত
শ্রেণীর মানসিকতা ও মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধের অভাব এর কারণ। অথচ ভাষিক
জাতীয়তার কী গভীর আবেগসিক্ত স্লোগান তুলেই না স্বাধীন জাতিরাষ্ট্রের
প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষিত শ্রেণীর স্বার্থরক্ষার ব্যবস্থা, যে ব্যবস্থার ধারা
এখনও অব্যাহত। স্বার্থসিদ্ধ হয়ে গেছে বিধায় বাংলাকে সর্বস্তরে প্রবর্তন করে
তৃণমূল স্তরের স্বার্থ পূরণের বিষয়টি ওই স্বার্থভোগী রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক
শাসকশ্রেণী অতি সহজে দূরে সরিয়ে রাখতে পেরেছে।
তাদের হয়তো মনে পড়ছে না
আন্দোলনে, সংগ্রামে একদা কী ব্যাপকতায় আমাদের শিক্ষিত শ্রেণীর মধ্যে বাংলা
প্রীতির প্রকাশ ঘটেছিল পঞ্চাশ থেকে ষাটের দশকজুড়ে। মনে পড়ছে তখন রাজপথের
আন্দোলনে, সাংস্কৃতিক চর্চায় বাংলা ও বাঙালিয়ানা গভীর এক আবেগের প্রকাশ
ঘটিয়েছিল। আবেগ বাংলার ব্যবহার নিয়ে। রাস্তার সাইনবোর্ড, বিপণিবিতানের নাম,
বাড়ির নাম, এমনকি ছেলেমেয়েদের নাম রাখার ক্ষেত্রেও ভাষিকপ্রেম ও
জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রকাশ। তখন তো তা নিখাদই মনে হয়েছিল। অন্তত একাত্তরের
স্বাধীনতা যুদ্ধের চরিত্র ও তার সাংস্কৃতিক প্রকাশ তেমনই বলে। তখন একুশের
স্লোগান, একুশের চেতনার আলোকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শ্রেণী-নির্বিশেষে
বিপুলসংখ্যক বাঙালির মগজে ঘণ্টা বাজিয়েছে, অতি অল্পসংখ্যক পাকিস্তানপন্থীর
কথা আলাদা। এমন আবেগ স্বাধীনতার পরও কিছু সময়তক দেখা গেছে। কিন্তু পরবর্তী
কয়েক দশকে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। সমাজে বিশেষত শিক্ষিত শ্রেণীতে মাতৃভাষা
বাংলা ক্রমশ পিছু হটছে। স্বাধীন ভাষিক জাতিরাষ্ট্রে বিগত সময়ের ঔপনিবেশিক
ভাষার প্রাধান্যে বাংলার বর্তমান কোণঠাসা অবস্থা। একুশ শতকে পৌঁছে তা
ক্রমশ ব্যাপক হয়ে উঠছে। বাংলাকে ঘিরে পরিস্ফুট একদা-আবেগ এখন কোথায় গিয়ে
ঠেকেছে তা বোঝা যায় রাস্তার সাইনবোর্ড, দোকানপাট বা প্রতিষ্ঠানের নাম
ইত্যাদির দিকে তাকালে। ষাটের দশকের ঠিক বিপরীত পরিস্থিতি। এর কারণ কি শুধু
বিশ্বায়ন? নাকি শাসকগোষ্ঠী ও সমাজে প্রভুত্ব বিস্তারকারী গোষ্ঠীর
শ্রেণীস্বার্থ, যা বৃহত্তর জনসংখ্যার মানুষকে দূরে সরিয়ে রেখে নিজেদের
সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ অবস্থানে ধরে রাখতে চায়? সম্ভবত এ কারণেই বিশ্বায়ন,
আন্তর্জাতিকতা ইত্যাদি অজুহাত খাড়া করে তারা সাবেক শাসকগোষ্ঠীর ভাষাকে
ব্যবহারিক ক্ষেত্রে মাতৃভাষার আসনে বসিয়ে একুশের ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার
বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাইরের বাঙালিয়ানার ঠাট বজায়
রেখে পাশ্চাত্যের অপসংস্কৃতির দিকটাই বিনোদনের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করছে,
অন্তত প্রবণতা তেমনটাই।
যেমন সীমিত পরিসরে একইভাবে বিনোদন হিন্দি
অপসংস্কৃতির আগ্রাসন, যা মূলত ওই পশ্চিমা অনুকরণ বৈ কিছু নয়। কিন্তু
নৃবিজ্ঞান-সমাজবিজ্ঞানের ভাষ্য মেনে এবং ভাষিক ও রাষ্ট্রিক স্বাধীনতার কথা
ভেবে আমরা যদি যুক্তিবাদী হই, তাহলে স্বীকার করতে হয় যে, মাতৃভাষার
সর্বাঙ্গীণ ব্যবহারের মাধ্যমেই একটি ভাষিক জনগোষ্ঠী তথা জাতি ও
জাতিরাষ্ট্রের সমৃদ্ধি সম্ভব। সম্ভব মাতৃভাষার মাধ্যমে জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার
ব্যাপক প্রসার ঘটিয়ে এবং ক্রমে তা জনস্তরে সর্বত্র পৌঁছে দিয়ে। শিক্ষার
প্রাতিষ্ঠানিক রূপটা অবশ্যই হতে হবে মাতৃভাষায়- যে ভাষার ব্যবহারিক শেকড়
তৃণমূল স্তর পর্যন্ত স্বাভাবিক নিয়মে বিস্তৃত। আর সেজন্যই আন্তর্জাতিক
প্রয়োজনে একশ্রেণীর বাঙালিকে যেমন দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি বা তৃতীয়
ভাষা হিসেবে অন্য যে কোনো ভাষা শিখতে হবে, তেমনি জাতীয় প্রয়োজনে শিক্ষার
সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত মাতৃভাষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে এর কোনো বিকল্প
নেই। তাতে জাতীয়তা, আন্তর্জাতিকতা দুই-ই রক্ষা পাবে। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও
ইংরেজি প্রসঙ্গে একটি বাস্তব তথ্য আমাদের মনে রাখা দরকার। শিক্ষা বা
জীবিকা যে কোনো প্রয়োজনেই হোক, অভিজ্ঞতা আমাদের বলে, শিক্ষার্থী বা
জীবিকান্বেষীরা বিদেশে গিয়ে অনায়াসে সে দেশের ভাষা শিখে নিয়ে শিক্ষার পাট
ভালোভাবেই শেষ করে, কিংবা চালিয়ে যায় জীবিকার কাজ। জাপান, চীন, রাশিয়া,
ফ্রান্স, জার্মানি ইত্যাদি দেশের উদাহরণ থেকে এমন কথা বলা যায়। প্রসঙ্গত
আরও একটি কথা- উল্লিখিত এসব দেশে ইংরেজির প্রচলন নেই, তাই
ইংরেজি-শিক্ষিতকেও ওই সব দেশের ভাষা শিখে নিতে হয়। তাহলে ইংরেজি নিয়ে কেন
এত মোহ,
সে কি সাবেক ‘রাজভাষা’ বলে? বর্তমানে আমাদের সমাজে ভাষিক
পরিস্থিতির বিচারে বলতে হয়, ভাষিক জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ তাহলে নতুন করে
ইংরেজি ভাষার সামাজিক-সাংস্কৃতিক উপনিবেশে পরিণত হতে যাচ্ছে? পাকিস্তান
আমলের উর্দুর পরিবর্তে রাষ্ট্রভাষা, ব্যবহারিক ভাষা হিসেবে ইংরেজি?
বাংলাদেশ তো আফ্রিকার দুর্বল জাতীয় ভাষার কোনো রাষ্ট্র নয় যে তাকে একদা
শাসক-রাজের ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বাস্তবে তেমনটাই
ঘটছে। আর সেক্ষেত্রে সমাজতাত্ত্বিক সত্যকে অস্বীকার করা হবে। কারণ বাংলা
কোনো মৃত ভাষা নয়, বরং যথেষ্ট উন্নত, আধুনিক ভাষা। তাই বলতে হয়, এ ধরনের
প্রবণতা একুশের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী, বৃহত্তর বাঙালি
জনসংখ্যার স্বার্থবিরোধী। তাই বিরাজমান এমন প্রবণতার বিরুদ্ধে নতুন করে
দাঁড়াতে হবে, প্রয়োজনে লড়াইয়ে নামতে হবে। একসময়কার যে লড়াই শ্রেণীস্বার্থের
বৃত্তে আবদ্ধ থাকায় অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। যুক্তিসঙ্গত কারণে জাতীয়
স্বার্থেই পেছনে ফেলে আসা ভাষিক জাতি-চেতনার দোরগোড়ায় ফিরে যাওয়া অপরিহার্য
হয়ে উঠেছে। অনেকবার বলা একটি কথার উচ্চারণও আজ জরুরি হয়ে পড়েছে, সে কথা হল
: ‘দরকার আরেকটি ভাষা আন্দোলন’, ‘দরকার আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ-’ যে লড়াই
আমাদের জাতিসত্তার সর্বাঙ্গীণ বিকাশে সাহায্য করবে। কিন্তু কীভাবে তা
সম্ভব? পাক আমলে শত্রু ছিল আমাদের জনগোষ্ঠীর বাইরে, বলা যায় বিজাতীয়,
লড়াইটা তখন অপেক্ষাকৃত সহজ ছিল। এখন তো শত্রু ঘরের ভেতরে, একই ভাষিক সমাজে।
আর সেখানেই যত সমস্যা। তবু ভাষার জন্য, জাতীয়তার জন্য লড়াইটা তো শুরু
করতেই হবে।
আহমদ রফিক: ভাষা সংগ্রামী, লেখক
আহমদ রফিক: ভাষা সংগ্রামী, লেখক

No comments:
Post a Comment