‘এক
চীন নীতি’ ইস্যুতে চীনের কাছে নতিস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার রাতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি
জিনপিংকে ফোন করে এক চীন নীতির বিষয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে আসার
প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউস জানায়, দু’নেতার মধ্যে ফোনালাপ ছিল
‘অত্যন্ত আন্তরিকপূর্ণ’। জিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প ‘এক চীন নীতি’র
প্রতি সম্মান জানাতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। খবর
বিবিসি, সিএনএনের। সিএনএনের খবরে বলা হয়, নভেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ের পর
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিভিন্ন ইস্যুতে বেইজিংকে চ্যালেঞ্জ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিগত বেশ কয়েকটি সরকার এক চীন নীতি অনুসরণ করলেও নির্বাচনে
জয়লাভ করার পর থেকেই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন ট্রাম্প। চীন সরকারের এক চীন
নীতি অনুযায়ী তাইওয়ানকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা না করে চীনের একটি
বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত বছরের ৮ নভেম্বর নির্বাচনের পর
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে ফোনালাপ করে বিতর্কের জন্ম দেন
ট্রাম্প। এটা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চীন। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রধান
সামরিক মিত্র। তবুও প্রায় কয়েক দশক ধরে প্রটোকল ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো
প্রেসিডেন্ট বা নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা
বলেননি। পরে এক সাক্ষাৎকারে ‘যুক্তরাষ্ট্র এক চীন নীতি মানতে বাধ্য নয়’ বলে
মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এ ছাড়া ‘এক চীন’ নীতি নিয়ে তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে
আলোচনা করতে চান বলেও জানান। এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে
বেইজিং সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, ‘এক চীন’ নীতি নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি নন তারা।
এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই ট্রাম্প চীনের বাণিজ্য নীতি এবং
দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়ে
আসছিলেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বৃহস্পতিবার রাতে
দুই নেতা দীর্ঘ সময় ধরে আলাপ করেছেন এবং তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে
বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দুই নেতার ফোনালাপ অত্যন্ত আন্তরিক ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন ইস্যুতে
সমঝোতা ও আলোচনায় যুক্ত থাকবেন। দুই নেতা একে অপরকে নিজ দেশ সফরের
আমন্ত্রণও জানান। এ ছাড়া এ ইস্যুতে পরবর্তীতে আরও আলোচনা হবে বলেও সম্মত
হয়েছেন তারা। এর আগে বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্টকে চিঠি পাঠিয়ে
সম্পর্কের বরফ ভাঙায় প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। জবাবে বেইজিংয়ের
পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে ফোনালাপ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের
তিক্ততা সৃষ্টির জন্য দায়ী ট্রাম্প। এজন্য সম্পর্ক উন্নয়নের প্রথম
প্রচেষ্টাটা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এলো বলে জানিয়েছে বিবিসি। দক্ষিণ চীন
সাগরে মুখোমুখি চীন ও মার্কিন জঙ্গিবিমান : দক্ষিণ চীন সাগরে চলতি সপ্তাহে
‘বিপজ্জনক’ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের জঙ্গিবিমান।
শুক্রবার মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, একটি চীনা
জঙ্গিবিমান ‘বিপজ্জনকভাবে’ বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের টহলরত জঙ্গিবিমানের খুব
কাছাকাছি চলে আসে। মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ডের মুখপাত্র রবার্ট শুফোর্ড
জানান, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির একটি কেজে-২০০ জঙ্গিবিমান দক্ষিণ চীন
সাগরের ওপর আন্তর্জাতিক আকাশসীমানায় টহলরত মার্কিন নৌবাহিনীর পি-৩সি
বিমানের খুব কাছাকাছি চলে আসে। তবে এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি
বেইজিং। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, দক্ষিণ চীন সাগরে স্কারবোরাগ শোলের কাছে
দুই দেশের বিমান প্রায় এক হাজার ফুট কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থান করছিল।
শুফোর্ড বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই রুটিন মিশনের অংশ হিসেবেই
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানটি টহল দিচ্ছিল।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment